দক্ষিণ চীন সাগরে মিলল গভীরতম ব্লু হোল!


324 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দক্ষিণ চীন সাগরে মিলল গভীরতম ব্লু হোল!
আগস্ট ২, ২০১৬ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
বিশ্বের ‘গভীরতম’ সামুদ্রিক রন্ধ্র! এবং তাকে কেন্দ্র করে আবার শিরোনামে সেই দক্ষিণ চীন সাগর। চীনের এই সুগভীর ব্লু হোলকে ‘ড্রাগন রন্ধ্র’ বলছে। ব্লু হোলটির অবস্থান বিতর্কিত প্যারাসেল আইল্যান্ডসের মাঝখানে।

চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জিনহুয়া জানিয়েছে, প্যারাসেল আইল্যান্ডসের মাঝে যে ব্লু হোলটি সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া গেছে, তার গভীরতা ৯৮৭ ফুট। চীনের এই দাবি যদি সত্য হয়, তা হলে এই ব্লু হোল পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সামুদ্রিক গর্ত। এত দিন পর্যন্ত বাহামাসের ডিন’স ব্লু হোলকে গভীরতম মনে করা হত। কিন্তু তার গভীরতা ৬৬৩ ফুট।

ব্লু হোল কী?

সমুদ্রের মাঝে বা কোন দ্বীপের আশেপাশে দৈত্যাকার রন্ধ্রকে ব্লু হোল বলা হয়। সমুদ্রের স্বাভাবিক গভীরতার চেয়ে এই ব্লু হোলগুলোর গভীরতা অনেক বেশি হয়। বড়সড় গর্তের মতো আকারের এই সব ব্লু হোলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সূর্যালোক পৌঁছয় না। ফলে এর গর্ভ অন্ধকার থাকে এবং তার পানিকে দেখে মনে হয় অনেক বেশি গাঢ় নীল। আকাশ থেকে সমুদ্রে চোখ রাখলেও আলাদা করে ব্লু হোলের অস্তিত্ব বোঝা যায়, কারণ ওই সামুদ্রিক রন্ধ্রগুলোর উপরের জলভাগকে, আশপাশের জলভাগের চেয়ে বেশি নীল দেখায়। সেই কারণেই এই সামুদ্রিক রন্ধ্রগুলোর নাম ব্লু হোল।

ড্রাগন রন্ধ্র নাম কেন?

প্যারাসেল আইল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত এই ব্লু হোল যে নতুন আবিষ্কৃত হয়েছে তা নয়। শতকের পর শতক ধরে ওই ব্লু হোলের অস্তিত জানা ছিল। কিন্তু তার গভীরতা যে এত বেশি, তা সদ্য জানা গেছে। চীনের মৎস্যজীবীদের বিশ্বাস, চীনা উপকথায় বর্ণিত মাংকি কিং তার স্বর্ণদণ্ডটি এই সামুদ্রিক রন্ধ্রের মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিলেন। প্যারাসেল আইল্যান্ডসের মধ্যে অবস্থিত এই সামুদ্রিক রন্ধ্রের বিপুল গভীরতার কারণেই একে ‘ড্রাগন রন্ধ্র’ নামে ডাকছে চীন।

বিজ্ঞানীদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ ড্রাগন রন্ধ্র?

তবে শুধু চীনা উপকথায় নয়, বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে ড্রাগন রন্ধ্র। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দক্ষিণ চীন সাগরের উপর কতটা পড়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ড্রাগন রন্ধ্রের গভীরের জীবজগৎ অনেকটা সাহায্য করবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। গত ১০ হাজার বছর ধরে বা তারও আগে থেকে এ পর্যন্ত পৃথিবীর জলবায়ু কীভাবে বদলেছে, পানিস্তর কীভাবে বেড়েছে, তার প্রভাব সামুদ্রিক জীবের উপর কীভাবে পড়েছে, কতটা বিবর্তন হয়েছে— এই সব কিছুর রেকর্ড ওই ব্লু হোলের মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে বলে চীনা সমুদ্রবিজ্ঞানীরা মনে করছেন। ইতিমধ্যেই ড্রাগন রন্ধ্রে ২০টি প্রজাতির মাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এই সব মাছ রন্ধ্রের উপরের দিকে থাকে। ৩৩০ ফুটের বেশি গভীরে অক্সিজেন পৌঁছয় না। তাই সেখানে মাছ থাকে না। তবে ড্রাগন রন্ধ্রের গভীরে জীবজগতের অন্য নানা রহস্য উন্মোচনের অপেক্ষায় থাকতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা