দেবহাটার রুপকার স্বর্গীয় জমিদার ফনীভূষন মন্ডলের অমর কীর্তির নিদর্শন দেবহাটা


1410 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটার রুপকার স্বর্গীয় জমিদার ফনীভূষন মন্ডলের অমর কীর্তির নিদর্শন দেবহাটা
আগস্ট ২৭, ২০১৬ ইতিহাস ঐতিহ্য দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ঃ
সাতক্ষীরার দেবহাটা একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা। এই দেবহাটার নামকরন নিয়ে নানাজনের কাছ থেকে নানারকম মতামত পাওয়া যায়। কেউ বলেন, প্রাচীনকালে এখানে দেব-দেবীর হাট বসত, সেজন্য নাম হয়েছে দেবহাটা। আবার কেউ বলেন, প্রাচীনকালে এখানে ঘন জঙ্গল ছিল। সেই জঙ্গলে বিভিন্ন বনদস্যু বা অনেকে রাগারাগি করে যেয়ে পালিয়ে থাকত। তারা বলত ঐ জঙ্গলে দেবো—-হাটা। আর কালের আবর্তে সেখান থেকে নাম হয়েছে দেবহাটা। তবে যে যাই বলুক না কেন এই দেবহাটাকে ঘিরে একদিকে যেমন রয়েছে নানারকম কল্পকাহিনী ঠিক তেমনি রয়েছে অনেক প্রাচীন র্কীতি বা নিদর্শন। দেবহাটার রুপকার স্বর্গীয় জমিদার ফনীভূষন মন্ডলের অমর কীর্তির নিদর্শন দেবহাটা। তিনি একাধারে ছিলেন শিক্ষার অগ্রদূত, দুঃস্থ মানবতার সেবক ও ক্রীড়া পিপাসু মানুষ। যাকে এককথায় বলা যায় প্রজাহিতৈষী মানুষ। আজ দেবহাটার মানুষ যে সুবিধাগুলো বর্তমানে ভোগ করছে সেগুলো সব তারই অবদান। তাই দেবহাটাবাসী আজও কৃতজ্ঞচিত্তে তাকে বিন¤্র শ্রদ্ধায় স্মরন করে। দেবহাটার রুপকার স্বগীয় জমিদার ফনীভূষন মন্ডল দেবহাটাবাসীর জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন। তার সেই অবদানের ফসল আজ দেবহাটার মানুষ ভোগ করছে। তিনি সেসময় প্রজাদের কল্যানে অনেক জনকল্যানমূলক কাজ করে গেছেন। তার সেই অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। দেবহাটা থেকে টাউনশ্রীপুর পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে জমিদার ও গাতীদার মিলে আঠারো জন বসবাস করতেন। তাদের প্রধান ছিলেন জমিদার ফনীভূষন মন্ডল। যিনি মানুষের কল্যানার্থে ও সেবার মনোভাব নিয়ে অনেক স্থাপনা তৈরী করে গেছেন। তার মধ্যে আছে দেবহাটা পাইলট হাইস্কুল। যে স্কুলটি তিনি তার স্বগীয় পিতা বিপিন বিহারীর নামে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপন করেন। যেটা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারী ঘোষনা করায় বিদ্যালয়টির বর্তমান নামকরন করা হয়েছে দেবহাটা সরকারী বিবিএমপি ইনষ্টিটিউশান। শিক্ষায় তিনি ছিলেন অগ্রদূত। যেজন্য তিনি তার বাড়ীর সম্মুখে ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। যে বিদ্যালয়টিও বর্তমানে সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিনি ব্রিটিশ আমলে দুইতলা বিশিষ্ট একটি নীলকুঠি স্থাপন করেন। যাহা পরবর্তীতে থানা ভবন হিসেবে প্রায় ৭০ বছর ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গতবছর ঐ ভবনটি ভেঙ্গে তার পাশে নতুন থানার বিল্ডিং বানানো হচ্ছে। থানার পাশে দুঃস্থ মানবতার সেবার জন্য তিনি তার মহিয়সী মা ভূবন মোহিনী দাসীর নামে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। যাহা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। তবে তার পাশে নতুন ভবন করে বর্তমানে সাব সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে মানুষের সেবা প্রদান করা হয়। জমিদার ফনীভূষন মন্ডল যে বাড়িতে বসবাস করতেন তার সূনিপূন কারুকার্য সকলকে মুদ্ধ করে। বাড়িটির ডিজাইন ও নকশা সকলকে আকৃষ্ট করে। উনার পূর্ব পুরুষরাও জমিদার হিসেবে এখানে বসবাস করতেন। খেলাধুলা ও ক্রীড়াঙ্গনে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি তার বাড়ির সামনে প্রায় ২ একর জমিতে তৈরী করেন বিশাল খেলার মাঠ। বর্তমানে সেখানে সকল জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান পালিত হয় এবং নিয়মিত খেলাধুলাও করা হয়। আনুমানিক ১৮৬৭ সালে তৎকালীন বৃটিশ আমলে দেবহাটার টাউনশ্রীপুরে পৌরসভা গড়ে উঠেছিল। সেই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন দেবহাটা সদরের বাসিন্দা স্বনামধন্য ও প্রজাহিতৈষী জমিদার বাবু ফনীভূষন মন্ডল। যিনি একটানা ত্রিশ বছর পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। আমরা দেবহাটাবাসী এই মহান মানুষটির কাছে চির কৃতজ্ঞ ও ঋনী।