তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে নিহত ১


181 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে নিহত ১
মার্চ ২২, ২০২১ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস আর ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন।

রোববার ঝাড়গ্রাম থানার আগুইবনি গ্রাম পঞ্চায়েতের নেতুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।

কয়েক দিন পরই প্রথম দফার নির্বাচন। তার আগেই ছড়িয়ে পড়ছে সহিংসতা। নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম দুর্গা সরেন (৫৫)। তার বাড়ি পিন্ডরা গ্রামে।

দুর্গার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিলেও, তৃণমূলের অভিযোগ দুর্গাকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বিজেপির দিকে। তবে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঝাড়গ্রাম শহরে অবরোধ করেন তৃণমূল কর্মীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, একটা ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা ময়না তদন্তের পর জানা যাবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে দুর্গা ও তার স্ত্রী চিকিৎসককে দেখানোর জন্য নেতুরা গিয়েছিলেন। সে সময় স্থানীয় বিজেপির কিছু লোকজন তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এই ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পরে নেতুরা বাসস্ট্যান্ডে কিছু তৃণমূল কর্মী ওই এলাকার বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য মানিক সাউয়ের ভাই তারক সাউকে মারধর করে দুটি হাত ভেঙে দেয়।

তারককে হাসপাতালে নিয়ে আসার কিছুক্ষণ পর দুর্গা সরেনকে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুর্গাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কী কারণে দুর্গার মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে ঝাড়গ্রামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসে কেন্দ্রীয়বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার। হাসপাতাল চত্বরেও মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য।

মৃত তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী সাকরো সরেনের অভিযোগ, দুপুরে স্বামীর সঙ্গে চিকিৎসককে দেখানোর জন্য নেতুরা গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বিজেপির লোকজন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। অন্যদিকে আক্রান্ত তারকের দাদা মানিকের পাল্টা অভিযোগ, আমার ভাইকে তৃণমূলের লোকজন মারধর করেছে। তার দুটি হাত ভেঙে দিয়েছে। তাকে তির মারা হয়েছে।

রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে গিয়ে বলেন, গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় দুর্গাদাকে মরতে হল। উত্তরপ্রদেশের কালচার আনতে চাইছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর অধীনে রয়েছে, নির্বাচন কমিশন কী জবাব দেবে। সোমবার থেকে জঙ্গলমহল জুড়ে প্রতিবাদ জানানো হবে।

ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর উজ্জ্বল দত্তের দাবি, তৃণমূল কর্মী দুর্গা সরেনকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি তুফান মাহাত বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ বিষটি নিয়ে তদন্ত করছে।