তালা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আলী অসুস্থ, সুস্থতা কামনা


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আলী অসুস্থ, সুস্থতা কামনা
জুলাই ২৭, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নিভৃত পল্লী তালার খলিলনগর ইউনিয়নের দাশকাটি গ্রাম। এই গ্রাম থেকে উঠে

আসা হাজারো মানুষের ভালবাসা আর শ্রদ্ধার মানুষটি আজ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। ৮৯ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে দীর্ঘ ৩৬ বছর ইউপি চেয়ারম্যান, ৫ বছর উপজেলা পরিষরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে মিশেছেন আপন মানুষের মত। খলিলনগর ইউনিয়নের মানুষের এক সময়ের নির্ভেজাল ভরসাস্থল ছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষের সুখ-ুঃখের একান্ত সাথী হিসেবে দীর্ঘসময় মানুষের অন্তরে বসবাস করা এই মানুষটি আজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে খুলনার গাজী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অত্যন্ত সাামাটা জীবনযাপন আর প্রচারবিমুখ মানসিকতার মানুষটি হচ্ছেন জিএম আব্দুল আলী। তালা উপজেলার তেতুঁলিয়া ইউনিয়নের কলিয়া গ্রামের মাতুলালয়ে তিনি ১৯৩১ সালের ১৩ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। এরপর জীবনের পুরোটা সময় কাটিয়েছেন একই উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের দাশকাটি গ্রামের পিত্রালয়ে। তার সবকিছুই এই গ্রামকেন্দ্রিক। গ্রামকে তিনি মায়ের মত ভালবেসে, এই গ্রামে থেকেই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করে আজীবন নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।

আজ তিনি ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, অসুস্থ, বিায় বেলার মুখোমুখি। অসুস্থতার সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেছেন। কথাও বলতে পারছেন না, ডাকলে অনেকক্ষণ পরে সাড়া দিচ্ছেন। তার সাথে কারা আছেন, তাও তিনি বুঝতে পারছেন না। জীবনে বেশিরভাগ সময় হাজারো মানুষের জীবনের সাথে মিশে থাকা এই মানুষটি আজ চিকিৎসালয়ের চার দেওয়ালের মধ্যে একটি বেডে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। বড় ছেলে অবসরপ্রাপ্ত বীমা কর্মকর্তা জিএম সাঈদুর রহমান মুকুল তার সাে আছেন, সূুর প্রবাস সৌীতে একটি সরকারি হাসপাতালে ছোট ছেলে জিএম মুস্তাফিজুর রহমান বিপু চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত, সৌদীর অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুত্রবধুও একই পেশায় নিয়েজিত। একমাত্র কন্যা তাহমিনা রহমান রীতাসহ পরিবারের সবার প্রত্যাশা তাদের অভিভাবক আরও কিছু সময় পৃথিবীতে বেচেঁ থাকুক। ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও কয়েকবারের সভাপতির দায়িত্বপালনের মাধ্যমে তিনি চেয়েছিলেন এই জনপরে মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে। এছাড়া আখড়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাশকাটি ইমাদুল উলুম মাদ্রাসা, গঙ্গারামপুর-ঘোষনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ অসংখ্যা সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তার অসামান্য অবদান আছে। খলিলনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক প্রণব ঘোষ বাবলু বলেন, খলিলনগর ইউনিয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ সময় এই ইউনিয়নের মানুষের অভিভাবকত্ব করেছেন। তার স্নেহধন্য হতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের। সৌীতে কর্মরত তার ছোটপুত্র জিএম মুস্তাফিজুর রহমান বিপু তার বাবার জন্য দোয়া চেয়ে বলেছেন। একই জনপদের মানুষ সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গাজী মোমিন উদ্দীন তার সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার অসংখ্য গুণের কথা ব্যক্ত করে বলেন, খলিলনগরের মত একটি অজপাড়াগায়ে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা না করলে আজ হয়তো শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে খলিলনগর এতবেশি অগ্রসর হতে পারতো না, তার এ অবদান অসামান্য।

খলিলনগর গ্রামের গোলদার মিজানুর রহমান জানান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি তিনি ছিলেন একজন প্রচারবিমুখ ও নির্লোভ মানুষ। জিএম আব্দুল আলীর প্রতিবেশী খোরশেদ বিশ্বাস তার নিরহঙ্কারী মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কানাইদিয়ার মানুষ দৌলতপুর দিবা-নৈশ কলেজের শিক্ষক মনিরুল হক মিতু জানায়, তার মত মানুষ কালে-ভদ্রে জন্মায়। তার সাথে থাকা অত্র ইউনিয়নের নলতা গ্রামের ইলিয়াস হোসেন তার শারীরিক অবস্থা ভাল নয় জানিয়ে বলেন, সব শ্রেণির মানুষকে একই চোখে দেখা, খোঁজখবর নেওয়ার যে অসাধারণ ক্ষমতা তার ছিল, তা সাধারণত বিরল। খলিলনগর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সালাউদ্দীন মালীর বক্তব্য, খলিলনগর ইউনিয়নের গুণীজনের তালিকার শীর্ষে থাকা এই মানুষটির জন্য প্রাণভর দোয়া, যেন দ্রুত সুস্থ হন।

খলিলনগর ইউনিয়নবাসীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত বর্ষিয়ান রাজনীতিক ও জনসেবক জিএম আব্দুল আলী সুস্থ হয়ে উঠবেন, এমন প্রত্যাশা সবার।