‘মায়ের হাতে রান্না দেশী মুরগী আর ভুনা খিচুড়ি খুবই পছন্দ মোস্তাফিজের’


2564 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘মায়ের হাতে রান্না দেশী মুরগী আর ভুনা খিচুড়ি খুবই পছন্দ মোস্তাফিজের’
জুন ১, ২০১৬ খেলা জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এম কামরুজ্জামান, মোস্তাফিজের গ্রামের বাড়ি থেকে ফিরে :
ক্রিকেট দুনিয়ার সাড়া জাগানো তারকা কাটার মাস্টার ‘দ্য ফিজ’ মুস্তাফিজ তার নিজের কেনা জাম কালারের এলিয়ন প্রাইভেট গাড়িতে করে বাড়িতে ফেরেন মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে।

রাতে বাসায় ফিরে মায়ের হাতের রান্না পুইশাক, রুইমাছ ঝোল, মুরগির মাংশ, ডাল দিয়ে রাতের খাওয়া শেষ করেন। এরপর পরিবারের সদস্যদের সাথে একান্ত সময় কাটান মুস্তাফিজ। গল্প করেন ভারত সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। এরপর রাতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন তখন ঘড়ির কাটা ঠিক তিনটা। অনেক পরিশ্রমের পরের ছুটির ঘুম। সঙ্গত কারনেই বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরিই হয়েছে। বেলা ১১ টার দিকে ঘুম ভাঙে মুস্তাফিজ এর। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হন তিনি।

সোয়া ১২টার দিকে বাড়ির বাইরে আসেন ‘দ্য ফিজ’। অপেক্ষমান মিডিয়া কর্মীদের ক্যামেরা দেখে একটু অপ্রস্তুত হন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন, মা-বাবাকে পেয়ে কেমন অনুভুতি ? জানালেন খুবই ভাল লাগছে। প্রায় দুই মাস পরে বাবা-মাকে দেখছি। আগে কখনও মা-বাবাকে রেখে এতদিন টানা বাইরে থাকা হয়নি। যে কারনে খুবই ভাল লাগছে। এরপর সভাব সুলভ ভঙ্গিতে হা-না, হা-না বলে দ’ুএকটি কথা বলেই ঢুকে যান ঘরের মধ্যে।

received_964135377037090

পরে মুস্তাফিজ এর ইউনিয়ন তারালী  ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক ছোট কয়েক জন মিডিয়া কর্মীর সাথে নিয়ে বাড়িতে আসেন। তার অনুরোধে আবারও কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে আসেন মুস্তাফিজ। অনেকের সাথে সেলফি তোলেন। সাংবাদিকদের অনুরোধে কয়েক জনকে অটোগ্রাফও দেন কাটার মাষ্টার মোস্তাফিজ। মিডিয়া কর্মীরা জানতে চান রাতে এসেই কি দিয়ে ভাত খেলেন, হেসে ফেললেন মোস্তাফিজ। বললেন, রাতে বাসায় ফিরে মায়ের হাতের রান্না পুইশাক, রুইমাছ ঝোল, মুরগির মাংশ, ডাল দিয়ে রাতের খেয়েছি। মা তো জানে আমি দেশি মুরগির মাংস ও খেচুড়ি পছন্দ করি। তবে ক্রিকেট অঙ্গন নিয়ে  তেমন কোন কথা বলতে রাজি হননি কাটার মাষ্টার মোস্তাফিজ।

বুধবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হয়েছে। তাই মা মাহমুদা খাতুন বুধবার দুপুরে রান্না করেছেন, দেশি মুরগী, ভুনা খিচুড়ি। সাথে আছে দু’তিন ধরনের পিঠা। যেসব খাবার সব সময় তার পছন্দ।

আইপিএল-এ প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ ও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এক কথায় বলেন, খুব ভাল। বাংলা ভাষা সম্পর্কে বলেন, অনেকে তার কাছ থেকে বাংলা শিখেছে। যারা বাংলা জানতো না তারা এখন ছোট ছোট বাংলা বলতে পারে। তার সাথে বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করে। এর বাইরে আর কিছু বলতে চাননি তিনি।

মুস্তাফিজের বাবা আবুল কাশেম গাজী জানান, মুস্তাফিজ এখন আর আমার একার সন্তান নয়। মুস্তাফিজ এখন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের সন্তান। প্রধানমন্ত্রী তাকে যে জাতীয় বীর উপাধি দিয়েছেন এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং তিনি তার সন্তানের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৬০ দিন ভারতে আইপিএল খেলে শুধু মুস্তাফিজের দল হায়দারবাদ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি যেমন গর্বিত, তেমনি বাংলাদেশও আজ গর্বিত। আগামীতে মুস্তাফিজ যেন আরো ভাল খেলা করে বাংলাদেশের মুখ উজ্বল করতে পারে সেজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
20160601_104422

মা মাহমুদা খাতুন বলেন, ওর জন্য দুপুরে দেশি মুরগী ও খিচুড়ি রান্না করেছি। ও দেশি মুরগি খেতে খুব পছন্দ করে। আর মুস্তাফিজ বলেন, আমার মা যা রান্না করে তাই ভাল লাগে।

এদিকে, সকালে যে ব্যাংকে মুস্তাফিজ এর জীবনের প্রথম একাউন্ট সেই জনতা ব্যাংক এর উজিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক শেখ শামীম আহমেদ এর নেতৃত্বে ব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল আসেন তার সাথে দেখা করতে। ফুলের তোড়া আর মিষ্টি নিয়ে আসেন তারা।

এরপর দেশের অন্যতম পানীয় কোম্পানী কোক এর পক্ষ থেকে তার পরিবারের জন্য একটি রেফ্রিজারেটর উপহার দেন, কোকাকোলা কোম্পানির সাতক্ষীরা জোনের রিসোর্স অফিসার হাবিবুর রহমান। যাদের সাথে একটি বিজ্ঞাপনে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মুস্তাফিজ।

যার হাত ধরে মুস্তাফিজ এর ক্রিকেটের হাতেখড়ি মুস্তাফিজের সেঝ ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টু বলেন, বিসিবি’র নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওরজন্য বাড়ি থেকে বের হওয়া এখন সমস্যা। এত লোকজনের চাপ ওর খুব কষ্ট হচ্ছে।

20160601_112715

মোস্তাফিজের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক ছোট। তিনি জানালেন, আমাদের মোস্তাফিজ দেশের সুনাম বিশ্বের বুকে ছড়িয়েছে। এজন্য আমরা গর্বিত। আমি মোস্তাফিজের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজন্য এখন গর্ববোধ করি। মোস্তাফিজের এলাকা বেশ অবহেলিত। তার এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট। বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক এলাকার রাস্তা-ঘাট এখনও কাঁচা। তার দাবি মোস্তাফিজ যেভাবে বিশ্বের বুকে আলো ছড়িয়েছে সেভাবেই যেনো মোস্তাফিজের এলকায় উন্নয়নের আলো ছড়ানোর ব্যবস্থা করেন শেখ হাসিনা সরকার। এ সময় মুখ নেড়ে সমর্থন জানান  ‘দ্য ফিজ’ মুস্তাফিজ।