দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে : ড. ইফতেখারুজ্জামান


298 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে : ড. ইফতেখারুজ্জামান
ডিসেম্বর ৯, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জনগণকে বাদ দিয়ে কখনও কোনো দেশে দুর্নীতিকে রোধ করা যায় না। এ কারণে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশ্বের ৬৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ৯৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছে।

রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবস-২০১৮’ উপলক্ষে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনে টিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যারা উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজ তাদের বিরুদ্ধে দুদকের তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করার দৃষ্টান্ত নেই। এই কারণে আমরা উদ্বিগ্ন। এছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সহায়ক পরিবেশ রয়েছে। একজন পরিবহন শ্রমিক নেতা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা পালন করা হয়নি।

তিনি বলেন, এশিয়ার মধ্যে দুর্নীতির বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। আমাদের আগে রয়েছে শুধু আফগানিস্তান। এছাড়া দেশের প্রশাসনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাই।

বাংলাদেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে উল্লেখ করে টিআইবির প্রধান নির্বাহী বলেন, ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে দেশের মানুষের বাক-স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এসব কালো আইন বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

এ সময় দুর্নীতি প্রতিরোধে ১০ দফা সুপারিশ করে টিআইবি। সেগুলো মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক গণতন্ত্র ও সুশাসনের বিদ্যমান ঘাটটিতে পূরণে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার এবং কিভাবে বাস্তবায়িত হবে তার সুনির্দিষ্ট রুপরেখাও থাকতে হবে; নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব কমাতে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণ করতে হবে; সরকারি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’ এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করা; ঋণ খেলাপিতে জর্জরিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি এবং বেসরকারি ব্যাংকের নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় পেশাদারি উৎকর্ষ ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও পরিপূরক কৌশল গ্রহণ করা; সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগে যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; তথ্য অধিকার আইনে ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং আইনের বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তথ্য প্রকাশকারী ও তথ্য চাহিদাকারী- উভয় ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে; দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।