দেবহাটার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতন : পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন


178 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতন : পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন
জানুয়ারি ২৫, ২০২০ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ॥
দেবহাটা উপজেলার পাচপোতা গ্রামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে নির্যাতনকারীরা বাড়ি থেকে আতœগোপনে চলে গেছে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে দেবহাটা থানার ওসির নির্দেশে এসআই দেবকুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য মতে জানা যায়, উপজেলার পাঁচপোতা এলাকায় রাজিবের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি বিশাল বাহিনী। আর এই বাহিনীর সদস্যদের অত্যাচারে রাতে বাহিরে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন নারীরা। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদেরকে হয়রানির ভয়ে প্রতিবাদ না করে নিরবে সব মেনে নিতে শিখেছেন ঐ গ্রামের মানুষেরা। এই রাজীব পাঁচপোতা গ্রামের প্রায়ত আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে। ২০১৩ সালে জামায়াত-শিবিরের হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন তার পিতা। সেই সময় থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও প্রশাসনের সহমর্মিতা বেড়ে যায় তাদের পরিবারের প্রতি। আর এই দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে অপরাধ রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি। আর তাই রাজীব বাহিনীর প্রধান রাজীবের মনোরঞ্জন করতে বিভিন্ন সময় পাঁচপোতা মোড়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন বাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী) রাতে রাজিব গ্রামে পিকনিকের আয়োজন করে। এসময় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় একই গ্রামের মধ্যবয়সী প্রতিবন্ধী হামিদুল সরদারকে। এরপর রাজীবের সহযোগীতায় প্রতিবন্ধী হামিদুলের পোষাক খুলে ভিডিও ধারন করেন একই এলাকার আব্দুল করিম মৃধার ছেলে ইছা মৃধা, শাহাদাত হোসেনের ছেলে ইউনুস আলী। উপস্থিত বাকি সদস্যরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নানাভাবে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করে বলে স্থানীয়রা জানান। দীর্ঘ সময় পর ছেড়ে দিলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বাড়িতে যেয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে কেঁদে কেঁদে সারারাত পার করেন। এদিকে রাজীব বাহিনী এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। একই সাথে বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বাড়ির পাশে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে মাদক সেবনের পাশাপাশি আনন্দ উল্লাস করতে থাকে রাজিব ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরদিন সকালে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে রাজীব, ইছা, ইউনুস সহ মুলহোতারা আতœগোপনে চলে যায়। এঘটনায় ভূক্তভোগী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হামিদুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাকে তারা উঠিয়ে নিয়ে অত্যাচার করেছে। তারা আমাকে বলেছে তোর সাথে এসব করেছি তার স্বাক্ষী দেবে কে? আমার খুব খারাপ লাগছে। মনে হচ্ছিল আতœহত্যা করি। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে আমাদের অত্যাচারের শেষ থাকবে না। নির্যাতিতা প্রতিবন্ধীর স্ত্রী জানান, আমরা খুবই অসহায়, সব সময় ভয়ে ভয়ে কাটে। গতকাল তিনি যখন দোকান থেকে বিস্কুট ও টুটপেস্ট কিনে ফিরছিলেন রাজীব তখন আমার হাত থেকে ঐ মালামাল কেড়ে নেয় এবং আমাকে জড়িয়ে ধরে শারীরিক ভাবে নির্যাতনের চেষ্টা করে। তবে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে বলেও জানান তিনি। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে অভিযুক্ত রাজীব, ঈছা, ইউনুসের বাড়িতে গেলে তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের যোগাযোগের মোবাইল নাম্বার দিতেও সম্মত হননি পরিবার। একই সাথে যে স্থানে রাতে উল্লাস করে তার পাশেই ফেনসিডিলের খালি বোতল পড়ে থাকতেও দেখা গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও রাজীবের চাচা আব্দুল করিম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এলাকায় বখাটের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নারীরা রাতে ঘরের বাহিরে একা বাহির হতে পারেন না বলে অনেকে তার কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানান ঐ ইউপি সদস্য। দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) উজ্জ্বল কুমার মৈত্র জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। তবে তাদেরকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে বলে ওসি জানান।