ত্রি-মুখি সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর


1156 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ত্রি-মুখি সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর
এপ্রিল ২৪, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুল জলিল :
কতিপয় কাষ্টমস কর্মকর্তা ,বিজিবি ও ব্যবসায়ীদের অনিয়ম, দূনীতি ও বাড়াবাড়ির কারনে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দর  অচল হতে বসেছে । ইতিমধ্যে আগের তুল নায় আমদানি রপ্তানি অনেক কমে গেছে । বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছে বিজিবির তল্লাসি, ওজন ও পণ্য পরিক্ষার নামে ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানি রফতানি কাজে বাধা সৃষ্টির করছে। তারা এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির কর্মকান্ড  শুল্ক আইনের পরিপন্থি বলে দাবি করেছেন। বিজিবির হযরানি প্রতিবাদে সিএ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলন, কর্মবরতি পালন , জেলা প্রসাশক এর মাধ্যমে  প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছেন। তবে বিজিবি তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে । সম্প্রতি অবৈধভাবে ভারত থেকে নিয়ে আসা মার্বেল পাথর ও ঘোষনার অতিরিক্ত পান আমদানি করার সময় বিজিবির হাতে আটক হয় । এসব ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে ব্যবসায়ী ও দুই কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির  আইনে সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন । তবে কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি বন্দর এলাকায় পন্য আটক ও আইনগত অন্য কেউ নিতে পারবে না। বেআইনি ভাবে কাষ্টমস কর্মকর্তদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে । যার কারণে চরম সংকটে পরেছে এই বন্দর । satkhira vomra picture 1
খোজখবর নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে কাষ্টমস কর্মকর্তা কর্মচারিদের অনিয়ম দূনীতি আর ঘুষ গ্রহণ নিয়মে পরিনত হয়েছে । ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয় না এই বন্দরে। আমদানি রপ্তানি কারক ও সিএ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা শত ভাগ পরিছন্ন কাজ করলেও পেপার প্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা গুনতে হয় । আর ঘুষের টাকা না দিলে ঝুট ঝালামে লেগেই থাকে ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায় উৎকোচ ছাড়া বন্দরের কোন কর্মকতা কাজ করে দেয় না । কাগজ পত্র এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে যায় না । বন্দরে ১২ টি শাখা রয়েছে । টাকা ছাড়া কোন শাখার কেউ কথা শুনে না । আর ঘুষের টাকার ভাগ পায় কাস্টমস কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত । সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানা যায় বন্দরের ১২ টি শাখার দূনীতি পরায়ন কর্মকর্তরা এখন বহাল তবিয়তে উৎকোচ গ্রহন করে ধরাকে সরা ঙ্গান করে না ।
ঘুষখোর কর্মকর্তাদের যাতাকলে পড়ে উৎকোচ দিতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। অগ্রিম উৎকোচ না দিলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা আমদানি রপ্তারির কাগজ ছুড়ে ফেলে দেয় । কখনও কখনও পেপার শতভাগ পরিচ্ছন  থাকলে এই শাখায় কর্মকর্তা অকারণে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে । ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানি এড়াতে ও দ্রুত আমদানি রপ্তানি পন্য ক্লিয়ারেন্স নিতে উৎকোচ দিতে বাধ্য হয় । সেই সুযোগে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ পন্য ও ঘোষনার অতিরিক্ত পন্য নিয়ে আসছে অহরহ । আর বন্দর সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বিজিবি চেক পোষ্ট । জাল কাগজ পত্র তৈরি করে অবৈধভাবে আমদানি করা ও ঘোষনার অতিরিক্ত পণ্য মাঝে মধ্যে আটক করে বিজিবি। সে কারণে বিজিবি ও বন্দর ব্যবহার কারিদেরা মদ্যে শুরু হয়েছে আইনি লড়াই । ফলে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা । বন্দর ব্যবহার কারিরা বন্দরে বিজিবির কর্মকান্ড অবৈধ্য বলে দাবি করছে আর বিজিবি তল্লাসি, ওজন ও পণ্য পরীক্ষার জন্য চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন অব্যহত রেখেছে ।
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি মালামাল ছাড়কারী প্রতিষ্ঠান ওভারসীজ (সিএন্ডএফ এজেন্ট) দুই জন কাষ্টমস কর্মকর্তার জাল স্বাক্ষর ও ভূয়া ম্যানুয়াল তৈরী করে  সম্পন্ন  এই বন্দর দিয়ে আমদানি নিষিদ্ধ মার্বেল  পাথরা নিয়ে  আসার সময় ভোমরা স্থল বন্দর এলাকায় বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৪ টি কাভার্ড ভ্যান ভর্তি ৭৬ টন ভারতীয় গ্রানাইট মার্বেল পাথর জব্দ করেছে। জব্দকৃত মার্বেল পাথরের মূল্য ৬ কোটি টাকা ।
সম্প্রতি ভোমরা কাস্টমসের সিপাহী ফিরোজ হোসেন ও মোতিন ট্রাকে চাঁদা আদায়কালে ভারতীয় রুপিসহ  আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) গোয়েন্দা সদস্যরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার ভারতীয় রুপি জব্দ করা।
গত ৯ মাচ  ভোমরা স্থল বন্দর থেকে ট্রাক ভর্তি করে পিয়াজ রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় বন্দরের বিজিবি বাশকল চেক পোস্ট এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে আমদানিকৃত এলসির কাগজপত্রে যে পরিমান উল্লেখ আছে তার চেয়ে ৩’শ তিন বস্তায় ১০ হাজার কেজি পিয়াজ বেশি থাকায় জব্দ করে বিজিবি।
গত ৭ এপ্রিল ১১টি ট্রাক ভর্তি ৬৬ দশমিক ৩ মেট্রিক টন পান জব্দ করে বিজিবি। যার ৬০ ভাগ কর ফাকি দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। এতে সরকার প্রায় ৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।
বিজিবি পরে এই পান থানায় জমা দিয়ে চার ব্যবসায়ী ও দুই কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির মামলা করেন।
এসব ঘটনায় ফুসে উঠেছে ভোমরা বন্দর ব্যবহার কারিরা। বন্দর ব্যবহার কারিরাদের দাবি বিজিবির তল্লাসি, ওজন ও পণ্য পরীক্ষার নামে ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানি রফতানি কাজে বাধা সৃষ্টির করছে। বিজিবির কর্মকান্ড শুল্ক আইনের পরিপন্থি। বন্দরে কোন অনিয়ম হলে কাষ্টমস শুল্ক আইন তার ব্যবস্থা নেবে। বিজিবি অহেতকু কেন তাদের হয়রানি করবে । বিজিবি কতৃক হযরানি প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিএ্যান্ডএফ এ্যাসোসিয়েশন  দুই দফায় সংবাদ সম্মেলন,  তিনদিন কর্মবরতি পালন , জেলা প্রসাশক এর মাধ্যমে  প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছেন।
ভোমরা বন্দর সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু জানান, প্রশাসক তাদের বিষয়টি দ্রুত সমাধান দেওয়ার আশ্বিস দিয়েছেন । জেলা প্রশাসক এর কথামত সাময়িক ভাবে  কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে । সমাধান না হলে পূণরায় আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে ।
ভোমরা স্থলবন্দর এর রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ জানান , নাপারি কিছু করতে  না পারি কিছু বলতে । বন্দর এলাকায় সকল ক্ষমতার অধিকারি কাষ্টমস । অথচ বিজিবি খামাখা তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে ।বেআইনি ভাবে  তাদের নামে থানায় মামলা দিয়েছে বিজিবি । তবে কাষ্টমস কতৃপক্ষ তাদের বিষয়টি উদ্ধতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছে । এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য ও ঘোষনার অতিরিক্ত পণ্য কিভাবে আসে সেটা তার জানা নেই ।
সাতক্ষীরা ৩৮ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্ণেল মো: আরমান হোসেন পিএসসি জানান ,ইচ্ছাকৃত ভাবে কেউ  ঘোষনার অতিরিক্ত পণ্য আনলে শুল্ক আইনে বলা আছে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যাবে । বিজিবি পোর্ট এলাকায় কোন পণ্য আটক বা তল্লাসি করে না । সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট এর সাথে বলে তারা বন্দরের বাহিরে রাস্তায় মধ্যে  এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে ট্রাক দেখে ছেড়ে দেয় । সঠিক ভাবে যারা ব্যবসা করে তাদের কোন সমস্যা নেই । অসাধু ব্যবসায়িদের শুধু মাত্র সমস্যা হচ্ছে । তবে বিজিবি আইন মেনে সব কিছু করছে ।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাসেম মো: মহিউদ্দীন জানান, ভোমরা স্থল বন্দরের বিষয়টি নিয়ে আগে  আলোচনা করা হয়েছে । রোববার অথবা সোমবার আবার শুধু মাত্র বিজিবির সাথে বিষয়টি নিয়ে বসবো । আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে ।