থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা, ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে হাজার হাজার পরিবার


157 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা, ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে হাজার হাজার পরিবার
মে ১০, ২০২০ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির ::

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাট’সহ ১০ জেলার উপজেলায় ঈদের খুশি ও চাঙ্গা অর্থনীতি থেকে বাদ পড়েনা দুয়ারে কড়া নাড়ছে ঈদ। এ সময় ঈদ আনন্দে ভাসে পুরো দেশ। এই ঈদুল ফিতরকে ঘিরে চাঙ্গা হয় গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা। কিন্তু এ বছর মরণঘাতি করোনা ভাইরাসের ছোবল ও উৎপাদিত বোরো ধানের দাম কম এবং মাছ বিক্রি করতে না পারায় রমজান শেষ হতে চললেও জমেনি ঈদের বাজার। তাই থমকে গেছে এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা। ফলে চাষিদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা। এজন্য এ বছর ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে কয়েক হাজার পরিবার। শনিবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ।

পাটরপাড়ার গ্রামের ধান ও চিংড়ি চাষি মুজিবর বিশ্বাস, এমাদুল বিশ্বাস, রিয়াদ তালুকদার, সুরশাইলের সাহেবালী শেখ, মারুখ খান, মানু শেখ, গাউস গাজি, হেদায়েত ফরাজী, কুরমনি গ্রামের রেজাউল দাড়িয়া, তালহা হোসেন, নান্নু শেখ, আড়ুয়াবর্নী গ্রামের বাদশা শেখ, অলিউর সরদার, শিবপুরের সাফায়েত কারিকর, বারাশিয়া গ্রামের সিরাজ শেখ, ডুমুরিয়ার কাকন সরদার, খিলিগাতীর লিয়াকত ফকির, চৌদ্দহাজারী গ্রামের আক্কেল আলী তালুকদার ও শ্যামপাড়া গ্রামের কালাম কাজীসহ অনেক চাষি জানান, বোরো মৌসুম ও মাছ চাষের শুরুতে চাষিরা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও এবং মহাজনদের কাছ থেকে ধারকর্য করে চাষাবাদ করেন। মৌসুম শেষে উৎপাদিত মাছ ও ধান বিক্রি তারা ধারকর্য পরিশোধ করেন। যা লাভ থাকে তা দিয়ে চালান নিজেদের সংসার ও ঈদের খরচ। কিন্তু এ বছর ধানের দাম কম থাকায় এবং ফসলের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচের টাকা ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছে চাষিরা। এখানে বর্তমানে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৪০ টাকা দরে। অথচ একজন ধান কাটায় অযোগ্য শ্রমিকেরও মুজুরি দিতে হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা। সাথে দুই বেলার খাবার। কাজ করে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত। তাতে কৃষকের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। এবার ধান চাষ করতে তাদের একর প্রতি খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। খুব ভালো ফলন হলেও প্রতি একর জমিতে ৭৫ থেকে ৮০ মন ধান উৎপাদন হবে। হাজার টাকার কমে ধানের মন বিক্রি করলে তাদের চালান উঠবেনা। অন্যদিকে, মরণঘাতি করোনার প্রভাবে সময় মত চিংড়ি ও সাদা মাছ বিক্রি করতে না পারায় এ অঞ্চলের কৃষক ও চাষিদের অর্থনীতির চাকা একেবারে থমকে গেছে। তাদের জীবনে নেমে এসেছে কঠিন বাস্তবতা ও জটিলতা। তাই ঈদের বাজার তো দূরের কথা, এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে এ উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার জানান, এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ২১ টি ব্লক রয়েছে। এখানে এ বছর প্রায় ৩০ হাজার একর জমিতে বেরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের ফলন হয়েছে বাম্পার। কমপক্ষে ২৫-৩০ হাজার কৃষক পরিবার এই বোরো ধানের চাষের সাথে জড়িত। এখানে এ বছর ৮০ হাজার মেট্রিকটন ধান কৃষকের ঘরে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা নায্যমূল্য না পেলে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চিতলমারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান জানান, এ উপজেলায় মোট চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ১৭ হাজার ৭৩০ টি। যার মোট আয়তন ১৭ হাজার ৮৩৩ একর। এরমধ্যে ১৪ হাজার ৭৫৮ টি ঘেরে গলদা ও ২ হাজার ৮৭২ টি ঘেরে বাগদা চিংড়ির চাষ ও ৬ হাজার ৯০০ টি পুকুরে বিভিন্ন মাছের চাষ হয়। এখানের চাষিরা বছরে ৫৮১ মেট্রিকটন বাগদা ও ২ হাজার ৬৫০ মেট্রিকটন গলদা চিংড়ি এবং বিপুল পরিমান সাদা মাছ উৎপাদন করে থাকেন। এখানে ৭ হাজার ৫০০ জন মৎস্য চাষি ও ২ হাজার ৭০২ জন মৎস্যজীবি রয়েছেন। সেই সাথে এই চিংড়ি শিল্প ও মাছ চাষের সাথে এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের ভাগ্য জড়িত রয়েছে। করোনার কারণে মাছের খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিপাকে পড়েছে মৎস্য চাষিরা। অনেকটা থমকে গেছে গ্রামীন অর্থনীতির চাকা।