দুর্যোগ মোকাবিলায় সাতক্ষীরায় সিপিপি’র কার্যক্রম


385 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দুর্যোগ মোকাবিলায় সাতক্ষীরায় সিপিপি’র কার্যক্রম
ডিসেম্বর ১, ২০১৮ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ জাহাঙ্গীর আলম কবীর ॥

‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’ বা সিপিপি বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এর একটি যৌথ কর্মসূচি। ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসের মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুরোধক্রমে তৎকালীন লীগ অব রেডক্রস বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ বাংলাদেশের উপকূলীয় জনসাধারণের জান ও মাল রক্ষার্থে ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা করে। এক বছর যেতে না যেতেই লীগ অব রেডক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ ১ জুলাই ১৯৭৩ থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। উপকূলীয় জনসাধারণ এবং কর্মসূচি গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার এগিয়ে আসে এবং ১ জুলাই ১৯৭৩ থেকে কর্মসূচিটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই থেকে ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি’ সরকার ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর একটি যৌথ কর্মসূচি হিসেবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে Early warning Signal Dissemination, Evacuation, Sheltering, Search & Rescue, First aid & Relief and Rehabilitation এর ক্ষেত্রে সফলতার সাথে কাজ করে আসছে। এর লক্ষ্য হল, উপকূলীয় জনসাধারণের দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা। দুর্যোগে দ্রুত সাড়া প্রদানের জন্য বেতার যোগাযোগ শক্তিশালী করা। আবহাওয়ার সতর্ক সংকেত বোধগম্য ও প্রতিষ্ঠিত এবং ঘূর্ণিঝড় সংকেতের সাথে সস্পৃক্ত জনসাধারণকে কার্যকরী সাড়া প্রদান নিশ্চিত করা।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণাঞ্চ বাংলাদেশের একটি অন্যতম দুর্যোগ প্রবণ উপকূল। বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ূর ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে এখানে দুর্যোগের মাত্রা ও তীব্রতা অনেক বেড়ে গেছে। ফলে আমাদের কষ্টার্জিত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, নদী ভাঙ্গন, টর্নেডো ও ফসলের জমিতে লবনাক্ততা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। আমাদের এ জেলাটি সিসমিক জোনে অবস্থিত হওয়ায় বড় ধরণের ভূমিকষ্পেরও আশঙ্কা রয়েছে। বিপদাপন্নতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই জেলায় সিপিপি’র অধীনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়েছে। তার বিবরণ নিচে দেয়া হল:
সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক: সিডিএমপি-এর আর্থিক সহযোগিতায় ঘূর্ণিঝড় আইলা উপদ্রুত আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায় ২০১৪ সাল থেকে সিপিপির (Cyclone Preparedness Program) কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দুই উপজেলায় সিপিপি অফিস স্থাপন করা হয়েছে। দু’জন উপজেলা টিম লিডার নিযুক্ত করা হয়েছে। ২৪৪টি ইউনিটে ৩৬৬০ জন সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২২০ জন নারী। আশাশুনিতে ১০১টি ইউনিটে ১৫১৫ জন এবং শ্যামনগর উপজেলায় ১৪৩টি ইউনিটে ২১৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, উদ্ধার ও অনুসন্ধান বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। শ্যামনগর ও আশাশুনি ১২টি ইউনিয়ন সিপিপি ইউনিট টিম লীডার ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে দুর্যোগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। স্বেচছাসেবকদের মধ্যে নতুন সাংকেতিক যন্ত্রপাতি ও স্বেচ্ছাসেবক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে রয়েছে ১০ জন পুরুষ এবং ৫ জন নারী। আবার প্রতিটি ইউনিটে রয়েছে ৫টি বিভাগ। বিভাগগুলো হল সংকেত বিভাগ, আশ্রয় বিভাগ, উদ্ধার বিভাগ, প্রাথমিক চিকিৎসা বিভাগ এবং ত্রাণ বিভাগ।
বেসিক যন্ত্রপাতি ও ভলেন্টিয়ার্স গিয়ার: সিপিপি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেয়া হয়েছে সুপার মেগা ফোন, লাইফ জ্যাকেট, রেইন কোর্ট, হ্যান্ড সাইরেন, সিগনাল পতাকা, বাই সাইকেল, সিগনাল পতাকা মাস্ট, হার্ড হেড, ফাস্ট এইড বক্স, উদ্ধার ব্যাগ, রেডিও, টর্চ লাইট, স্ট্রেচার, গাম বুট ও সিপিপি ভেস্ট।
শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার মেশিন, ডিজিটাল ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। সিপিপির অফিসগুলো তথ্য প্রযুক্তির অধীন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে আমেরিকান রেডক্রস এর ইসিপিপ প্রকল্পের অধীনে মাঠ পর্যায়ে কম্পিউটার, ডিজিটাল ক্যামেরা, পেন ড্রাইভ এবং ইউপিএস সরবরাহ করা হয়েছে। এই ইসিপিপি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিপিপির কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদ আদান প্রদান: শ্যামনগরের গাবুরায় ১টি, কৈখালীতে ১টি, পদ্মপুকুরে ১টি, আশাশুনির প্রতাপনগরে ১টি, আনুলিয়ায় ১টি এবং কাদাকাটিতে ১টি VHF (Very High Frequency) Wareless Station এবং উপজেলা অফিস দু’টিতে ১টি করে HF (High Frequency) Wareless Station স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো সাধারণভাবে দিনে দুবার ১ ঘন্টার জন্য চালু রাখা হয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত। ঘূর্ণিঝড় চলাকালিন সময় সন্ধ্যা ৭টায় আরও একবার ১ ঘন্টার জন্য চালু করা হয়। আর দুর্যোগ চলাকালিন সময়ে ঢাকার হেড কোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী চালু রাখা হয়।

জরুরি কিছু মোবাইল ফোন: সিপিপি খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক গোলাম কিবরিয়া- ০১৭১২-৬২৬৬৭৬ ও ফোন- ০৪১-৩০৬৭৪। আশাশুনি অফিস- ০১৯৪৫-৬৩০২১৭। শ্যামনগর অফিস- ০১৭৪১-৫১৭০৮০। আশাশনি উপজেলা টিম লিডার আব্দুল জলিল- ০১৯২১-১০৩৪৮২ এবং শ্যামনগর উপজেলা টিম লিডার শাহিন ভূঁইয়া- ০১৭১৪-৫০৯২০৬। খাজরা ইউনিয়ন টিম লিডার ইয়াকুব আলী- ০১৭২৮-৩৭২৩৫৬ ও ০১৯১৫-১৪৪৪৩৮, প্রতাপনগর ইউনিয়ন টিম লিডার গোলাম উল্লাহ- ০১৯২৩-১৮২১২৭, শ্রীউলা ইউনিয়ন টিম লিডার হাসান উল্লাহ- ০১৭১৮-৯৭৩৫৫০, বড়দল ইউনিয়ন টিম লিডার আল মামুন- ০১৭২১-৫৮৪০৮২, আনুলিয়া ইউনিয়ন টিম লিডার আল মামুন- ০১৯২১-১০৩৪৮২, কৈখালী ইউনিয়ন টিম লিডার সোলাইমান হোসেন- ০১৭২৭-৫২৬৩৬০, রমজাননগর ইউনিয়ন টিম লিডার শেখ মাকসুদুর রহমান মুকুল- ০১৭১৫-৯৯৯০৩৮, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন টিম লিডার জগদীশ মন্ডল- ০১৯৩৩-৩১২১৩৬, বুড়িগোয়ালিনী টিম লিডার সুরেনজিৎ মন্ডল- ০১৯৩৮-৬০৭৬৪৬, গাবুরা ইউনিয়ন টিম লিডার আব্দুল মান্নান খোকা- ০১৯২৮-৭৪৭১৭৩, পদ্মপুকুর ইউনিয়ন টিম লিডার জি এম মহিফুল্লাহ- ০১৯১৫-০৯৬৭৬০ এবং আটুলিয়া ইউনিয়ন টিম লিডার শাহাদাত হোসেন- ০১৭১৯-৫০২১৮৬।

জাহাঙ্গীর আলম কবীর,দৈনিক সাতনদীর নির্বাহী সম্পাদক ও সিএফএসডি ফেলো।