তালায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ : হলুদ চাষে আগ্রহী কৃষকরা


180 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ : হলুদ চাষে আগ্রহী কৃষকরা
মার্চ ২২, ২০২১ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::

বিয়ে বাড়িতেও হলুদ, রান্নাঘরে হলুদ। হলুদ মিশে আছে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সাজগোজের সংস্কৃতিতে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও হলুদ চাষ লাভজনক। এ কারণে সাতক্ষীরা জেলা তালা উপজেলার অনেক চাষি বাণিজ্যিকভিত্তিতে হলুদ চাষ করে সফল হচ্ছেন। বিশেষত পতিত জমিতে হলুদ চাষ করে ভাগ্য ফিরিয়েছেন অনেকে। চলতি মৌসুমে তালায় হলুদের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় উৎপাদিত হলুদের ফলন হয়েছে বেশ। মাঠে কৃষকরা হলুদ ওঠাতে ব্যস্ত এখন। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা কাঁচা হলুদ কিনে চাতালে সিদ্ধ করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে শুরু করেছেন অনেকে। এছাড়াও বাইরের জেলাগুলোয় হচ্ছে হলুদ সরবরাহ।
বিশেষ করে সমন্বিত পদ্ধতিতে হলুদ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এলাকার বেশিরভাগ হাট-বাজারে এখন হলুদ বেচা-কেনা চলছে। বর্তমানে হলুদ থেকে গুড়া উৎপাদন করতে শত শত শ্রমিক এ পেশায় আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।উৎপাদন খরচের চেয়ে দাম বেশি পাওয়াতে কৃষকরা হলুদ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
প্রকাশ, এক সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এএলাকায় হলুদ কিনতে আসত। কিন্তু জলাবদ্ধতা, জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও হলুদের দাম কমে যাওয়াতে হলুদ চাষিরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ফলে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেয় হলুদ চাষে। টানা দুই যুগের মত চরম মন্দা যায় হলুদ চাষে। তবে জলাবদ্ধতা কমে যাওয়ায় এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন ও হলুদের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে এবছর হলুদের আবাদ বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তালা উপজেলায় ৩৩০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৫০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেতে হলুদ তোলা শেষ পর্যায়ে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ২৬০০ মেট্রিকটন (শুকনা) ও প্রায় ১০ হাজার মেট্রিকটন (কাচা) উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে।
তালা উপজেলার সদরের হাফিজুর সরদার জানান,দীর্ঘদিন ধরে তিনি হলুদ আবাদ করে আসছেন। তবে কয়েক বছর ধরে পণ্যটির আবাদ কমিয়ে ফেলেছেন। জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আর উৎপাদন হয় না। ফলে হলুদ আবাদ করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে কৃষকদের। এ কারণেই তিনিসহ বেশির ভাগ কৃষক হলুদ আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এবছর চাষিরা হলুদ চাষে আগ্রহ দেখায় বলে জানান তিনি।
এছাড়া মাঝিয়াড়া গ্রামের মেহেদী হাসান স্বাক্ষর,গোপালপুর গ্রামের আমিনুর ইসলামসহ উপজেলার কয়েকজন চাষি জানান, হলুদ চাষ করে তারা বেশ লাভবান হয়েছেন। বিশেষ করে সমন্বিত চাষের মাধ্যমে একই জমিতে হলুদের সাথে কয়েক ধরণের সবজির চাষ করা যায়। বিশেষ করে হলুদের সাথে ঝাল গাছ, বেগুন চাষ, মেটে আলু, ওলের চাকি চাষ করছে অনেকেই। হলুদের সাথে এ সকল ফসল অতিদ্রুত ফলানো যায়। এতে ওই কৃষকের নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। এ বছর শুকনো হলুদের দাম বেশি থাকায় হলুদ বিক্রিতে গতবারের চেয়ে বাজার ভালো পাবেন বলে আশা করছেন চাষিরা।তবে বিভিন্ন বাজারে হলুদের গুড়ার দাম নিয়ে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। খুচরা বাজারে দুইশত টাকা কেজি প্রতি হলুদের গুড়া বিক্রি হচ্ছে অন্যদিকে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, হলুদ বেশ লাভজনক ফসল হলেও উপকূলীয় জেলা হওয়ার কিছু আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ও জলাবদ্ধতার কারণে হলুদের আবাদ কমে গিয়েছিল। যে কারণে কিছু এলাকার চাষিরা হলুদ আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে জলাবদ্ধতা কমে যাওয়ায় ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে তারা হলুদ চাষে ঝুঁকেছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন জানান, হলুদ বেশ লাভজনক ফসল। অত্র উপজেলায় হলুদ উৎপাদন ও ফলন ভালো হয়। হেক্টর প্রতি ১৬ থেকে ১৭ টন (কাচা) হলুদ উৎপাদন হয়ে থাকে। এলাকার কৃষকদের হলুদ আবাদের ক্ষেত্রে অত্র অফিস থেকে সবসময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। যার ফলে এ বছর হলুদের আবাদ বেড়েছে।