দেবহাটার শাঁখরা বাজারে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর-লুটপাট : আতংকিত ব্যবসায়ীরা


315 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটার শাঁখরা বাজারে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর-লুটপাট : আতংকিত ব্যবসায়ীরা
মার্চ ৪, ২০১৬ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এম রফিক :
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার শাঁখরা বাজারে ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুরের পর এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। দূর্বৃত্তদের ভয়ে ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীসহ কেউ মামলা করতে সাহস পাচ্ছে না। এমনকি দোকান মালিক আলহাজ্ব নূরুল ইসলামও ভয়ে মামলা করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।
জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার শেষ প্রান্ত এবং সাতক্ষীর্ াসদর উপজেলার শুরু সীমান্ত এলাকা শাঁখরা বাজারের পার্শ্ববর্তী ঘোজের মাঠ এলাকার কুমড়োর খালের চরভরাটি জমিতে অবৈধভাবে বসবাসরত কয়েকটি পরিবারের বসতঘর উচ্ছেদ করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহকারি (ভূমি) কমিশনার মনিরা বেগম। তারই নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এঘটনায় একটি কুচক্রী মহল ক্ষুব্ধ হয়ে শাঁখরা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি আলহাজ্ব নূরুল ইসলামের মালিকানাধীন তিনটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এসব ক্ষতিগ্রস্থ ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা হলেন, ধ্রুব দাশ, বাবু দাশ ও আমিরুল ইসলাম। তাদের দোকানে ভাংচুর ও লুটপাট করে গত বুধবার বিকালে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে ঘটানো হলেও ভয়ে কেউ বাধা দেয়নি। এলাকার ভয়ংকর চোরাকারবারি, ওয়ান ইলেভেনে গ্রেফতারকৃত আলফেরদৌস আলফা ও তার ভাই বিজিবি সদস্য হত্যা মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী আব্দুল আলিমের কাছে এলাকার বহু মানুষ জিম্মি হয়ে রয়েছে বলে প্রচার রয়েছে। এমনকি পুলিশের কিছু অসাধূ কর্মকর্তাও না-কি তাদেরকে একাজে সহায়তা দিয়ে থাকেন। যদিও এমন প্রচারের  বিষয়টি তারা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিক আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম আলফার দৌস আলফাকে দায়ী করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চলে যাওয়ার পর এলাকার কুখ্যাত চোরকারবারী আল ফেরদৌস  আলফা  উস্কানি দিয়ে  উচ্ছেদে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষুব্ধ করে। উচ্ছেদে আমাকে দোষি করে তাদের দিয়ে শাঁখরা বাজারে আমার ভাড়াটিয়া ধ্রুব দাশ, বাবু ময়রা ও আমিরুল ময়রার ঘর ভাংচুর ও লুটপাঠ করে। তিনি বলেন, প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটানো হলেও আলফা, আলিমসহ তাদের বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি বা বাধা দিতে সাহস পায়নি। তিনি বলেন, ঘটনার সময় কিছু দূবৃত্ত তাদের সহযোগিতা করেছিলো যারা আলফারই লোক।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারি ভূমি কমিশনার মনিরা বেগম সাংবাদিকদের জানান, কুমড়োরখাল দখল করে ঘরবাড়ি বানানোয় সতর্ক করে কাজ না হওয়ায় প্রায় দেড় মাস আগে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ঘরগুলো ভেঙে দেন।  পরবর্তীতে আবারো সেখানে স্থাপনা গড়ে তোলায় এক মাস আগে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়। করা হয়েছে উচ্ছেদের মামলা। এরই অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের কতগুলো ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তারা যেখানে বসবাস করছেন সেটি নদীর জায়গা। নদীর জায়গাতে কোন ধরনের ঘরবাড়ি তৈরি করা অবৈধ। তবে শাখরা বাজারে কোন দোকানঘর ভাঙার বিষয়ে তিনি কোন কিছু জানেন না এবং এটি অভিযানের অংশ নয়।
এব্যাপারে দেবহাটা থানার এস আই মাসুদ সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করেছে এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি এড়িয়ে যান।
আল ফেরদৌস আলফা সাংবাদিককে বলেন, মোবাইল কোর্টের নামে পুলিশ দিয়ে বসবাসরত ২৫টি বাড়ি ভাঙচুর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় তাদের ঘরের মধ্যে থাকা ভাতের হাঁড়িও ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া ওই ব্যবসায়ী নূরুল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেকারণে ওই ক্ষতিগ্রস্থরা নূরুল ইসলামের ওই দোকানঘর ভেঙে দিয়েছে। এঘটনায় আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে, অসহায় ব্যবসায়ী ধ্রুবদাশ, বাবু দাশ ও আমিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ২০১২ সালেও শাখরা বাজারে একদল র্দূবৃত্ত প্রকাশ্যে বেশকিছু দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এমনকি স্থানীয় আসাদুল ইসলাম নামের এক সাংবাদিকের মোটর সাইকেল জালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তার কোন বিচার হয়নি। যে কারণে আবারো এমন ঘটনা ঘটানো হলো। তারা বলেন, একটি মহল তাদেরসহ এলাকার অনেক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে এক প্রকার জিম্মি করে রেখেছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই ওই মহলের দ্বারা পুলিশি হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়-ক্ষতির আশংকায় পড়েন তারা। ক্ষতিগ্রস্থ এসব ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের হস্থক্ষেপ কামনা ও ক্ষতিপূরণের দাবীসহ দূর্বত্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।