তালা সংবাদ : ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন


461 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালা সংবাদ : ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন
মার্চ ৮, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি.এম. জুলফিকার রায়হান, তালা ::
উপজেলার ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এবং ব্র্যাক এর সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচীর আওতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস-১৭ পালিত হয়েছে। “নারী পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব কর্মে নতুন মাত্রা” প্রতিপাদ্য স্লোগানে দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ইউপি সচিব শাহানারা খাতুন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন, ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র সেন। ইউপি সদস্য মো. আল আমীন শেখ এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা

মাষ্টার আব্দুস সোবহান, শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, মানিক চন্দ্র, আওয়ামীলীগ নেতা উত্তম হরি শক্তি ও ওয়ার্কাস পার্টি নেতা আব্দুল করিম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান সঞ্জয় কুমার দে, আশুরা করিম, ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম, ব্রাক কর্মী সামছুন্নাহার, জয়নব খাতুন ও মালঞ্চ দাস প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

সভা শেষে ইউনিয়ন পরিষদ সন্মুখে তালা-পাটকেলঘাটা সড়কে দিবসটি উপলক্ষ্যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদের ১৩টি স্থায়ী কমিটির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, ইসলামকাটী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র সেন।

এসময় ইউপি সচিব, ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য ও সদস্যা, স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিক এবং এনজিও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
##

 

তালার অসহায় এক নারী যৌতুকলোভী স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার

যৌতুকলোভী স্বামীর ১লক্ষ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় তালার অসহায় এক নারীর উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। স্বামীর নির্যাতনে গুরুতর আহত হওয়ার পর মরিয়ম বেগম নামের এই নারী যৌতুকলোভী স্বামী সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে একটি মামলা দায়ের করেছে।

কিন্তু দির্ঘদিনেও পুলিশ মামলার আসামীদের আটক না করায় আসামীরা এখন বাদিনীকে নানবিধ হুমকি প্রদান করছে বলে মরিয়ম বেগম অভিযোগ করেছেন।

দরিদ্র এবং অসহায় মরিয়ম বেগম জানান, তার পিতা ডুমুরিয়া থানার খলসি গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম যখন পুনরায় বিয়ে করে তখন তার বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। পিতা পুনরায় বিয়ে করলে তার মা’ তাকে নিয়ে পিতা বাড়ি তালার মাছিয়াড়া গ্রামের কদম মোড়ল এর বাড়ি চলে আসে। সেই থেকে দীর্ঘ বছর নানান অভাব-অনটন ও কষ্টের মাধ্যমে মরিয়ম বড় হয়ে উঠেছে।

মরিয়ম বেগম বলেন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করার পর সে ২০১১ সালে ঢাকার উত্তরায় একটি গার্মেন্টেসে চাকরি শুরু করে। এখান থেকেই যশোর জেলার মনিরামপুর থানার শ্যামনগর গ্রামের সলেমান সরদারের পুত্র নাজমুল সরদারের সাথে পরিচয় হয়।

পরবর্তিতে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয় হয়। বিয়ের সময় মরিয়মের মা যৌতুক হিসেবে নাজমুলকে নগদ ৭০ হাজার টাকা সহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল প্রদান করে। পরবর্তিতে মরিয়মের নিকট শশুর বাড়ির লোকজন আরো ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করে।

কিন্তু মরিয়মের দরিদ্র মা সেই টাকা দিতে না পারলে মরিয়মের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে বলেন, স্বামী, শশুর আর শাশুড়ির দাবী করা আরো ১ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে দিতে না পারায় তারা প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করলে মরিয়ম তালার মাছিয়াড়া গ্রামে মায়ের কাছে চলে আসে।

সেই থেকে মরিয়াম বেগম তার মায়ের কাছে থাকাকালীন চলতি বছরের ২০ জানুয়ারী বিকালে মরিয়মের স্বামী নাজমুল হাসান, শশুর সোলাইমান সরদার, শাশুড়ি রাবেয়া বেগম এবং চাচা শশুর ওহাব মরিয়ম বেগমের মায়ের বাড়িতে আসে।

পরদিন সকালে মরিয়মকে বাড়িতে নিয়ে যাবে এবং এজন্য আবারও যৌতুকের দাবীকৃত ১ লক্ষ টাকা দাবী করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে নাজমুল হাসান তার বাবা. মা ও চাচার সন্মুখে এবং উস্কানিতে মরিয়মকে ব্যাপক ভাবে পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত মরিয়মকে ২১ জানুয়ারী তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে তার স্বামী, শশুর ও শাড়িদের নামে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল’র একটি মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তালা থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়, যার নং ০৪, তাং ০৮/০২/১৭ ইং।

এদিকে মামলাটি দায়ের হবার পর পুলিশ এখনও মামলার কোনও আসামীকে আটক করেনি। যে কারনে মামলার প্রধান আসামী যৌতুকলোভী স্বামী নাজমুল হাসান মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি প্রদান করছে বলে- মরিয়ম বেগম অভিযোগ করেছেন।

এঘটনায় অসহায় মরিয়ম বেগম পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
##