দিল্লির মাঠ কাপালেন শ্যামনগরের ক্ষুদে ফুটবলার হাবিবুর আর রাকিবুল হাসান


468 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দিল্লির মাঠ কাপালেন শ্যামনগরের ক্ষুদে ফুটবলার হাবিবুর আর রাকিবুল হাসান
অক্টোবর ৮, ২০১৬ খেলা ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

শ্যামনগর প্রতিনিধি ॥
দিল্লির আহম্মেদকার মাঠ কাপালেন, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সর্ব দক্ষিনের শ্যামনগরের ক্ষুদে দুই  ফুটবলার। দারিদ্রতাকে হার মানিয়ে তারা এখন দেশ সেরা।
ভারতের সুব্রত কাপ চ্যাম্পিয়ান হয়ে নিজ এলাকা শ্যামনগর উপজেলার গ্রামের বাড়িতে এসেছেন অনুর্ধ ১৪ বিকেএসপির প্লেয়ার হাবিবুর রহমান ও রাকিবুল ইসলাম।
তারা জানান, বর্তমান জাতীয় দলের ফুটবলার আলমগীর কবির রানার নিজ উদ্দ্যোগে প্রতিষ্ঠান শ্যামনগর ফুটবল একাডেমীতে কোচার আক্তারুজ্জামানের কাছে তারা খেলা শেখেন। জাতীয় খেলোয়ার শ্যামনগরের আলমগীর কবির রানার সহযোগিতায় তারা বিকেএসপিতে খেলার সুযোগ পান।
হাবিবুর রহমান উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ গাজীর পুত্র । ব্যাপক দারিদ্রতার কবলে থাকার পরও বাবা মায়ের মুজুরির টাকায় শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্ন পুরন হতে চলেছে। হাবিবুর নিজের পাশাপাশি বাবা মায়ের স্বপ্ন পুরন করতে চলেছে। তবুও তাদের পাশে দাড়ানো আমাদের কর্তব্য। দিন মুজুর করে না খেয়ে হাবিবুর কে সাহায্য করে যাচ্ছে এক ক্ল্যান্ত বাবা। হাবিবুর ভারতের দৃশ্যমান দিল্লির আহম্মেদকার মাঠে সাতটি ম্যাচে পাচটি খোল দিয়ে নিজের স্থানকে শীর্ষে নিয়ে যায়।
এদিকে রাকিবুল ইসলাম একই উপজেলার হায়বাতপুর গ্রামের সাইকেল মিস্ত্রী ফারুক হোসেনের পুত্র। সেও দারিদ্রতার মধ্যে থেকে নিজেকে গড়ার চেষ্টা করছে। তাকে ও তারা বাবা মা অতি কষ্টের মধ্যে সাহায্য করে চলেছেন। তাদের স্বপ্ন পুরন বাবা মা সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ভারত কাপানো হাবিবুর ও রাকিবুল  জানান, ১জন কোচার ও ১জন ম্যানেজার সহ ১৮ সদস্যের একটি টিম ভারতে যান এবং নয়াদিল্লীর আহম্মেদকার স্টুডিয়ামে সুব্রত কাপ টুর্নামেন্ট খেলা শুরু করেন গত ১৫/০৯/২০১৬ ইং এবং শেষ হয় ২৯/০৯/২০১৬ ইং তারিখে। এতে তারা ৭টি দলের সাথে খেলা করে চ্যাম্পিয়ান হয়ে গত ০২/১০/২০১৬ ইং তারিখে বাংলাদেশে আসেন। হাবিবুর রহমান সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে ম্যানঅফদা ম্যাস হন। তিনি বাংলাদেশের ক্রিড়া প্রতিষ্ঠান বিকেএসপির হয়ে ৭টি ম্যাসে ৫টি গোল করে সেরা প্লেয়ারে ক্ষ্যাতি অর্জন করেন । বিকেএসপিতে ১৮ মাস পূর্বে যোগদান করেন হাবিবুর রহমান , ৮ মাস পূর্বে যোগদান করেন রাকিবুল ইসলাম। ২জনই শ্যামনগর উপজেলা সদরের নকিপুর হরিচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল প্লেয়ার তাদেরকে জাতীয় ক্রিড়া সংস্থার পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানাযায়।
দিন দিন খেলাধুলায় সাফল্য অর্জন করায় শ্যামনগরের এই ২ খুদে ফুটবলার ও জাতীয় দলের বর্তমান ফুটবলারকেউ ধন্যবাদ জানিয়েছে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক, সামাজিক ব্যক্তি বর্গ ও ক্রিড়া বিদরা। তারা যাতে দীর্ঘদিন দেশের সুনাম অর্জন করতে পারে এবং এলাকার মুখ উজ্জল করতে পারে তাদের প্রতি দোয়া ও শুভ কামনা রেখেছেন। জানাযায় জাতীয় দলের ফুটবলার আলমগীর কবির রানা শ্যামনগর উপজেলা সদরের হায়বাতপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের পুত্র।
এদিকে জাতীয় দলের ফুটবলার আলমগীর কবীর রানার পাশাপাশি হাবিবুর ও রাকিবুল শ্যামনগর কে আবারও নতুন করে নতুন রুপে চেনাতে সক্ষম হয়েছে।
বিষয়টি জেনে সাতক্ষীরা – ৪ আসনের এম পি এস এম জগলুল হায়দার ও শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আকবর কবীর সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।এছাড়া তাদের সাফল্য অব্যহত থাক একামনাও করনে।