দেবহাটায় নির্বাচনী হালচাল : মনোনয়ন নিয়ে বিপাকে আ’লীগ, বিএনপি সুবিধাজনক স্থানে


428 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটায় নির্বাচনী হালচাল : মনোনয়ন নিয়ে বিপাকে আ’লীগ, বিএনপি সুবিধাজনক স্থানে
জানুয়ারি ৩১, ২০১৬ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা :
সারাদেশে দলীয় মনোনয়নে দলীয় প্রতিকে পৌরসভা নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রার্থীদের পদচারনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী দেয়ার সুযোগে একাধিক প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিপাকে আঃলীগ থাকলেও বিএনপি রয়েছে সুবিধাজনক স্থানে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা এরই মধ্যে উপজেলা, জেলা এমনকি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে জোর লবিং গ্রুপিং চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীরা বিভিন্নভাবে নেতাদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। মাঠ পর্যায়ের প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দুই দলের সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী সরব রয়েছেন। স্ব স্ব দলের পক্ষে দলীয় প্রার্থী হতে এসব ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় নেতাদের সন্তুষ্টির জন্য নিজ নিজ এলাকায় দোয়া ও আর্শীবাদ চেয়ে পোষ্টারিং সহ প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করার পাশাপাশি ভোটারদের মন জয়ে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অনেকে আবার দলীয় কাউন্সিলর ও কর্মীদের নিজ পক্ষে আনতে বাড়ি বাড়ি যেয়ে তাদের মন জয়ের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গত পৌরসভা নির্বাচনের মতো দল মনোনীত প্রার্থী হতে পারলে জয় অনেকটা নিশ্চিত এই আশায় প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন এখন প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাড়িয়েছে। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আঃলীগ বিপাকে থাকলেও সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে এখনো পর্যন্ত জামায়াত বা জাতীয় পার্টি সহ অন্য কোন দলের কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী রয়েছে একাধিক আর বিএনপির রয়েছে ১ থেকে ২ জন। যার জন্য প্রার্থী নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে যতটা বেগ পেতে হবে সেদিক থেকে বিএনপির তেমন একটা অসুবিধা হবেনা। ইতিমধ্যে উপজেলার ১ নং কুলিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ আসাদুল হক। আওয়ামীলীগের অপর প্রার্থী রয়েছেন দেবহাটা উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্টাতা সভাপতি ও সফটরক গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব ইমাদুল ইসলাম এবং কুলিয়া ইউনিয়ন আঃলীগের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস। এ ইউনিয়নে এখনো পর্যন্ত বিএনপির কোন প্রার্থীর নাম শোনা যায়নি। ২ নং পারুলিয়া ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন পারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা ওলামালীগের আহবায়ক শফিকুর রহমান সেজো খোকন। এখানে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক গোলাম ফারুক বাবু। ৩ নং সখিপুর ইউনিয়নে আঃলীগের প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, উপজেলা আঃলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইউনিয়নের সাবেক স্বনামধন্য চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ছালামতুল্লা গাজীর ছেলে আব্দুল আজিজ, উপজেলা আঃলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন রতন, সখিপুর ইউনিয়ন আঃলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী সরদার আমজাদ হোসেন ও ইউনিয়ন আঃলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হান্নান। এখানে বিএনপির প্রাথী হিসেবে ২ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মোখলেছুর রহমান মুকুল ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল। ৪ নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নে আঃলীগের প্রার্থী হিসেবে ৩জন রয়েছেন। তারা হলেন উপজেলা আঃলীগের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মুজিবর রহমান, মৎস্য চাষে জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আঃলীগের সভাপতি মাহমুদুল হক লাভলু ও সাধারন সম্পাদক তরুন নেতা আলমগীর হোসেন সাহেব আলী। এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রেজাউল করিমের নাম। সর্বশেষ ৫ নং দেবহাটা সদর ইউনিয়নে আঃলীগের প্রার্থী রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আঃলীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, দেবহাটা ইউনিয়ন আঃলীগের সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর গাজী ও উপজেলা আঃলীগের প্রচার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বিশ্বাস। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল হাবিব মন্টু ও উপজেলা বিএনপি নেতা বর্তমানে ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বকুলের নাম শোনা যাচ্ছে।