দুদকের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ৮ কর্মচারীর জামিন লাভ


357 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দুদকের মামলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ৮ কর্মচারীর জামিন লাভ
মে ৯, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
দুর্নীতি দমন কমিশনের দুটি মামলায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের ৮ কর্মচারী জামিন পেয়েছে। রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জোয়াদ্দার মো. আমিরুল ইসলাম তাদের অন্তবর্তকালীন জামিন প্রদান করেন। দুদকের পিপি এড. এম এ মোশাররফ হোসেন সিদ্দিক এ তথ্য জানান। জামিন প্রাপ্তরা হলো, জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের রেকর্ড রুমের উচ্চমান সহকারী ও রেকর্ড কিপার পুতুল রানী বৈরাগী, শ্যামল কুমার আচার্য্য, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক জেসমিন নাহার, সার্টিফিকেট সহকারী মো. সামছুজ্জামান, ভিপি শাখার অফিস সহকারী আফসার উদ্দীন,  ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার শামীমা আক্তার, অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক সেলিমা সুলতানা। তবে অভিযোগপত্র দাখিলের ৩ বছর পরেও জেলা প্রশাসন উক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুদকের পিপি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শ্যামনগরের লক্ষিখালীর আব্দুল মজিদ সরদার, ওয়াজেদ সরদার, মোহাম্মদ আলী সরদার, কাশিমাড়ির আব্দুর রাজ্জাক গাজী, আশাশুনির গদাইপুরের সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, পিরোজপুরের আবুল কালাম, খুলনার বাগমারা নিউ রোডের রনজিত কুমার সরকার, ডুমুরিয়ার কুড়াকাটা দক্ষিণ পাড়ার তারাপদ সানা ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের এমএলএসএস শেখ মাহবুবুর রহমান পরস্পর যোগসজগে জালিয়াতির মাধ্যমে জেলার শ্যামনগর উপজেলার পার্শেমারি মৌজার এস এ খতিয়ান ১০৪ ও ১৯৪ এর নাম পত্তন মামলা ১৫৮/৬৫-৬৬ ও ১৬৩, ৬৫-৬৬ এর প্রজাদের নাম ও অংশ কর্তন করে লক্ষিদাড়ির খতেজান বিবি’র নামে ৭.৩৮ একর জমির রেকর্ড সংশোধন করে। উক্ত নামপত্তন মামলায় বাদী, বিবাদী এবং জমির পরিচয়ের ক্ষেত্রে মূল খতিয়ানে জমির বাদী-বিবাদীর নামের সাথে মিল পাওয়া যায়নি। ফলে জালজালিয়াতির মাধ্যমে জাগজপত্র তৈরি করেন আসামীরা। অন্যদিকে উক্ত আসামীরা একই সাথে শ্যামনগরের শাকিমাড়ি গ্রামের আশরাফ আলী গাজী, আব্দুস সালাম মোল্লার নামে আরো ১২.৮৩ একর জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ড করে। এ দুই ঘটনায় খুলনা জোনের সিআইডি সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তফা আব্দুল হালিম ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালের ৮ মে দুদকের উপ সহকারী পরিচালক এ ঘটনায় মামলা দুটি খুলনা দুর্র্নীতি দমন কমিশনের উপ সহকারী পরিচালক এ বি এম আব্দুস সবুর তদন্তভার পান। তিনি তদন্ত করে ২৫ মার্চ ২০১৩ দুটি মামলার চার্জসীট আদালতে দালিখ করে। ৭.৩৮ একর জমির রেকর্ড সংশোধন ( থানার নং ৭৩/০৬) মামলায় শ্যামনগরের লক্ষিদাড়ি গ্রামের আব্দুল মজিদ সরদার, ওয়াজেদ সরদার, মোহাম্মদ আলী সরদার, কাশিমাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক গাজী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এমএলএসএস শেখ মাহবুবুর রহমান, উচ্চমান সহকারী পুতুল রানী বৈরাগী, অফিস সহকারী শ্যামল কুমার আচার্য্য, জেসমিন নাহার, সার্টিফিকেট সহকারী সামছুজ্জামান ও অফিস সহকারী আফছার উদ্দীনকে আসামী করে চার্জসীট প্রদান করে। অন্যদিকে ১২.৮৩ একর জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ডের মামলায় (থানা নং ৭৪/০৬) শ্যামনগরের কাশিমাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক গাজী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এমএলএসএস শেখ মাহবুবুর রহমান, রেকর্ড কিপার (ভারপ্রাপ্ত) শামীমা আক্তার, অফিস সহকারী শ্যামল কুমার আচার্য, জেসমিন নাহার, সেলিনা সুলতানা, আফসার উদ্দীন ও এমএলএসএস হোসেন আলীকে আসামী করে চার্জসীট প্রদান করে। উক্ত সরকারী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় জালিয়াতি করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
সূত্র জানায়, সরকারি কমকর্র্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় চাজীসীট প্রদান করা হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান থাকলেও উক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের দুইটি শাখার প্রধান অফিস সহকারী বরখাস্ত না করার নেপথ্যে কাজ করেছে। তারা উক্ত ৮ কর্মচারীদের নিকট থেকে মাসোহারা নিয়ে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ধামাচাপা দিয়েছে বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রবিবার মামলার ধার্য্যদিনে জেলা প্রশাসনের ৮ কর্মচারী আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন প্রদান করে। দুদকের পিপি এড. এম এ মোশাররফ হোসেন সিদ্দিক জানান, আদালত সরকারি কর্মচারীদের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছে। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে আদালতের চার্জসীট গঠনের পরে কোন সরকারি কর্মচারীকে বরখাস্থের বিধান থাকলেও উল্লেখিত আসামীদের বেলায় তা হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।