তালা সংবাদ ॥ পাওনা টাকা চাওয়ায় ওষুধের দোকান ভাংচুর


508 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালা সংবাদ ॥ পাওনা টাকা চাওয়ায় ওষুধের দোকান ভাংচুর
মে ২৪, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

তালা প্রতিনিধি:
পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তালার শাহাপুর বাজারে মনিরুল ইসলাম এর ওষুধের দোকান ভাংচুর সহ লুটপাট করা হয়েছে। সোমবার রাতে এলাকার আক্তারুল এর নেতৃত্বে দূর্বৃত্তরা এই ভাংচুর সহ লুটপাট করে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১ বৈশাখ সকালে আগোলঝাড়া-ভায়ড়া এলাকার তালা-ডাঙ্গানলতা সড়কে আক্তারুল বিশ^াসের মটরসাইকেল চাঁপায় একটি খাসি ছাগল মারা যায়। এঘটনার পর ছাগল মালিক আবু তালেব ক্ষতিপূরন দাবীতে আক্তারুলকে আটকিয়ে রাখে। পরে ওষুধ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম টাকার জামিন নিয়ে আক্তারুলকে মুক্ত করে আনেন।

কিন্তু আক্তারুল দীর্ঘদিনেও ক্ষতিপূরনের টাকা না দেয়ায় ছাগল মালিক আবু তালেব বিশ^াস ওষুধ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের নিকট টাকার তাগেদা করতে থাকে। এনিয়ে সোমবার রাতে শাহাপুর-ভায়ড়া বাজারে শালিস সভার মাধ্যমে মনিরুল আক্তারুলের নিকট ক্ষতিপূরনের ৮ হাজার টাকা দাবী করে। এতে ক্ষিপ্ত্ হয়ে আক্তারুলের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের দূর্বৃত্তরা মনিরুলের ওষুধের দোকান বিসমিল্লাহ ফার্মেসী সহ দোকানের আসবাবপত্র কম্পিউটার ও টেলিভিশন ভাংচুর করে। দূর্বৃত্তরা দোকান ভাংচুর সহ দোকান থেকে নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলেও দোকান মালিক মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন। এঘটনায় তালা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

###

তালার হাজরাকাটী মৌজায় আপীল কার্যক্রম জনস্বার্থে বন্ধের দাবীতে গণ আবেদন

তালা প্রতিনিধি
এলাকার দরিদ্র, হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও আপামর জনগনের স্বার্থ রক্ষার্থে পুনরায় মাঠ জরিপ কাজ শেষ করে উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটী মৌজার ৩১ ধারার আপীল কার্যক্রম সঠিক ভাবে সম্পন্ন করার জন্য জোর দাবী উঠেছে। জনগুরুত্বপূর্ন এই দাবী উপেক্ষা করে ৩১ ধারার কার্যক্রম সম্পন্ন করলে এলাকার সর্বশ্রেণির শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য হাজরাকাটী মৌজার চলমান ৩১ ধারার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করে নতুন করে মাঠ জরিপ করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির ৩২৭জন ভূমি মালিক ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, ভূমি মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব, খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার ও তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে উক্ত আবেদন করেছেন। আবেদনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু, তালার ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলঅউদ্দীন জোয়াদ্দার, স্থানীয় আ.লীগ সভাপতি সরদার ইমান আলী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কোহিনুর ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি সুপারিশ করেছেন।

আবেদন সূত্রে জানাগেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের ১৪৫ নং হাজরাকাটী মৌজার ৩১ ধারার আপীল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তুবন্যা কবিলত অত্র মৌজার অধিকাংশ ভূমি মালিক দরিদ্র, হতদরিদ্র, ভূমিহীন হওয়ায় তারা দেশের বিভিন্ন এলাকার ইট ভাটা সহ বিভিন্ন কায়িক পরিশ্রম করে জীবীকা নির্বাহ করে। যে কারনে এই মূহুর্তে ওই সকল শ্রমিকদের এলাকায় ফিরে এসে সেটেলমেন্ট অফিসের ৩১ ধারার আপীল কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করা সম্ভব হবে না। ফলে জমি মালিকরা ভূল রেকর্ড বা হয়রানীর শিকার হবে। এছাড়া সেটেলমেন্ট অফিসের আলোচিত অফিসার গাজী মনিরুজ্জামানের দূর্নীতির শিকার হয়ে এই সকল দরিদ্র মানুষগুলো তাদের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।
হাজরাকাটী গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কোহিনুর ইসলাম জানান, হাজরাকাটী মৌজার প্রায় ১৫০ একর খাস জমি ভূমিদস্যুরা দূর্নীতির মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে জোর দখলে নিয়েছে। এতে স্থানীয় তহশীলদার কোন বাঁধা দেয়নি এবং এবিষয়ে কোনও মামলা দায়ের করেননি। যে কারনে ভূমীহিনরা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া সহ সরকার বাহাদুর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া উক্ত মৌজার ২টি ভলিয়াম বই চুরি হওয়ার দীর্ঘদিন পর তা রহস্যজনক ভাবে উদ্ধার হয়। পরে ওই বই দুটিতে ব্যপক ভাবে কাটাকাটি ও ঘোষামাজা করে নাম পরিবর্তন সহ রেকর্ড পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এইসকল কাটাকাটি বা ঘষামাজা সংশোধন না করে উক্ত ভলিয়াম দিয়েই ৩১ ধারার আপীল কার্যক্রম শুরু করেছে। যে কারনে উক্ত মৌজার প্রকৃত জমি মালিকরা জমি হারাবার আশংকায় রয়েছে। আবেদনকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, হাজরাকাটী মৌজার মাঠ জরিপের সময় আমিন জমির সিমানা নির্ধারনে ভূল করায় জমির সীট পরিবর্তন হওয়ায় অনেক ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমিনের এই ভূল এখনও সংশোধন না করেই ৩১ ধারার আপীল শুনানী শুরু করায় ভবিষ্যতে এলাকায় জমির দখল নিয়ে মানুষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা তৈরি হয়েছে। যে কারনে হাজরাকাটী মৌজার অধিকাংশ জমি মালিকরা সরকার বাহাদুর, দরিদ্র-ভূমিহীন, জনস্বার্থ রক্ষা ও সুষ্ঠভাবে ৩১ ধারার আপীল কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবীতে সংশ্লিষ্ঠ মৌজার চলমান আপীল কার্যক্রম বন্ধের আবেদন করেছেন।###