দেবহাটার খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ দ্রুত সরকারী করার দাবী এলাকাবাসীর


1192 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটার খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ দ্রুত সরকারী করার দাবী এলাকাবাসীর
অক্টোবর ২০, ২০১৫ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আসাদুজ্জামান / আর,কে বাপ্পা :
ব্রিটিশ শাসনামলে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ১৩ জন জমিদার বসবাস করতেন। আর এই তের জমিদার খ্যাত সাতক্ষীরার দেবহাটা ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে সে সময় একটি থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর অবিভক্ত বাংলার পূর্ব অংশে দ্বিতীয় পৌর সভার খ্যাতি লাভ করে এই দেবহাটা। তখন এ এলাকায় দুইটি হাই স্কুল প্রতিষ্টিত হয়।  সেখান থেকে লেখাপড়া শেষ করে ছাত্র-ছাত্রীরা ভারতের বসিরহাট মহাকুমার টাকি কলেজে পড়াশুনা করত। দেশ বিভক্ত হওয়ার পর দেবহাটা ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে ইছামতির নদীর কোল ঘেঁষে সীমান্তবর্তী থানার মার্যাদা লাভ করে। সেই ১৯৪৭ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত প্রথমে পাকিস্থান ও পরে বাংলাদেশের জন্মলাভের পরেও কোন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী হয়নি দেবহাটা থানায়। পরবর্তীতে দেবহাটা থানায় একে একে খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ, হাজী কেয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজ ও দেবহাটা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ এলাকার ছেলে-মেয়েরা নিজের বাড়ি থেকে লেখা পড়ার সুযোগ পায়। শিক্ষার দিক দিয়ে দেবহাটা অনেক এগিয়ে। উক্ত তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখে চলেছে। এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশী শিক্ষার মান এগিয়ে আছে খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ। তাই এ কলেজটিকে দ্রুত সরকারীকরনের জন্য দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

১৯৮৫ সালে উপজেলার সর্ব স্থরের মানুষের চাহিদা মোতাবেক সকলের যাতায়াত ও শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার সাবির্ক সুবিধার্তে দেবহাটা উপজেলার মধ্যবর্তী স্থান সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ মহাসড়কের পূর্ব পার্শ্বে দেবহাটা উপজেলা সড়কের আগে সখিপুর বাস স্টান্ডের বিপরীত দিকে উপজেলা প্রশাসন ও এলাকার সর্ব স্থরের মানুষের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এলাকার জনমানুষের আন্তরিক দাবি অনুযায়ী অত্র এলাকার কৃতি সন্তান অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের এসিসট্যান্ট ডিরেক্টর বিখ্যাত শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক, সুফী সাধক খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ (রঃ) এর নামে প্রতিষ্ঠানটির নাম করণ করা হয়।  কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আঃ মজিদসহ সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নবম সেক্টরের প্রতিষ্ঠাতা সাব সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শাহাজান মাস্টার, প্রাক্তন সাংসদ মুনছুর আহমদ, তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জব্বার ফারুক ও দাতা সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছালামতুল্যা গাজী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের অর্থ, জমি, মেধা শারিরিক শ্রম দিয়ে তৈরী হয় খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ কলেজ।  শুরু থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কলেজটির।  বাংলাদেশের প্রায় সকল মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াশুনাও প্রতিনিধিত্ব করছে এ কলেজের ছাত্ররা। কলেজটি মোট জমি ২২ বিঘার মত। ১০ বিঘা জমিতে নির্মিত কলেজ ভবন, মসজিদ, পুকুর, ক্যাম্পাস ও খেলার প্রশস্ত মাঠ অবস্থিত। কলেজটিতে তিন তলা বিজ্ঞান ভবন, তিন তলা কলা ভবন, দুই তলা ব্যবসায় শিক্ষা ভবন ও দুই তলা অনার্স বিল্ডিং সহ উন্নত মানের আইসিটি রুম অবস্থিত। কলেজটি ১৯৮৫ সালে তৈরী হয়। এরপর ১৯৮৬ সালে স্বীকৃতি লাভ করে এইচ এস সি ও ১৯৯৩ সালে স্নাতক পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভ করে । ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, বি এম স্বীকৃতি লাভ করে ২০০৪ সালে। দেবহাটা উপজেলার মধ্যে এক মাত্র অনার্স কোর্স চালুকৃত এই বহুমুখি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রাণী বিজ্ঞান, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ৫ টি বিষয়ে অনার্স কোর্ষ চালু আছে। কলেজটির বর্তমান এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা ৬৪ জন। ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ২২৪৪ জন। কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বাসীর শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন ।

বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সম্প্রতি ঘোষনা করেন প্রতিটি উপজেলায় একটি করে হাইস্কুল ও একটি করে কলেজ সরকারী করণ করা হবে। প্রধান মন্ত্রীর এমন আশ্বাসে খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজটিকে সরকারী করনের জন্য আসায় বুক বাধতে শুরু করেছেন এ এলাকার ছাত্র/ছাত্রী, অভিভাবকসহ সাধারন জনগন। কলেজটি সরকারীকরন করা হলে প্রত্যন্ত এ অঞ্চলের ছেলেমেয়েরা বাড়ী খেয়ে সরকারী কলেজে পড়ার সুযোগ পাবে। তাই এ উপজেলা বাসীর দাবী, যাতে এই কলেজটি দ্রুত সরকারীকরন করা হয় সেজন্য প্রধান মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজ সম্পর্কে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা স,ম গোলাম মোস্তফার জানান, বিজ্ঞান শিক্ষার সুনাম থাকায় বহু দূরদূরান্ত থেকে আগত ছাত্রীছাত্রীদের সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ, উন্নত মানের ভৌত অবকাঠামো এবং মহাসড়কের পার্শ্বেই অবস্থিত খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ কলেজটি। তিনি আরো জানান, এ কলেজটি সরকারীকরন করা হলে এলাকার জনসাধারনের বিশাল উপকার হবে।।
এ ব্যাপারে প্রাক্তন সাংসদ ও বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক মুনছুর আহমেদ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সাহসী ভূমিকা নিচ্ছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। সাথে সাথে এলাকা শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ, সুন্দর অবকাঠামো, প্রসস্থ খেলার মাঠ ও সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থার অধিকারী খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ কলেজটিকে দ্রুত সরকারী করণ করার জন্য প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন।