তালা উপজেলা মৎস্য অফিসারের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ


347 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালা উপজেলা মৎস্য অফিসারের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ
জানুয়ারি ২৯, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

তালা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নির্মল কুমার ঘোষ’র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির নানান অভিযোগ উঠেছে। তিনি তালা উপজেলায় যোগদানের পর থেকে অর্থনৈতিক ও দাপ্তরিক নানান অনিয়ম সহ জনসাধারনের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করেন বলে জানাগেছে। এতে মৎস্য অফিসে সেবা নিতে আসা মৎস্য চাষী ও ডিপো মালিকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে।
জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসের দিকে নির্মল কুমার ঘোষ ভারপ্রাপ্ত মৎস্য অফিসার হিসেবে তালায় যোগদান করেন। তাঁর বাড়ি তালা উপজেলায় হওয়ায় তিনি প্রভাব বিস্তার করে ইচ্ছেমতো অফিসে আসা যাওয়া করেন। উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স থেকে মৎস্য অফিসটি সরিয়ে নিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে বারুইহাটি গ্রামে বিলের মধ্যে গ্রামীন মৎস্য খামারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে এখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদের নজরদারী কম হয়। এই সুযোগে মৎস্য অফিসার ইচ্ছেমতো অফিসে আসা যাওয়া করেন। তাছাড়া উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা মৎস্য চাষী, ব্যবসায়ী বা ডিপো মালিকদের উপজেলা পরিষদ থেকে ১ কিলোমিটার দুরে সেবা নিতে যেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আবার এতো দুরে যেয়েও যখন অফিসারকে পাননা তখন তাদের হয়রানীর শেষ থাকেনা! সেবা গ্রহিতাদের দাবী অবিলম্বে মৎস্য অফিসের কার্যক্রম পুনরায় উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হোক।
এদিকে উপজেলা মৎস্য অফিসার নির্মল কুমার ঘোষ’র বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচী পালনে ঘের মালিক, ডিপো মালিক ও মাছ ব্যবাসায়ীদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা তুলে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এরসাথে মৎস্য ঘের ও ডিপোর লাইসেন্স প্রদানের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মাছচাষীদের পুকুরে যেয়ে মাঠ দিবস করার জন্য সরকারি নির্দেশনা থাকলেও কয়েকটি ইউনিয়নে যেয়ে নামমাত্র মাঠ দিবস পালন করে টাকা আত্মসাৎ করা, অফিসে সরকারি ভাবে বিভিন্ন খাতে আসা বরাদ্দ থেকে টাকা আত্মসাৎ করা, মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে বিনামূলে মাছের পোনা অবমুক্ত করার সময় মাছের পোনা পরিমানে কম অবমুক্ত করা সহ কমদামের মাছের পোনা সরবারহ করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। মৎস্য অফিসারের এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিবাদ করলেই প্রতিবাদকারীদের নানানভাবে হয়রানী করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দূর্নীতির নানান অভিযোগগুলো তদন্ত পূর্বক আশু ব্যবস্থা নেবার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে দূর্নীতির এই বিষয়গুলো অস্বীকার করে মৎস্য অফিসার নির্মল কুমার ঘোষ বলেন, “একটি মহল তাদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে আামার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করছে।”

#