দিনটি মায়েদের জন্য


1321 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দিনটি মায়েদের জন্য
মে ১৩, ২০১৮ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সোহাগ হোসেন ::
আজ ১৩ মে বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর এই দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। যদিও মাকে ভালবাসা জানাতে কোনো দিনক্ষণ লাগে না; তবুও মায়ের জন্য ভালোবাসা জানানোর দিন আজ। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ট শব্দ মা। মায়ের চেয়ে সহজ গভীর কোন অনুভূতি নেই।

আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তত এ দিনটি মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশ এবং নানাভাবে নিজের মায়ের মমত্ববোধ উপস্থাপনের সুযোগ আসে মা দিবসে। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে দিবসটি হয়তো উৎসবে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে কোন কোন মা বৃদ্ধাশ্রমে শুয়ে বসে একাকিত্ব যন্ত্রণায় চোখের পানি ফেলছেন প্রিয় সন্তানের মুখটি একটিবার দেখার জন্য। গর্ভধারিণী মাকে ভালোবাসার জন্য আসলে কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয়না। মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রতিটা মুহুত্বেই প্রকাশ করা যায়।

সাতক্ষীরা শহরের প্রবীণ আবাসন কেন্দ্রে ঘুরে দেখা মিলেছে অনেক মায়ের সাথে। কারও বা স্বামী সংসার নেই।আবার কেউ সন্তানের অবহেলায় জীবনের শেষ দিনগুলো বৃদ্ধাশ্রমের আবদ্ধ দেওয়ালের মধ্যেই পার করছেন।
বৃদ্ধাশ্রমে কেন এসেছে এ বিষয়ে এক মায়ের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ছেলে বিয়ে করে বউ পেয়ে আমি মা,আমাকে ভূলে গেছে। অবহেলা অনাদর সহ্য করতে না পেরে এখানে বৃদ্ধাশ্রমে এসেছি। এটাই শেষ ঠিকানা এখন। আমার ছেলে আমাকে কখনো দেখতে আসেনি। কখনো জানতে চাইনি মা তুমি কেমন আছো ! ছেলেকে দেখতে খুব মন চাই। কিন্তু সাহস পাইনা দেখতে যাওয়ার। আমার কারনে যদি তার সংসারে ঝামেলা হয়।
বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মায়ের গল্প এমনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে সেটা কখনো ভাবেতেও পারেনি বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষগুলো। বৃদ্ধাশ্রম যেন কোন মায়ের শেষ ঠিকানা না হয় সেটাই দাবী বৃদ্ধাশ্রমে থাকা সব মায়েদের।

রোকেয়া নামে এক মায়ের বয়স ১১০ বছর। প্রায় বিশ বছরের বেশি সময় মা অচল হয়ে আছেন। কখনো তার কোন কিছুই ত্রুটি হতে দেননি তার এক মাত্র ছেলে অবেদ আলী মোড়ল। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার আটারই গ্রামে বাড়ী অবেদ আলীর। অবেদ আলী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। নিজের সামান্য উপার্জন থেকে রোজ মায়ের জন্য ঔষধ ও ভাল খাবার নিয়ে আসেন। তার মা এতটা বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছেন। তবু এতটুও ভালবাসা কমেনি মায়ের প্রতি। মায়ের কাপড় ধোয়া, রোজ সকালে ঘুম থেকে ডেকে তুলে খাবার দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ নিজে হাতে অবেদ আলী করেন।
আলেয়া বেগম নামে এক মা জানান, ছেলেরা সবাই ভাল চাকরি করে। আমার দিকে তারা খেয়াল করোনা। ভাল আছি না খারাপ আছি সেটা কখনো জানতো চাইনা। আমার মৃত্যু জন্য তাগের অপেক্ষা।
মা দিবসের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, মা দিবস কি সেটা জানেন না তিনি। বেঁচে থাকার সবকটি দিন যেখানে কষ্টে কেটে যায়। সেখান মা দিবস দিয়ে আর কি হবে।এমনিটি অভিমত এ মায়ের।
জেলার বিভিন্ন অঞ্চলগুলোতে দেখা গেছে, অধিকাংশ মায়েরাই ভাল নেই। অবহেলা আর অনাদরে খুব কষ্টে বেঁচে আছে। সব মায়েদের গল্প এমনি।
আবার অনেক মায়েরা ভাগ্যবান। সুসন্তানের মা হতে পেরে। মা শব্দটি খুব ছোট। যার ব্যপ্তি অনেক প্রচারিত।