জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করবেন হাসিনা-মোদি


306 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করবেন হাসিনা-মোদি
আগস্ট ৩০, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও আরো ভালো জীবনমান নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে এই ঐকমত্য প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এই কথা জানান। দুই নেতাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, তারা বলেছেন, ‌‘আমরা আমাদের দুই দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখতে চাই।’

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ইহসানুল করিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরাএই বন্ধুত্ব নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।’

সাতজাতি গ্রুপের ভবিষ্যৎ নিয়ে উচ্চাশা প্রকাশ করে দুই নেতা বলেন, ‘আমরাপারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাই। এতে করে বিমসটেকের সব সদস্য-দেশ লাভবান হবে।’

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ও পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিমসটেক নেতারা হায়াত রিজেন্সি হোটেলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির দেওয়া নৈশভোজে যোন দেন।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-নেপাল: বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহায়তা বাড়াতে একমত হয়েছেন বাংলাদেশ ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী। চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে কাঠমান্ডু সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৃহস্পতিবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বৈঠকে এই সম্মতি এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। বৈঠকে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ও এই ইস্যুতে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জোর দেওয়া ছাড়াও তারা জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।’

ইহসানুল করিম বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং এই ইস্যুতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেপালের সমর্থন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং জানান, নেপালের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে গভীরভাবে মূল্যায়ন করে ঢাকা। উভয় দেশের জন্য দুই প্রতিবেশীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ বলেও উলেল্গখ করেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, এই অঞ্চল থেকে দারিদ্র্য দূর করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা শুধু আমাদের দেশের উন্নতি চাই না, আমরা চাই আমাদের প্রতিবেশীরাও উন্নত হোক।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নেপালকে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। এছাড়া কাঠমান্ডুর সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বিনিময়েরও প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহায়তার সুযোগ বাড়ানো উচিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আরও যোগাযোগ বাড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক ও নেপালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসফি বিনতে শামস দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময়ে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাওয়াল, পররাষ্ট্র সচিব শঙ্কর দাস বৈরাগিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভুটান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: ভুটানের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দাসো তাসেরিং ওয়াংচুকের সঙ্গেও একই স্থানে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব।

বৈঠকে ভুটানের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভুটানের সংবিধান মোতাবেক পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়েছে আর নতুন সরকার আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে শপথ নেবে।

দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই নেতা। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরালো করারও আশা প্রকাশ করেন তারা। বৈঠকে বাংলাদেশের বিক্রমপুর সফরের কথা স্মরণ করেন ভুটানের প্রধান উপদেষ্টা।