‘দুর্নীতির প্রমাণসহ সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে বাধা নেই’


300 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘দুর্নীতির প্রমাণসহ সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে বাধা নেই’
অক্টোবর ২৫, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ঘুষ, দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে সদ্য সংসদে পাস হওয়া ‘সরকারি চাকরি বিল’ বাধা হবে না বলে মনে করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

‘সরকারি চাকরি বিল, ২০১৮’ সংসদে পাস হওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ঘুষ, দুর্নীতি সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধের অংশ হতে পারে না। বেআইনিভাবে এই কাজ যদি সরকারি কোনো কর্মচারী করে সেটি হবে তার ব্যক্তিগত বিষয়। এ ক্ষেত্রে ঘুষ, দুর্নীতির প্রমাণসহ সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারে দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য কোনো সমস্যা হবে না।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সদ্য পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ত অভিযোগে দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় আদালতে চার্জশিট গৃহীত হওয়ার আগে ওই কর্মচারীকে গ্রেফতার করতে হলে সরকার বা তার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি বা অন্য কোনো আইনি কার্যধারা বিচারাধীন থাকলে, বিচারাধীন এক বা একাধিক অভিযোগের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা দায়ের বা নিষ্পত্তির ব্যাপারে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।

বিলটি পাসের আগে সংসদে বিরোধী দলের একাধিক সদস্য বলেছেন, এই বিল সংবিধান পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে বেআইনিভাবে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে আইন ভাসাম্যহীন হয়ে পড়বে, যা রাষ্ট্রে বৈষম্যের সৃষ্টি করবে। এসব বক্তব্যের পরও বিলটি পাস করা হয়।

দুদক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে সংগঠিত ফৌজদারী অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। এই বিষয়টি বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘ঘুষ খাওয়া কি সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ? নিঃসন্দেহে এই অনৈতিক ও বেআইনি কাজ সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হতে পারে না। সেক্ষেত্রে ঘুষ, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মচারীদের গ্রেফতারে কোনো বাধা নেই।’

এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি মনে করে, আসামির পালানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে ওই আসামি যেই হোক না কেন তাকে গ্রেফতার করা হবে। আইনটি পাস হওয়ায় দুর্নীতিবাজদের খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। যারা খুশি হবে, তারা ইন্টেলিজেন্ট লোক নয়। কারো খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। গ্রেফতারে কোনো অসুবিধা হবে না।’

পাস হওয়া আইনটি দুদক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, তিনি আইন বিশেষজ্ঞ নন। তবে তিনি এইটুকু বোঝেন, যে ঘুষ খাবে তাকে ধরতে দুদকের কোনো অসুবিধা হবে না।

তিনি বলেন, ‘কোনো দেশে এমন কোনো আইন হয় না যে, সেই আইনে ঘুষ খাওয়া ভালো, মিথ্যা কথা বলা ভালো— কথাগুলো উল্লেখ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ধরেই নিতে হবে যে ঘুষ খেয়েছে তাকে ধরা হয়েছে।’

ফাঁদ পেতে ঘুষখোর ধরা চলবে কি-না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সবই চলবে। কোনো কিছুইতেই সমস্যা হবে না। দুদকের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য এই আইন তৈরি করা হয়নি। কোনোভাবেই দুদকের ক্ষমতা খর্ব হবে না। যারা ঘুষ খায়, দুর্নীতি করে তাদের উৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।