দূর অজানায়


105 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দূর অজানায়
অক্টোবর ২৪, ২০১৯ ফটো গ্যালারি বিনোদন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

কিছু অবসর সময় একা কাটানো আমার কাছে মন্দ মনে হয় না। কিন্তু সব অবসরে নিঃসঙ্গ থাকাটাও আমার পছন্দ নয়। এইতো বেশ কিছুদিন আগে এক অবসরে ছুটে গিয়েছিলাম যুক্তরাষ্ট্র নামের মার্কিন মুল্লুকে। দলটাও ছিল বেশ বড়সড়। আমি, হূদি হক, সাজু খাদেমসহ নাটকের একঝাঁক কর্মী ছিলেন এই দলে। উড়াল পাখির ডানায় ভর করে শুরু হয়েছিল আমাদের যাত্রা।

আকাশপথ হলেও দূরত্ব কম নয়। ঘড়ির ঘণ্টার কাঁটা পুরো এক চক্কর না দেওয়া পর্যন্ত যেন পথ শেষই হয় না। দিনপঞ্জির তারিখও বদলে যায় এ দীর্ঘ সফরে। এর পরেই পা রাখা সম্ভব হয় পৃথিবীর অন্য প্রান্তে। আমাদেরও একইভাবে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেই তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলাম। কেউ কেউ ভাবতে পারেন, শক্তির বড়াই করে বেড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের মানুষগুলো হয়তো আমাদের মতো নয়। সামরিক জান্তারা কেমন বলা কঠিন। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে তো খুব বেশি তফাৎ আছে বলে মনে হয়নি। ভাষা-সংস্কৃতি আলাদা হলেও আবেগ-অনুভূতির জায়গায় পৃথিবীর সবাই কেন জানি একই রকম। তাই তো মার্কিন মুল্লুকের ৫১ রাজ্যের যে কোনো প্রান্তে অবস্থান করেও স্বদেশ সংস্কৃতি ভুলে যায়নি- দেশের মানুষগুলো। বাঙালি তার চিরায়ত রীতি কোনোভাবে রেখেছে। তাই তো কারও সঙ্গে দেখা হলে সহজেই আপন করে নেয়।

আমরা যারা মিডিয়ায় কাজ করি, তাদের প্রতি যেন আগ্রহটা একটু বেশি। ইউটিউবের কল্যাণে বহু প্রবাসী আমাদের নাটক, চলচ্চিত্র দেখেন। সে সুবাদে আমরা যেন তাদের বহুদিনের চেনা। তাই ভালোবেসে কাছে টেনে নিতেও দ্বিধা করেন না কেউ। এ সফরে তার প্রমাণও পেয়েছি। অনেকে যেভাবে সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়েছেন, তা কখনও ভুলে যাওয়ার নয়।

কথায় কথায় প্রসঙ্গ বদলে গিয়েছিল, যার জন্য কলম ধরেছি, সেটাই লেখা হলো না। বলছিলাম, প্রিয় কিছু জায়গার কথা, যেখানে বারবার যেতে ইচ্ছা করে। যুক্তরাষ্ট্রের কথা দিয়ে শুরু করলাম এ কারণে যে, কিছুদিন আগে এ দেশটা সফর করেছি। আছে কিছু তরতাজা স্মৃতি। নিউইয়র্কের কথাই বলি। বৃহৎ এই শহরের পথে ঘুরলে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আকৃষ্ট করে, তা হলো বাঙালিদের অবস্থান। মার্কিন এ শহরেই বাঙালির সংখ্যা চোখে পড়ে বেশি। তাই চোখ ধাঁধানো অট্টালিকার মতো ছাড়াও স্বদেশি মানুষ দেখার আনন্দও কম নয়।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা যদি বলি, তাহলেও মহাকাব্য রচনা করতে হবে। প্রকৃতির আকর্ষণেই আমরা দলবেঁধে নানা জায়গায় ঘুরতে গেছি। সেলফি নিতেও ভুল করিনি। মজার বিষয় হলো, এই ঘুরে বেড়ানোর ফাঁকেই সতীর্থ সাজু খাদেমের জন্মদিনও পালন করেছি। বিশাল জলরাশি আর বনানীর পাশে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে বন্দি করেছি কিছু দৃশ্য।

আমাদের দ্বিতীয় গন্তব্য ছিল ওয়াশিংটন ডিসি। নাটক আর ঘুরে বেড়ানোর উদ্দেশ্যই ছিল আমাদের সফর। তাই কাজের পাশাপাশি ব্রডওয়ে, লিংকন মেমোরিয়ালসহ নানা জায়গায় ঘুরেছি। সূর্যস্নানে মেতে যেমন উল্লাস করেছি, তেমনি ‘লায়ন কিং’ দেখে মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে ফিরেছি।

প্রিয় অভিনেত্রী রিচির আত্মজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও ভুলিনি। কিন্তু যত আনন্দই হোক, দেশের কথা বারবার মনে পড়েছে। কেন জানি না, বিদেশ বিভুঁইয়ে বেশিদিন আমার মন টেকে না। তাই যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার মতো একইভাবে দেশে ফিরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছি।