দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি


214 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
জানুয়ারি ৯, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

নতুন সরকারের মন্ত্রীদের দায়িত্বভার গ্রহণকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয় ছিল উৎসবমুখর। প্রতিটি ভবনের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে বসেছিল উল্লাসের হাট। ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মন্ত্রীরা।
গতকাল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অধীন অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং নতুন মন্ত্রীদের এলাকার দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের ভিড়ে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না বিভিন্ন মন্ত্রীর কক্ষ ও আশপাশের করিডরগুলোতেও। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অনেকেও আসেন রাজনৈতিক সতীর্থদের শুভেচ্ছা জানাতে। ফুলের পাশাপাশি মিষ্টি, কেক ও চকলেট নিয়েও আসেন কেউ কেউ। অভ্যাগতদের গাড়ির চাপে সচিবালয়ের ভেতরের সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কগুলো চালু রাখতে পুলিশ সদস্যদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। ছিল না গাড়ি পার্কিংয়ের কোনো ফাঁকা জায়গা। ভিআইপি ও আগত দর্শনার্থীদের অনেককেই সচিবালয়ের বাইরে গাড়ি রেখে আসতে দেখা যায়। নবনিযুক্ত ৪৭ মন্ত্রীর বেশিরভাগই গতকাল নিজ নিজ দপ্তরে বসেন। সচিবালয়ের বাইরেও কোনো কোনো মন্ত্রী নিজের দপ্তরে বসেন। প্রথম দিন তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হন। খোঁজখবর নেন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে।
সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস পর গতকাল প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে মন্ত্রণালয়গুলোতে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন অনেক মন্ত্রীই বলেছেন, নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত (পাঁচ বছর) তারা কাজের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে চান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে চান। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অন্তত আটজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করবেন তারা। নিজ নিজ মন্ত্রণালয় দুর্নীতিমুক্ত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল দুর্নীতি দমন। মন্ত্রীরা বলেছেন, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তারা সচেষ্ট থাকবেন।
সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নানা চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন মন্ত্রীরা। তাদের বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ আরও যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- মন্ত্রণালয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা, কঠোর হাতে জঙ্গিবাদ দমন করা, দুর্নীতিমুক্ত ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, বিদেশে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা, নতুন অর্থনৈতিক কূটনীতি চালু করা, দেশের অঞ্চলভিত্তিক বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জনপ্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা, ভুঁইফোঁড় অনলাইন পত্রিকা বন্ধ করাসহ বিভিন্ন বিষয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষা করছিলেন সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রীরা। দুপুরে তারা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে আসেন। বেশিরভাগ মন্ত্রী আসেন সরকারি গাড়িতে। কেউ কেউ আসেন নিজ গাড়িতেও। একজন প্রতিমন্ত্রী সরকারি গাড়িতে না গিয়ে মোটরসাইকেলে চড়ে প্রথম দিন অফিসে যান। তাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য সচিবরা অধীনদের নিয়ে ভবনের নিচতলায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। মন্ত্রী এলে তাকে বর্ণাঢ্য ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেন, অথচ এবারই প্রথম মন্ত্রী হয়েছেন, এমন মন্ত্রীদের মন্ত্রণালয়ের লোকজন পথ দেখিয়ে নিজ দপ্তরে নিয়ে যান। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয়পর্ব শেষে সভা করেন তারা। কেউ কেউ আবার কিছুক্ষণ অবস্থান করে অন্যখানে চলে যান। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের লিফটগুলোর সামনেও ছিল সুদীর্ঘ লাইন। মন্ত্রীরা গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন। নিজেদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারা। এরপর দিনভর অভ্যাগতদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ছবি তোলার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন তারা। মন্ত্রীদের নিয়ে সেলফি তোলেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
সড়ক পরিবহন ও সেতু :সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি ও মাদক দমনে সময় লাগবে। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দুর্নীতি ও মাদক দমনে সিরিয়াস। এসব বিবেচনায় নিয়েই তিনি মন্ত্রিসভা সাজিয়েছেন।
তিনি জানান, তারা বিচারহীনতার সংস্কৃতির মধ্যে নেই। অপরাধ যে-ই করুক, বিচার হবে। এবার তারা সুশাসনের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হবেন। এসব বিবেচনায়ই নতুন মন্ত্রিসভা দেওয়া হয়েছে।
কৃষি :কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, সরকার পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধান নিয়ামক খাদ্য নিরাপত্তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কৃষিকে লাভজনক করা, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই ভিশন বাস্তবায়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করা বা তাতে অংশ নেওয়া যে কোনো রাজনৈতিক দলের অধিকার। তবে আন্দোলনের নামে বিএনপি যদি কোনো নাশকতার চেষ্টা করে, তা হলে শক্ত হাতে দমন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দ্বিতীয়বারের মতো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য :সবার সহযোগিতা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘ভুঁইফোঁড়’ অনলাইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নতুন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম কর্মদিবসে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারনেট গ্রাহক ব্যাপক বেড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। এই সুযোগে অনেক ভুঁইফোঁড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন মনগড়া খবরও ছড়াচ্ছে। তাই এসব অনলাইন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার :স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগতমান এবং লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করা হবে। দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে চমক থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করলে দেশ সুষম উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে। জনসংখ্যাকে দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্ত করে জনসম্পদ হিসেবে ব্যবহার করলে ২০৪১ সালের আগেই এ দেশ সোনার বাংলায় পরিণত হবে। এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা :শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি দূর করে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা ও ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষার মানোন্নয়নে যেখানে পরিবর্তন, পরিবর্ধন করতে যা কিছু করা প্রয়োজন তা করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গত ১০ বছরে য বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে, সেই সফলতাগুলোকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা করব। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে, শিক্ষা খাতের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের উদ্যোগগুলো নিয়ে যে কাজ চলছে, সেই কাজ আরও এগিয়ে নিতে কাজ করব। দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার পাশে ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
উপমন্ত্রী নওফেল জানান, জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্ষমতা নয় দায়িত্ব’। সেই দায়িত্বশীল আচরণ তারা সকলেই করবেন।
পৃথক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন নিজ মন্ত্রণালয়ে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে বৈষম্য দূর করার চেষ্টা চালানো হবে। এ ছাড়া নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করব। প্রাথমিক স্তরে ঝরেপড়ার হার শূন্য কোটায় নামিয়ে আনা হবে। দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপমুক্ত করা হবে।
পররাষ্ট্র :দায়িত্ব নিয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন বলেছেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার প্রধান লক্ষ্য দুটি। একটি হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করা এবং আরেকটি আঞ্চলিক সম্পর্ক বাড়ানো। তিনি পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয় অংশীদারিত্বের প্রতি জোর দেবেন। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন। এ সময় দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ওপর বিদেশিদের আস্থা তৈরি হয়েছে। এই আস্থাকে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করবেন।
বস্ত্র ও পাট :বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী শপথের পর প্রথম কর্মদিবসে এসে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, আগের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যেসব কাজ অসমাপ্ত রেখে গেছেন, উন্নয়নের স্বার্থে সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব সমাপ্ত করা হবে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সদ্য বিদায়ী মন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ও সচিব মো. মিজানুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম দস্তগীর বলেন, বর্তমান সরকার অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সেগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে ও জনগণের কাছে এর সুফল পৌঁছে দিতে এখন জরুরি দরকার সুশাসন।
স্বাস্থ্য :নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, অসংক্রামক ব্যাধি ক্যান্সার ও কিডনি রোগ চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে অসংক্রামক রোগ বিশেষ করে ক্যান্সার ও কিডনি রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এ কারণে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার কিডনি রোগ চিকিৎসায় পৃথক ইউনিটও করা হবে।
খাদ্য :১৯৭৬ সাল থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলেও খাদ্য ব্যবসায়ী নই। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত :দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তা অবশ্যই হবে আইনের মধ্যে থেকেই। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, অপ্রিয় হলেও সত্য, এই মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে গণঅভিযোগ রয়েছে। কেন আরও গতিশীল হতে পারলাম না, কেন আরও স্বচ্ছ হতে পারলাম না, আরও বেশি মানুষের প্রয়োজন কেন মেটাতে পারলাম না-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন :পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ও উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার বলেছেন, বর্তমানে পরিবেশ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। একটি টিমওয়ার্ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর অর্পিত দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের সবাই মিলে পালন করব। এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই।
ভূমি :’যে কোনো মূল্যে ভূমির দুর্নীতি দূর করা হবে। ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের মাধ্যমে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা হবে। এই খাতে মানুষের হয়রানি ও ভোগান্তি বন্ধ করা হবে।’ দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নতুন দায়িত্ব পাওয়া ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
রেল :রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, ‘রেলে দুর্নীতি- অনিয়মের অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি মন্ত্রী হয়েছেন।’ গতকাল দুপুরে রেল ভবনে যান নতুন মন্ত্রী। সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নির্দেশ দিয়েছেন দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে তিনি কঠিন থেকে কঠিনতর হবেন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি :মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এদিন আগারগাঁওয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ভবনে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় দ্বিতীয় মেয়াদে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া জুনায়েদ আহমেদ পলককেও স্বাগত জানান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মোস্তাফা জব্বার বলেন, এ মেয়াদে তার লক্ষ্য হবে ২০২১ সালের মধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শেষ করা। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অবকাঠামো তৈরি। এখন জনগণের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার পালা। প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা চান।
প্রবাসী কল্যাণ :প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেছেন, জনশক্তি রফতানিতে সিন্ডিকেট হতে দেবেন না। অভিবাসন ব্যয় কমানো তার প্রধান লক্ষ্য। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক যেসব চাপ আসবে, তা তিনি মোকাবেলা করবেন। কর্মকর্তাদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিদ্যুৎ :বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, তিন মাসের মধ্যে পরিকল্পনা করে পরের সাড়ে চার বছরে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে কাজের ক্ষেত্রে তারা এক নম্বর ছিলেন, এক নম্বরেই থাকতে চান। এবার জ্বালানিতে বেশি সময় দেবেন বলে জানান দ্বিতীয়বারের মতো এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী।
জনপ্রশাসন :জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসনকে অত্যন্ত গতিশীল, দক্ষ ও জনবান্ধব করতে চান। যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ পর্যন্ত জনপ্রশাসনের সেবাগুলো সহজ ও সাবলীলভাবে পেতে পারেন। সে জন্য সরকারের আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা আছে। সেটা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। এ জন্য জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলব। গতকাল নিজ দপ্তরে এসে এসব কথা বলেন তিনি।
পানিসম্পদ :পানিসম্পদ প্র্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, বন্যা এবং নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা সহমর্মিতার সঙ্গে ভেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। গতকাল পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে তার প্রথম কর্মদিবসে মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রধানমন্ত্রীর সোনার বাংলা গড়তে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের কাজ করতে হবে।
সংস্কৃতি :সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ তার মন্ত্রণালয়কে শ্রেষ্ঠ মন্ত্রণালয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রাধিকার তালিকা করে দ্রুততার সঙ্গে সেগুলো সম্পন্ন করব। আমাদের সামনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ষ রয়েছে। সেটি হলো- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন। এ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
বিমান ও পর্যটন :বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেছেন, বিমান ও বিমানবন্দর একটি দেশের ড্রয়িংরুম ও গেটওয়ে। তাই এ দুটিকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিপাটি করে তুলতে হবে। বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের বিকাশে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সচিবালয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল।
ধর্ম :ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, হজযাত্রায় আর কোনো অনিয়ম হতে দেব না। হজযাত্রা নিয়ে কোনো কথা হোক সেটা চাই না। হজে গিয়ে আমি নিজেই দুর্ভোগের শিকার হয়েছিলাম। ফলে ভুক্তভোগী হিসেবে আমি জানি সেখানে কী করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।