দুদক চেয়ারম্যানের শিক্ষক শুভেন্দু রায়ের বসতবাড়ি জবর-দখল !


262 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দুদক চেয়ারম্যানের শিক্ষক শুভেন্দু রায়ের বসতবাড়ি জবর-দখল !
মার্চ ৬, ২০২০ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিনিধি :
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের বাল্য শিক্ষক, আশাশুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মৃত শুভেন্দু রায়ের বসতবাড়ি জবর দখল হয়ে গেছে। তার শেষ ইচ্ছা ‘ভবনটিকে পাঠাগার হিসাবে প্রতিষ্ঠা’র কাজটিও বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছেনা।

সর্বজন শ্রদ্ধেয়, শান্তশিষ্ট স্বভাবের শিক্ষাগুরু শুভেন্দু রায় চাম্পাফুল ইউনিয়নের সাইহাটি মৌজায় ৩৯১ নং খতিয়ানে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। কাঠের বেড়া, খোলাদিয়ে ছাউনি ৮ চলাবিশিষ্ট একটি ঘরে ছিল তার বসবাস। ২১২ দাগে বাড়ি হিসাবে ২০ শতক ও ২১৩ দাগে বাগান হিসাবে ১৩ শতক মোট ৩৩ শতক জমি তার নামে রেকর্ডও হয়েছে। ৩৩ শতক জমির মধ্যে তাকে দেখাশুনা করার কারনে অঞ্জনা অধিকারীকে ৫ শতক লিখে দেন এবং নিমাই দেবনাথের কাছে ২২ শতক বিক্রয় করেন। বাকী ৬ শতক জমিতে তিনি বসবাস করতেন। এই বাড়িতেই তিনি শেষ জীবন পর্যন্ত বসবাস করেছেন। তিনি আশাশুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতাকরাকালীন বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাহেবের শিক্ষক ছিলেন।

ইকবাল মাহমুদ সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালীন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের বসবাসের ঘরের অবস্থা অবহিত হয়ে চলনসই পাকা এককক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ঘর নির্মানের ব্যবস্থা করেন। যেখানে শিক্ষকের ইচ্ছামত একটি পাঠাগার স্থাপন করে এলাকার জ্ঞানপিপাসু মানুষের উপকারে আসার প্রত্যাশা ছিল। ২০১২ সালে ২৮ নভেম্বর তিনি (শিক্ষক শুভেন্দু) মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে ১৮/১১/১১ তারিখে তিনি তার কন্যা সাকিলা খাতুন ওরফে অঞ্জনা রায়কে চিঠি লিখে বাড়িতে ডেকেছিলেন। চিঠিতে “ঢাকা থেকে আমার ছাত্র (ইকবাল মাহমুদ সাহেব) আমাকে মোবাইল করেছেন—” উল্লেখ করে সাকিলাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে অনেক কিছু বলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর সাকিলা ওরফে অঞ্জনা পিতার শেষ ইচ্ছামত শেষকৃত্যতে ছিলেন, তার ঘরের সকল দ্রব্যসামগ্রী তার পিস্তুতো ভাই শিক্ষক উদয় ব্যানার্জী, মাস্তুতো ভাই বিশ^জিৎ চক্রবর্তী ও অরুন কুমার ব্যানার্জীকে সাথে নিয়ে মিলেমিশে ঘরে তালা আটকে রাখেন। সাকিলা, বিশ^জিৎ ও অরুন তিনজন তিনটি চাবি রাখেন। পিতার ইচ্ছামত তারা তার বসবাসের ঘরটিকে পাঠাগার করার কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছিলেন। কিন্তু মৃত কোমল অধিকারীর স্ত্রী অঞ্জনা অধিকারী কাউকে কিছু না জানিয়ে উক্ত ঘরের তালা ভেঙ্গে জবর দখল করে নিয়েছেন।

এনিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত ও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শিক্ষক উদয় ব্যানার্জী জানান, তার ঘরটি দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ স্যার ও মুকুল সাহেব করে দিয়েছিলেন। ঘরটিতে লাইব্রেরী করার কথা ছিল। আমরা ঐজমি ভোগদখল করতে চাইনা, সেখানে তার স্মৃতি রক্ষার্থে লাইব্রেরী করতে চাই। সেটি আমরা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হোক আমাদের বাধা নেই। দুদক চেয়ারম্যানের স্যারের জমি ও ঘরবাড়ি জবর দখলের ঘটনায় এলাকার মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে অবৈধ জবর দখল উচ্ছেদ পূর্বক শিক্ষকের ভিটেবাড়ি উদ্ধারের জন্য জন প্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সর্বোপরি দুদক চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী, মৃত শিক্ষকের স্বজন ও ছাত্র-ছাত্রীরা।

কুল্যায় সন্ত্রাসী স্টাইলে মারপিট করে ছিনতাই, আহত-৪

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নে ডলার চক্র সন্ত্রাসী স্টাইলে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে নগদ টাকাসহ ৯৮ হাজার ৫ শ’ টাকার মালামাল ছিনতাই করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় প্রতিপক্ষের আক্রমনে শিশুসহ ৪ জন আহত হয়েছে। একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কুল্যা ইউনিয়নের আইতলা গ্রামের মৃত অহেদ আলি সরদারের পুত্র রবিউল ইসলাম শান্ত বাদী হয়ে থানায় দাখিলকৃত এজহারে জানাগেছে, মহাজনপুর গ্রামের মৃত জাহাবক্স সরদারের পুত্র রেজাউল, মৃত ইঞ্জিল সরদারের পুত্র রহমত, মৃত মুজিবরের পুত্র ইয়াছিন, আঃ রহিমের পুত্র ফজলু, আইতলা গ্রামের আজহারুল, স¤্রাট ও মহাজনপুর গ্রামের ইমরান, শাহিন ওরফে কদম একাধিক মামলার আসামী ও একজন জলদস্যু ও অস্ত্রধারী। ডলার চক্রের ফাঁদে ফেলে তারা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে থাকে। এর প্রতিবাদ করায় তারা বাদীকে মারধর ও খুন-জখম করার ঘড়যন্ত্র করে আসছিল। গত ৩ মার্চ বিকালে তাকে বাড়ির পাশে ইটের সোলিং রাস্তার উপর বাঁশঝাড়ের নিচে ফাঁকা পেয়ে গালিগালাজ এবং নজুকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিস কেন জানতে চেয়ে কোমর হতে পিস্তল বের করে মাথায় আঘাত করতে যায় এবং বেদম মারপিট ও গলায় ফাঁস আটকে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় তার স্ত্রী নাছিমা ও ভাবি মোমেনা খাতুন এগিয়ে গেলে তাদেরকেও বেদম মারপিট, শ্লীলতাহানি, স্বর্ণাংকার ছিনতাই ও কোল হতে শিশু পুত্র নাছিম (৩) কে টেনে নিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। ফলে নগদ টাকাসহ ৯৮ হাজার ৫শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্বাক্ষীরা এগিয়ে গেলে জীবন নাশের হুমকী দিয়ে আক্রমনকারীরা কেটে পড়ে। গুরুতর আহত রবিউলকে আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

#

আশাশুনিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি : কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান রাসেল ও বেগমগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা রাকিবের হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জনতা ব্যাংক চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসমাউল হুসাইনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-সম্পাদক মিজানুর রহমানের উপস্থাপনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়হান সাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুন ইসলাম, আশাশুনি সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান তাজ, সেক্রেটারি তানভীর রহমান রাজ, যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম ও রানা। এসময় ছাত্রলীগ নেতা এমডি রাসেল, আলামিন হোসেন, সুমন, শাহরুল, শান্ত ও মিজান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন শ্লোগান সহকারে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।