তালা সংবাদ : মির্জাপুর-বারাত বিল দখল করে ঘের করতে জামায়াত নেতার অপতৎপরতা


534 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তালা সংবাদ : মির্জাপুর-বারাত বিল দখল করে ঘের করতে জামায়াত নেতার অপতৎপরতা
জানুয়ারি ৯, ২০১৭ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান :
তালা উপজেলার ইসলামকাটীর আলোচিত চলশের বিল দখল নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে এলাকা উত্তপ্ত করার পর এবার মির্জাপুর-বারাত বিলকে মৎস্য ঘের করতে আবারো সেই জামাত নেতা অপতৎপরতা শুরু হয়েছে।

জামাত নেতা মঞ্জুরুল ইসলামের কালো টাকায় তুষ্ট এলাকার ভূমিহীন একশ্রেনীর দালাল বাটপার ও কতিপয় জমির মালিকদের অপতৎপরতায় বৃহদাংশ জমির মালিকরা অসহায় হয়ে পড়েছে। অসহায় জমির মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় এলাকার জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের ভুমিকাও রহস্যজনক।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহুর্তে আবারো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটার আশঙ্কা করছে বিজ্ঞমহল।

গত ৭ই জানুয়ারী শনিবার বিকালে তালা উপজেলার বারাত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় মাঠে মির্জাপুর ও বারাত উত্তর বিলে সৃষ্ট মৎস্য ঘেরকে কেন্দ্র করে জমির মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) সংসদ

সদস্য এড. মুস্তফা লৎফুল্লাহ বলেন, জমির মালিকদের জিম্মি করে, সরকারী খাল, ডোবা পানি নিষ্কাসনের পথ বন্ধ করে কাউকে মাছের ঘের করতে দেওয়া হবে না।

অত্র বিলের জমির মালিক সাবেক ইউপি সদস্য, বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজেন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে এবং যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আব্দুস সোহবানের পরিচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ

সনৎ কুমার, তালা উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন, উপজেলা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন, তালা থানা ওসি হাসান হাফিজুর রহমান, জেলা আ’লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক প্রনব ঘোষ বাবলু, জমির মালিক বিশিষ্ট আইনজীবি, সাবেক

ইউপি চেয়ারম্যান এড. কেসমত আলী, জেলা ওয়ার্কার্স পাটির সাম্পাদক উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়ল ও ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জান লিপু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, কুমিরা ইউনিয়নের মির্জাপুর, ইসলামকাটী ইউনিয়নের বারাত, কাজীডাঙ্গা, ভবানীপুর, খরাইল গ্রামের মধ্যবর্তী ২২শ ৮৬ বিঘার বিলটি কপোতাক্ষ নদী ভরাটের কারনে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ সুযোগে পাশ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার জনৈক হযরত আলী

নামমাত্র হারি দিয়ে জমির মালিকদের নিকট থেকে রেজিষ্ট্রি করে নিয়ে বিগত ৩ বছর বিলটিকে মৎস্য ঘের করে মাছ চাষ করে আসছিল। মালিকানা দ্ব›েদ্ধর এক পর্যায়ে গত বছর হযরত কেশবপুরের সুফলকাটী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান, জামাত নেতা মঞ্জুরুল আলমের নিকট হস্তান্তর করে।

জামাত নেতা মঞ্জুরুল গত বছর এলাকার টাউট-বাটপাড়ও সন্ত্রাসীদের নিয়োগ দিয়ে ঘের পরিচালনা করে। চলতি মৌসুমে মেয়াদ শেষে উক্ত বিলের (২২শ ৮৬ বিঘা জমি) ক্ষুদ্রাংশ (৭৩২ বিঘা) জমির মালিকদের নিকট থেকে সুকৌশলে ডিড করে নেয়।

ফলে বৃদাংশ (১৫শ ৫৪ বিঘা) জমির মালিকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফলে আইন শৃংখলা অবনতি হওয়ার আশংকার প্রেক্ষিতে উক্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইতিপুর্বে বারাত-ইসলামকাটী চলষের বিল নিয়েও এই জামাত নেতার তান্ডবে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে এলাকার মানুষ। হামলা ও মিথ্যা মামলায় খড়গ নেমে আসে প্রতিবাদ মূখর মানুষের নামে। এতে জনরোষ সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে এক পর্যায়ে কেশবপুরের জামাত নেতা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পুনরায় এলাকার কিছু চিহিৃত দালাল, টাউট বাটপাড়, সন্ত্রাসী এবং কতিপয় জনপ্রতিনিধি নিয়ে মির্জাপুর-বারাত বিল নিয়ে আবারো তান্ডব শুরু করেছে।

এ ব্যাপারে উক্ত বিলের জমির মালিক যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আব্দুস সোহবান বলেন, ৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি-এসব জামাতী রাজাকারদের উত্থানের জন্য নয়।

আমরা এই বিলের জমির মালিকদের নোংরা রাজনীতির শিকার হতে দেবো না। জামাত নেতার হাত থেকে বিলকে রক্ষা করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

একই বিলে জমির মালিক বিশিষ্ট আইনজীবি, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এড. কেসমত আলী বলেন, এলাকার কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা উপরে উপরে জমির মালিকদের পক্ষে কথা বললেও ভিতরে ভিতরে জামাত নেতা মঞ্জুরুলের হয়ে কাজ করছেন।

তালার বৈরাগীর চকে ঘের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ

উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের বৈরাগীর চক বিলে ৭৬ বিঘা আয়তনের একটি মৎস্য ঘের থেকে ঘের মালিককে উচ্ছেদ করার জন্য চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ঘেরের মালিক মুড়াগাছা গ্রামের মো. আমজাদ হোসেন এর ছেলে শেখ জাকির হোসেন রাজা এই অভিযোগ করেছেন।

মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন রাজা জানান, হরিহরনগর গ্রামের মৃত নছিম গোলদারের ছেলে আব্দুল হাই মাষ্টার ও অ্যাড. আব্দুস সামাদ গংদের কাছ থেকে বৈরাগীর চকের ৭৬ বিঘা জমি ৪ বছর মেয়াদে ডিড নিয়ে ৪জন ব্যক্তি সেখানে মাছের ঘের করে আসছে।

বিধি মোতাবেক উক্ত জমি ডিড নেয়ার পর মৎস্য ঘের করাকালীন অবস্থায় বর্তমানে সেখানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার সাদা ও চিংড়ি মাছ রয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে জমি মালিক আব্দুল হাই মাষ্টার ও অ্যাড. আব্দুস সামাদ ডিডের শর্ত ভঙ্গ করে ঘের উচ্ছেদ করার জন্য চক্রান্ত শুরু করেছে।

অথচ মৎস্য ঘের শুরুর পর থেকে প্রতি বছর জমি মালিকদের যথাযথ ভাবে জমির হারি প্রদান করা হচ্ছে এবং আব্দুল হাই মাষ্টার চলতি ১৭ সালের পূর্ন হারির টাকা গ্রহন করেছে। জাকির হোসেন রাজা আরো বলেন, উক্ত ঘেরের মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হবে।

কিন্তু এরইমধ্যে জমি মালিকরা অবৈধভাবে মৎস্য ঘের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের চেষ্টা শুরু করায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে নিরিহ ঘের মালিকরা। এতে করে ঘের ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
##