দুর্যোগে লড়তে শিখেছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী


320 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দুর্যোগে লড়তে শিখেছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভযেস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিচক্ষণ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নির্বাহী পরিচালক অ্যাচিম স্টেইনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এই পুরস্কার বাংলাদেশের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের জনগণের ঐকান্তিকতা ও দৃঢ়তার স্বীকৃতি এই পুরস্কার। বাংলার মানুষ শিখেছে দুর্যোগে কীভাবে বাঁচতে হয়, কীভাবে লড়তে হয়।’ এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী এদিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ২০১৫-পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডা গ্রহণের জন্য অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ভাষণ দেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) পূরণে আন্তর্জাতিক মহলকে অর্থ, প্রযুক্তি ও ঋণ কার্যক্রম নিয়ে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসডিজি সফলভাবে পূরণ করতে হলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। খবর বাসস, বিডিনিউজ ও ইউএনবির।

নিউইয়র্ক সময় রোববার সন্ধ্যায় হোটেল সিপ্রিয়ানি লি স্পেসিয়ালিতায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক এই সর্বোচ্চ পুরস্কার তাকে দেওয়া হলো ‘পলিসি লিডারশিপ’ ক্যাটাগরিতে। প্রতিবেশগতভাবে ‘নাজুক অবস্থায় থাকা’ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘সামগ্রিক পদক্ষেপের স্বীকৃতি’ এই পুরস্কার।

পরিবেশ নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর চারটি ক্যাটাগরিতে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কার দিয়ে আসছে ইউএনইপি। চলতি বছর শেখ হাসিনা ছাড়াও ‘ইনসপিরেশন অ্যান্ড অ্যাকশন’ ক্যাটাগরিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বন্যপ্রাণী রক্ষা কর্মীদের দল বল্গ্যাক মামবা এপিইউ, ‘সায়েন্স অ্যান্ড ইনোভেশন’ ক্যাটাগরিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি, ‘এন্টারপ্রেনারিয়াল ভিশন’ ক্যাটাগরিতে ব্রাজিলের প্রসাধনী প্রস্তুতকারক কোম্পানি নেটুরা এ পুরস্কার পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশের মানুষ শিখেছে কীভাবে বাঁচতে হবে, কীভাবে লড়তে হবে। আর আমরা তা করছি নিজেদের সম্পদ ব্যবহার করে।’ তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় অনেক দেশ বাংলাদেশকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্থ বা সহায়তা মেলেনি। এ কারণে নিজেদের সম্পদ ব্যবহার করে, নিজস্ব পরিকল্পনা নিয়ে দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে কাজ শুরু করা হয়।

এর আগে শেখ হাসিনাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক বলেন, উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশই প্রথম ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন পল্গ্যান’ তৈরি করে পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে; আর তা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার ‘দূরদর্শী নেতৃত্বের’ কারণে। শেখ হাসিনার উদ্যোগে বিশ্বে প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে নিজস্ব জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের কথাও বলেন স্টেইনার। তিনি বলেন, এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশে বাজেটের ৬-৭% অর্থ নির্দিষ্ট করে রাখা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত শঙ্কা মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। জাতিসংঘের লক্ষ্য অনুযায়ী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ একটি বিশ্ব রচনার কার্যক্রমে শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্ব অনেক রাষ্ট্রকেই উৎসাহিত করছে মন্তব্য করে স্টেইনার বলেন, এর স্বীকৃতি হিসেবেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দি আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত করা হলো।

পুরস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং এই পুরস্কার উৎসর্গ করেন দেশের মানুষের জন্য। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের জনগণের চেতনা ও সহিষ্ণুতার একটি স্বীকৃতি। আমি আমার জনগণের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করছি। তাদের সমর্থন ছাড়া এটা পুরোপুরি অসম্ভব ছিল।’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) গুডউইল অ্যাম্বাসাডর অভিনেতা আয়ান সোমারহালডার, মডেল গিসেল বুন্ডশেন ও অভিনেত্রী নিকি রিড।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর জলবায়ু চুক্তি প্রয়োজন: জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, মানুষের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে জলবায়ু চুক্তি সহায়ক হবে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের সব উন্নয়ন কর্মসূচি ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। আমাদের অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ সব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তায় নতুন করে জলবায়ু চুক্তি করতে হবে।

সম্মেলনে ব্রাজিল, ভেনিজুয়েলা, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, কাতার, মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরবের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণও বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এসডিজি এজেন্ডা-২০৩০ গ্রহণ একটি বিশাল অর্জন। বাংলাদেশ নতুন বৈশ্বিক এজেন্ডার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সপ্তম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।

শেখ হাসিনা দারিদ্র্য বিমোচন, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস ও সংক্রামক রোগসহ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, এমডিজি বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর করতে পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়ক হয়েছে। এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য লাভে মূল চালিকাশক্তি ছিল তার সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। বাংলাদেশের কিছু অভিজ্ঞতা এখন বৈশ্বিক সমাধানের অংশ হয়েছে। এখন আমরা এজেন্ডা-২০৩০ এবং আদ্দিস আবাবা অ্যাকশন এজেন্ডার পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে আর্থিক, প্রযুক্তি, সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং ঋণ সহায়তা প্রয়োজন হবে। এ বছর অনুষ্ঠেয় প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু চুক্তিকে অর্থবহ করতে সংশ্লিষ্ট মহল একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ কাল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের খসড়া তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা, শাসন ব্যবস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য, অভিবাসী শ্রমিক, জলবায়ু পরিবর্তন ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য জাতিসংঘে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তার বক্তৃতায় প্রাধান্য পাবে।—সুত্র:-সমকাল অনলাইন