দিল্লিতে ‘গোমাংস তল্লাশি’, সমালোচনার ঝড়


304 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দিল্লিতে ‘গোমাংস তল্লাশি’, সমালোচনার ঝড়
অক্টোবর ২৮, ২০১৫ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
মেনুতে গরুর মাংস আছে এ অভিযোগে দিল্লিতে কেরালা রাজ্য সরকারের একটি অতিথিশালার ক্যান্টিনে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নিন্দা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে।

বিবিসি জানিয়েছে, ডানপন্থি হিন্দুদের একটি দল অভিযোগ করে, ‘কেরালা হাউজ’ নামের ওই গেস্টহাউজ ক্যান্টিনে খাবারের তালিকায় গরুর মাংস রয়েছে।

পুলিশ তল্লাশির জন্য হানা দেয়ার পর হাউজের কর্মীরা তাদের জানায়, খাবারের তালিকায় যেসব আইটেম রয়েছে সেগুলো গরুর মাংস নয় বরং মহিষের মাংস দিয়ে তৈরি।

তল্লাশি অভিযানে ক্ষুব্ধ কেরালা সরকার দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্দি।

ওদিকে, ট্যুইটারেও অনেকেই একইসঙ্গে কেরালা সরকার এবং বাড়াবাড়ি রকমের পুলিশী ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে।  দিল্লিতে একজন মেয়ে হওয়ার চেয়ে গরু হওয়া ভাল? এমন প্রশ্ন রেখেছেন কেউ কেউ।

কেরালার  বিখ্যাত গরুর মাংসের তরকারি গলায় হাড় আটকে যাওয়ার মতোই সঙ্ঘ পরিবারের গলায় আটকে গেছে বলে সম্পাদকীয়তে কটাক্ষ করেছে টেলিগ্রাফ পত্রিকা।

ভারতের অধিকাংশ রাজ্য এবং রাজধানী দিল্লিতে গরু হত্যা নিষিদ্ধ হলেও কেরালায় গোহত্যা বৈধ।

সোমবার সন্ধ্যায় কেরালা হাউজে অভিযানের পর পুলিশ হিন্দু শিবসেনা দলের এক কর্মী যিনি পুলিশকে ফোন করেছিলেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে গেছে।

অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি,শুধুমাত্র প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নিতেই তারা কেরালা হাউজে গিয়েছিল। কোনো অভিযোগের তদন্ত বা মাংসের নমুনা সংগ্রহের জন্য নয়।

পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যতিন নারওয়াল এনডিটিভি’কে বলেন, “প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কেউ যেন কোনো ভাবেই আইন-শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করতে না পারে তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য ছিল।”

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্দি তাদের অতিথিশালায় পুলিশের হানার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “অভিযানে যাওয়ার আগে দিল্লি পুলিশের ধৈর্য্য ধরে সেখানে নিযুক্ত আমাদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা উচিত ছিল।”

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, কেরালা হাউজের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো অভিযোগ আনেনি। তারপরও হাউজটির খাবারের তালিকা থেকে সমস্ত গরুর মাংসের আইটেম সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সেখানকার কর্মীরা পুলিশের সুরক্ষা চেয়েছেন।

এর আগে ভারতে গরুর মাংস খেয়েছেন এমন গুঞ্জন তুলে একদল হিন্দু এক মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে ।

গোহত্যার জন্য গরু পাচার করছেন এমন অভিযোগেও মুসলিম আরেক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।