তালা সংবাদ ॥ শিবির নেতা খোরশেদ আটক : অস্ত্র উদ্ধার


403 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালা সংবাদ ॥ শিবির নেতা খোরশেদ আটক : অস্ত্র উদ্ধার
সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

তালা প্রতিনিধি ::
অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মো. খোরশেদ আলমকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার হয়েছে। তালা থানার ওসি মেহেদী মেহেদী রাসেল ও ওসি (তদন্ত) কাজী শহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে পুলিশের এক অভিযানে রোববার রাতে সে গ্রেফতার হয়। মো. খোরশেদ আলম তালার সুজনশাহা গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান এর ছেলে।
তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে ইসলামকাটী যাত্রি ছাউনির পাশের খালপাড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখান থেকে ইসলামী ছাত্র শিবির এর তালা থানার সাবেক সভাপতি এবং সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাবেক সেক্রেটারী ও পরবর্তীতে সভাপতি মো. খোরশেদ আলম (৩৩)কে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি ১টি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় তার বিরুদ্ধে তালা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা (নং-০১/১৮) রুজু করা হয়েছে। সোমবার ধৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এদিকে, রোববার দুপুর ৩টার দিকে সুজনশাহা গ্রামের বাড়ি থেকে খোরশেদ আলমকে তালা থানা পুলিশ গ্রেফতার করে বলে তার পরিবার দাবী করেছে।

##

সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড : পাকা বাড়ি করেছেন ওয়ারেশ হাজী
তালা প্রতিনিধি ::
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাধবকাটি মৌজায় অর্পিত সম্পত্তির জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাতের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সহযোগিতায় জরিপ বিভাগের কর্মকর্তারা ১ একর ৪৪ শতক জমি ওয়ারেশ হাজীর নামে রেকর্ড করে দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভিপি ইজারাদার আতিয়ার রহমান সানাকে বকেয়া পাওনা আদায়ের নোটিশ দিলে বিষয়টি সামনে চলে আসে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নোটিশ থেকে জানা যায়, সদর উপজেলার মাধবকাটি মৌজায় ২৩২ নম্বর খতিয়ানে ১৬১ দাগে এবং ২৯৪ নম্বর খতিয়ানে ১৬২ দাগে মোট ১ একর ৪৪ শতক অর্পিত সম্পত্তি বা জমি আছে। এই জমি সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের আতিয়ার রহমান সানা ১৯৭৭ সাল থেকে ইজারা (ইজারা নম্বর : ১৫০/৭৭-৭৮(সাত)) নিয়ে ভোগ দখল করতে থাকেন।
তিনি ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ইজারার টাকা পরিশোধ করেন। এই জমি থেকে আতিয়ার রহমান সানাকে উচ্ছেদ করার জন্য ইন্দিরার ওয়ারেশের সহযোগিতায় ও পরিকল্পনায় মাধবকাটির উমাপদ পাল ১৯৭৯ সালের ২১ জুলাই তার নামে ডাকাতি মামলা দেন। অন্যদিকে ১৯৮১ সালে খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার উমাপদ পালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার ইজারা স্থগিত করেন। ফলে আতিয়ার রহমান সানা ইজারা গ্রহণকৃত অর্পিত সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত হয়ে যায়। উমাপদ পাল এবং ওয়ারেশ জমি দখল করে নেয়। এরপর থেকে আতিয়ার রহমান সানা আর এই জমিতে ফিরে যেতে পারেনি এবং ইজারাও নবায়ন করেননি। পরে ওয়ারেশ উমাপদ পালকে তাড়িয়ে নিজে ভোগ দখল করতে থাকেন। এমতাবস্থায় চলতি বছরে ৪ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন ইজারা গ্রহীতা আতিয়ার রহমান সানাকে বকেয়া পরিশোধের নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে ১৯৮২ সাল থেকে বাংলা ১৪২৫ সাল পর্যন্ত ইজারার টাকা পরিশোধ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেন, ইজারা অর্থ পরিশোধ করে ইজারা নবায়ন করার বিধান থাকলেও তা না করে সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে ভোগদখল করছেন, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি। আতিয়ার রহমান সানাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে বকেয়াসহ হাল সনের ইজারা নবায়নের জন্য বলা হয়। ব্যর্থতায় ইজারা বাতিল করে সার্টিফিকেট মামলার মাধ্যমে সরকারি পাওনা আদায় করা হবে বলে জানিয়ে দেন।
আতিয়ার রহমান সানা ইজারা নবায়নের জন্য গেলে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তাকে বলেন, এই জমি এখন আর ইজারা দেয়া যাবে না। কারণ এই জমি এখন ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডের সম্পত্তি। এর মালিক ওয়ারেশ হাজী। তিনি আরও বলেন, হাজী সাহেব মাধবকাটি মৌজায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১/১ খতিয়ানের ৪১ দাগের সকল সম্পত্তির ইজারা নিয়েছেন। এর মাটি ও বালি বিক্রি করে পুকুর বানিয়ে মাছের চাষ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে এই প্রতিনিধিসহ কয়েকজন সাংবাদিক সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান, ভিপি ইজারা নম্বর ১৫০/৭৭-৭৮(সাত)-এর জমির ওপর ওয়ারেশ পাকা বাড়ি করে ভোগদখল করছেন। গ্রামবাসীরা বলেন, ওয়ারেশ হাজী কি ভাবে এই সরকারি সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তা তারা জানেন না।
সরেজমিনে গিয়ে আরো দেখা গেছে, মাধবকাটি মৌজার পুরাতন ম্যাপ অনুযায়ী ১২৫, ১২৬, ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮, ১৩৯, ১৪৫, ১৪৬ ও ১৪৮ দাগ এবং নতুন ম্যাপ অনুযায়ী ১৪২, ১৪৪, ১৪৬, ১৬৫, ১৬৬, ১৬৭, ১৭১ ও ১৭২ দাগে আরো ১০ বিঘা সরকারি জমির মাটি ও বালি কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের নৌখালের পাড়, অর্পিত ও খাস জমি। আরও নতুন নতুন এলাকায় মাটি ও বালি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ও বালি বিক্রি হচ্ছে ইট ভাটা ও বসত বাড়ির কাজে। মাটি ও বালি বহনকারী অসংখ্য ট্রলি চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামের ইটের সলিং ও কাঁচা রাস্তা। ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তারা মাটি ও বালি বিক্রির টাকার একটি অংশ পেয়ে থাকে। মাটি ও বালি কাটায় আবু হানিফ, রাখাল দত্ত, কালিপদ মাস্টার, আনন্দ ও শেখ আমজাদের কৃষি জমি ভেঙে চলে যাচ্ছে গর্তে ভেতরে। ভেঙে গেছে রাস্তা।
মাধবকাটির ওয়ারেশ হাজী নাশকতা মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে ১৪৩/ ১৪৭/ ১৪৮/ ১৪৯/ ১৮৬/ ৩২৩/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৩৩২/ ৩৩৩/ ৩৫৩/ ৩৪ পিসি সহ ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ারস এ্যাক্টের ১৬(২)/২৫ঘ ধারায় মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৭১, তারিখ ২৪/০৩/২০১৪। এছাড়া তার ছেলে আবুল বাশারের নামে ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ারস এ্যাক্টের ১৬(২)/২৫ঘ তৎসহ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক উপাদানাবলী আইনের ৩/৬ ধারায় মামলা রয়েছে। মামলা নম্বর ৪৭, তারিখ ১২/০৬/২০১৬। মাটি-বালি বিক্রির লক্ষ লক্ষ টাকা চলে যাচ্ছে জামায়াত শিবিরের তহবিলে। ব্যয় করা হচ্ছে নাশকতা মামলা পরিচালনার কাজে। মাধবকাটির হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারে না।

##