তালা সংবাদ ॥ তালা সদর মডেল ইউনিয়নে এসডিএফ’র প্রকল্প অবহিতকরন কর্মশালা


452 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালা সংবাদ ॥ তালা সদর মডেল ইউনিয়নে এসডিএফ’র প্রকল্প অবহিতকরন কর্মশালা
মার্চ ১, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা :
সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর উদ্যোগে তালা সদর মডেল ইউনিয়নে প্রকল্প অবহিতকরন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে তালা সদর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, এসডিএফ এর তালা ক্লাস্টার অফিসার মোহাম্মাদ আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, তালা সদর মডেল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস. এম. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, সাতক্ষীরা জেলা অফিসার অসিম কুমার সাহা, মঞ্জুরুল ইসরাম প্রধান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে ইউপি সচিব রেহেনা খাতুন, এসডিএফ’র অফিসার পঙ্কজ কবিরাজ, উম্মে সালমা, মেহেবুব হাসান সহ সকল ইউপি সদস্য, সদস্যা, গ্রাম পুলিশ, তথ্য উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, সরকারের অর্থ মন্ত্রনালয় ও বিশ্বব্যাংক এর অংশিদারিত্বে “নারীর ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র বিমোচন” করার লক্ষ্যে তালা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে এসডিএফ কার্যক্রম পরিচলনা করছে। এসডিএফ এর নূতন জীবন লাইভ্লিহুড ইমপ্র“ভমেন্ট প্রজেক্ট (এনজেএলআইপি) এর আওততায় কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে। উল্লে¬¬খ্য, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারকে অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি সহযোগীতা প্রদান এবং সুবিধা বঞ্চিত দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকায়ন ও জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন ও টেকসই গ্রাম সংগঠন তৈরির মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাািজক উন্নয়ন সাধন করার লক্ষ্যে, বিশ্ব ব্যাংক’র অংশিদারিত্বে এসডিএফ ৬ বছর (জুলাই ১৫-জুন-২১) মেয়াদি ১ হাজার ৭২০ কোটি টাকার এর প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
###

তালার চলশের বিল এলাকা পরিদর্শনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা (সাতক্ষীরা)
তালার বহুল আলোচিত চলশের বিলের মৎস্য ঘের অবৈধ দখল রাখার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিল এলাকা পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদাছছের। মঙ্গলবার বিকালে তিনি বিল সংলগ্ন গ্রাম ও আলোচিত বিলটি পরিদর্শন করেন। একই সাথে তিনি বিলের জমি মালিক এবং এলাকার সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে বিলে মৎস্য ঘের করার জন্য কোন পক্ষ জনসমর্থিত সে বিষয়ে মতামত গ্রহন করেন। এসময় তালা তানার ওসি মো. সগির মিঞা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. কেসমক আলী, সাংবাদিক এম. একরামুল হক আসাদ, আ.লীগ নেতা ডা. মতিয়ার রহমান সহ ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চলশের বিলের মৎস্য ঘেরের বিষয়ে তদন্তকালে হাজার হাজার মানুষ ঘেরের অবৈধ দখলদার কেশবপুরের সুফলাকাঠি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুলের পোষ্য দূর্বৃত্ত জাহিদ, মহব্ব গংদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী সহ সচেতন মহল এসময় অবৈধ দখলদার মঞ্জুরুল বাহিনীর কবল থেকে বিল ও জমি মালিকদের রক্ষা করে ঘের ব্যবসায়ী ও বিলের বৈধ ডিড মালিক মোস্তাক আহম্মেদকে ঘেরের শান্তিপূর্ন দখল দেবার জন্য জন্য পুলিশ সুপারের নিকট দাবী করেন। এসময় বিলের অবৈধ দখল বজায় রাখতে জাহিদ ও মহব্বত গং ভাড়াটিয়া লোক এনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সামনে ঢালাও স্বাক্ষ দেবার চেষ্টাকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ভাড়াটিয়াদের উপর চড়াও হয়। এনিয়ে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। চলশের বিল এলাকা পরিদর্শন শেষে- অচিরেই আবার ঘের সংক্রান্ত উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত হবে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর মোদাছছের জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমি আয়তনের উপজেলার ইসলামকাটী চলশের বিলকে জলাবদ্ধতমুক্ত রাখতে জমি মালিকরা ২০১২ সালে ৪ বছর মেয়াদে জনৈক শহিদুল ইসলাম’র সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। এর ১ বছর পর শর্ত লংঘন করে শহিদুলের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিল নিয়ে কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম মাছ চাষ করে। এসময় মঞ্জুরুল চেয়ারম্যানের ম্যানেজার জাহিদ ও মহব্বতের নেতৃত্বে বিল এলাকায় সন্ত্রাসী রামরাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া জমি মালিকদের শর্তানুযায়ী হারির টাকা না দেয়া, যথাসময়ে বিল থেকে পানি নিস্কাশন না করে বোরো আবাদ ক্ষতি সাধন করাসহ নানাবিধ অনিয়ম এর অভিযোগ এখনও অব্যাহত রয়েছে। যে কারনে অধিকাংশ জমির মালিকরা বিশিষ্ট ঘের ব্যাবসায়ী মো. মোস্তাক আহম্মদকে বিধি মোতাবেক ঘের রেজিষ্ট্রি ডিড (দলিল নং : ২০৩, তাং : ১১.০১.১৬) করে দেন। এরপর থেকে মঞ্জুরুল’র পোষ্য জাহিদ, মহব্বত বাহিনী উক্ত বিলে জোর দখল থাকার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। অবৈধ ও তথাকথিত ডিড’র মেয়াদ শেষ হবার পরও তারা এখনও ঘেরের দখল ছাড়েনি। এনিয়ে প্রতিবাদ করায় দূর্বৃত্তরা জমি মালিকদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে এবাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাহিদ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে বিল সংলগ্ন ১০ গ্রামের মানুষ! মঞ্জুরুল, জাহিদ বাহিনীর জোরপূর্বক ঘের দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ সহ জীবনাশের আংশকা করেছে জমি মালিকরা। এসব বিষয় নিয়ে একাধিকবার পত্রিকায় বস্তনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ হওয়া হয় এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করে শান্তি প্রিয় জমি মালিকরা। কিন্তু মাঝে মাঝে প্রশাসনের ভূমিকা বিতর্কীত হিসেবে প্রকাশ পায়। এব্যপারে বিলের জমি মালিক অ্যাড. কেসমত আলী, সাংবাদিক এম. একরামুল হক আসাদ. ডা. মতিয়ার রহমান সহ একাধিক জমি মালিকদের অভিযোগ, কালো টাকার প্রভাব খাটিয়ে জামায়াত নেতা মঞ্জুরুল ও তার পোষ্য বাহিনী প্রশাসন এবং জমি মালিকদের জিম্মি করার চেষ্টা করছে। এজন্য তারা বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার সহ কতিপয় ব্যক্তিকে ভাড়া করে তাদের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বর্তমানে নাশকতা সৃষ্টিকারী দূূর্বৃত্তদের দিয়ে জাহিদ গং ঘের জোর দখল নেয়ার চেষ্টা করলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় জমি মালিকদের মাঝে দিন দিন ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

###