ইতিহাস গড়া জার্সিটির দাম উঠেছে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ,বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান


541 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ইতিহাস গড়া জার্সিটির দাম উঠেছে ৫ লাখ ৫৫ হাজার ,বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান
এপ্রিল ২৮, ২০২০ খেলা ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ এম কামরুজ্জামান ॥

২০১৩ সালে কাঠমান্ডুতে সাফ ফুটবলের ফাইনাল পরিচালনা করেন ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যানে ইতিহাসগড়া এই জার্সিটিই তিনি অনলাইন নিলামে বিক্রি করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর সার্জি বিক্রির যাবতীয় অর্থ ভয়াল করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যানে ব্যয় করবেন তিনি।

২০১৩ সালে কাঠমান্ডুতে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম রেফারি হিসেবে সাফের ফাইনাল খেলা পরিচালনা করেন। সে ম্যাচে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়ে আফগানিস্তান চ্যাম্পিয়ন হয়। এই ম্যাচে যে জার্সিটি পরে খেলা পরিচালনা করেন তৈয়ব হাসান, সেটিই নিলামে তোলার ইচ্ছা তাঁর।

সম্প্রতি তৈয়ব হাসান তার জার্সি বিক্রির ঘোষণা দিলে জার্সিটি কেনার জন্য প্রথমে এগিয়ে আসেন সাতক্ষীরার তরুণ ব্যবসায়ী তুফান কোম্পানী লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ তানজিম কালাম তমাল। ২ লাখ টাকায় তিনি এটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দুই দিন আগে জার্সিটি কেনার জন্য সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই জার্সিটি দর তুলেছেন ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

তৈয়ব হাসান সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, অনলাইন নিলামের মাধ্যমে জার্সিটি বিক্রি করা হবে। বাফুফে এ ব্যাপারে কাজ শুরু করেছে। শিঘ্রই নিলাম ঘোষণা করা হবে। নিলামে যিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হবেন তাকেই দেয়া হবে জার্সিটি। যেহেতু জার্সি বিক্রির যাবতীয় অর্থ করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে সেহেতু আমি আশা করবো সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসবেন। বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

সাতক্ষীরা জেলা শহরের পলাশপোল গ্রামে সাবেক এই ফিফা রেফারির বাড়ি। সাতক্ষীরার এই কৃতি সন্তান
বলেন, ‘আমি হয়তো কোনো ক্রীড়াবিদ নই। নামী দামিও কেউ নই। কিন্তু তারপর ভেবেছি এই সময়ে মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। আমার সামান্য আর্থিক অনুদানে যদি একটি মানুষও উপকৃত হয় সেটিই হবে আমার স্বার্থকতা। তাই সাফ ফাইনালের জার্সিটি নিলামে তুলব। সেটা থেকে প্রাপ্ত অর্থ করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের দেব।

বাংলাদেশে কোনো রেফারি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করার রেকর্ড তারই। টানা ১০ বছর এএফসির এলিট প্যানেলে ছিলেন তিনি। এটিও রেকর্ড। এশিয়ার সেরা ২৫ রেফারির তালিকায় ঢুকেছেন কৃতি এই রেফারি।

তৈয়ব হাসানের অর্জন অনেক। মফস্বল শহরে বেড়ে ওঠা তৈয়ব হাসান আন্তর্জাতিক রেফারি ছিলেন ১৯৯৯-২০১৬ পর্যন্ত। দীর্ঘ ১৮ বছরে ১০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেন সাতক্ষীরার এই কৃতি সন্তান।

বিশ্বকাপ বাছাই, অলিম্পিক বাছাই, এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ, এএফসি কাপ, দুটি এশিয়ান গেমস, এএফসি বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ফাইনাল রাউন্ড, সাফ, সাফ গেমসসহ অনেক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।