তিস্তার গতিকে স্বাভাবিক করার রাস্তা খুঁজছে মোদি সরকার


340 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তিস্তার গতিকে স্বাভাবিক করার রাস্তা খুঁজছে মোদি সরকার
এপ্রিল ১২, ২০১৭ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাড়া না দেওয়ায় এবার নতুন করে ভাবনা চিন্তা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তিস্তায় সিকিমের ওপর আটটি বাঁধ পরিদর্শন করতে হাইড্রোলজি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি  প্রতিনিধি দলকে পাঠানো হচ্ছে।

খুব শিগগির পরিদর্শনের দিন ঠিক করা হবে। জানা গেছে, চলতি মাসেই ওই দলকে পাঠানো হতে পারে। কারণ মোদির লক্ষ্য এই আটটি বাঁধকে নতুনভাবে সংস্কার করে তিস্তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া এবং তারপর তিস্তা চুক্তির দিকে যাওয়া। সূত্রে খবর প্রতিনিধি দলে পশ্চিমবঙ্গ ও কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন।

প্রাথমিকভাবে শুকনো মৌসুমে তিস্তায় ঠিক কতটা পানি থাকে তার পরিমাপ করা হবে, বাঁধের ফলে পানি প্রবাহে কতটা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে-এসব কিছু দেখা হবে। তিস্তার গতিকে স্বাভাবিক করার রাস্তা খুঁজে বের করবেন তারা। এরপর প্রতিনিধি দল একটি প্রতিবেদন জমা দেবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।

গত ৮ এপ্রিল সকালেই শেখ হাসিনা ও মমতাকে পাশে রেখেই তিস্তা চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে আশ্বাস দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মোদি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বন্টনের বিষয় খুব শিগগির এবং সর্বসম্মতিক্রমে সমাধান করা হবে।

কিন্তু রাতেই সেই সুর কাটে। ওই দিনই শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসেন মমতা ব্যানার্জি। শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মমতা জানান, তিস্তা আমাদের লাইফলাইন, উত্তরবঙ্গের লাইফ লাইন। এর পানি বন্টন নিয়ে আমাদের সমস্যা রয়েছে। তিস্তার পানি দিলে রাজ্য আরও বিপন্ন হয়ে পড়বে। তার বদলে আরও চারটি বিকল্প নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। দুই দেশের সরকারকেই এই নিয়ে ভেবে দেখার অনুরোধও জানান তিনি। রাতে সাংবাদিকদের সামনে নিজের মুখেই এই কথা জানান মমতা।

মমতার এই বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে দুই দেশে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। দেশে ফেরার ঠিক আগে গত ১০ এপ্রিল সকালে নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের একটি অনুষ্ঠান থেকে শেখ হাসিনা জানিয়ে দেন, তিস্তা চুক্তি সম্পাদিত হলেই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা পাবে। মোদিজি চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশ্বাস দিলেও দিদিমণি কি করবেন বুঝতে পারছি না। দিদিমণির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কিন্তু উনি আমাকে নতুন কিছু দেখিয়ে দিয়েছেন। চাইলাম পানি, দিলেন বিদ্যুৎ।

শেখ হাসিনার সফরের সময় মমতা দিল্লিতে পা রাখার আগেই গত ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি নৃপেন মিশ্রের সঙ্গে একটি বৈঠকেও বসেন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব মলয় দে। সূত্রে খবর ওই বৈঠকেই যাবতীয় তথ্য ও মানচিত্র দিয়ে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে রাজ্যের আপত্তির জায়গাগুলি তুলে ধরা হয়। রাজ্য সরকারের বক্তব্য সিকিমে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও ৮ বড় বাঁধের কারণে শুকনো মৌসুমে তিস্তায় পানি থাকছে না। ফলে কৃষি, খাবার পানি, বিদুৎ সঙ্কটের মুখোমুখি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। আবার বর্ষায় বাঁধ বাঁচাতে সিকিম পানি ছেড়ে দেওয়ায় ভেসে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে অভিযোগ জানানোর পরেও পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কোন বৈঠকের আয়োজন করেনি কেন্দ্র সরকার।

মমতার অভিযোগ, সিকিমের এই বাঁধ তিস্তার পানি প্রবাহ আটকে দেওয়ায় শুকনো মৌসুমে মাত্র ৬০ শতাংশ পানি আসে রাজ্যে। ফলে বাংলাদেশকে দেওয়ার মতো পানি নেই।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের অভিমত, পশ্চিমবঙ্গে তিস্তার পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তিতে সাড়া দিতে পারেন মমতা। সেসময় মমতাকেও চুক্তির জন্য আবার নতুন করে প্রস্তাব দেওয়া হবে। আর সেদিকে তাকিয়েই তিস্তার গতিকে স্বাভাবিক করার রাস্তা খোঁজাটাই একমাত্র লক্ষ্য মোদি সরকারের।