সাতক্ষীরা শহরের দুঃখ প্রাণ সায়ের খাল !


797 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা শহরের দুঃখ প্রাণ সায়ের খাল !
জানুয়ারি ১৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
দখল ও বর্জ্যে স্তুপের কারণে শহরের মাঝ নিয়ে এক সময়ের প্রমত্তা প্রাণ সায়েরের খাল শহরবাসীর দুঃখে পরিণত হয়েছে। খালের দুপাশ দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতি গড়ে তোলা, মাছ ও মাংসের বাজারের বর্জ্য ফেলা, কচুরিপানা, পৌরসভার ময়লার স্থান খালের ধারে স্থাপন করাসহ নানান কারণে খালটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। অন্যদিকে খালের দুই মুখে অপরিকল্পিত স্লাইচ গেট নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহিত না হওয়ায় বড় ডোবায় পরিণত হয়েছে। ফলে খালের পঁচা দুর্গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে শহরের বাতাস, রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে, জন্মাচ্ছে মশা। পৌর মেয়রের বাড়ি থেকে মাত্র ১০ গজ দূরে খালে ময়লা ফেলানো হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ১৮৬৫ সালে সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় কলকাতার সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রাণসায়ের খাল খনন করেন। খেজুরডাঙ্গী থেকে সাতক্ষীরা শহর হয়ে এল¬ারচর পর্যন্ত এ খালের দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। প্রথমাবস্থায় এ খালের চওড়া ছিল ২০০ ফুটের বেশি। তখন বড় বড় ব্যবসায়িক নৌকা, স্টিমার, লঞ্চ ঢুকত এ খালে। ফলে সাতক্ষীরা ক্রমশ সমৃদ্ধশালী শহরে পরিণত হয়। ১৯৮৪ সালে এ মহকুমা শহর থেকে জেলা শহরে রুপান্তরিত হয়। ১৯৯০ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় জনগণের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে বন্যা প্রতিহত করার নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড খালের দু’ধারে অপরিকল্পিতভাবে ¯¬ইজ গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। খালের দুই প্রান্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড ¯¬ুইজ গেট নির্মাণ করে খালের স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে দেয়ার কারণে বর্তমানে খালটি বদ্ধ খালে পরিণত হয়েছে।

খালের পাশ দিয়ে পথচারীরা যেতে পারে না। গতকাল সরেজমিনে খালের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দেখা যায়, খালের দুপাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি। অনেকে দ’ুধার দখল করে নির্মাণ করেছে দোকান। বড়বাজারে ব্রিজের দুই পাশে মাছ ও মাংসের সকল বর্জ্যে খালে ফেলা হচ্ছে। গরু ও ছাগল জবাহ করার পরে সকল বর্জ্য, মুরগির বর্জ্য, মাছের বর্জ্য ফেলার একমাত্র স্থান হলো প্রাণ সায়েরের খাল। ফলে অন্যদিকে পৌর মেয়রের বাড়ি থেকে মাত্র পাশে খালের উপর নির্মিত বাঁশের ব্রিজের পাশেও বিভিন্ন বর্র্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ সব বর্জ্য ফেলায় খালের পানি পীত কয়লায় পরিণত হয়েছে। শহরের খালের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের কারণে হেঁটে যাওয়া যায় না। ফলে সকালে সুস্বাস্থ্যের জন্য হাঁটা মানুষকে দুর্গন্ধ নিয়ে প্রতিদিন হাঁটতে হচ্ছে। খাল উন্মুক্তকরণ ও দুর্গন্ধ প্রতিরোধে গত মাসে মর্নিং ওয়াক ফোরামের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। কিন্তু অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। মর্নিং ওয়াক ফোরামের সভাপতি ও সাতক্ষীরা চেম্বার অব কর্মাসের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ দ্বীন আলী বলেন, খালটি শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের প্রতীক হওয়ার কথা। খাল শহরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ হলেও বর্তমানে আবদ্ধ করে রাখায় এটি আমাদের শহরের পরিবেশ দুষণের অন্যতম কারণ। তিনি আরো বলেন, খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ না করলে পরিবেশ রক্ষা পাবে না।

শহরের প্রাণ সায়ের এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, খালটিতে পৌরসভার উচিৎ বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা। তিনি আরো জানান, প্রত্যেক সপ্তাহে খালে স্লুইচ গেট দিয়ে পানি প্রবেশ ও বাহির হতে দিতে হবে। তবে খাল দুর্গন্ধমুক্ত হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, খালটি পৌরসভার অধীনে নয়। এটা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-১ এর অধীনে। যত সময় পর্যন্ত পৌরসভার আন্ডারে না হবে, তত সময় পৌরসভার দায়িত্ব বর্তায় না। তিনি আরো জানান, গত বছর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে খালের উন্নয়ন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যেটা জলবায়ু ট্রাস্টে আছে। তিনি আরো বলেন, প্রাণসায়ের খালের ভিতর যে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে, এটা বন্ধ করা একা জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে।