দেবহাটায় ইছামতি নদীর ভেড়ীবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন : আতংকে এলাকাবাসী


654 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটায় ইছামতি নদীর ভেড়ীবাঁধে ভয়াবহ ভাঙ্গন : আতংকে এলাকাবাসী
এপ্রিল ১৮, ২০১৭ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা ::
সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার গা ঘেষে বয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত নদী ইছামতির কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। যার কারনে কয়েকটি গ্রামের মানুষ বিপদের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সহায় সম্পদ রক্ষার জন্য তাদের খাওয়া ঘুম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গ্রামবাসীর আতংক আরও বেড়ে চলেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ এবং গুটিকয়েক মানুষের ঠেলা জাল নদীতে ফেলার কারণে দেবহাটা উপজেলার চরকোমরপুর, ভাতশালা, টাউনশ্রীপুর, সুশীলগাতী ও নাংলা সহ কয়েকটি স্থানের ভেড়ীবাধে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

তার মধ্যে চরকোমরপুর ভেড়ীবাধের ৪ ভাগের প্রায় ৩ ভাগ ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে গেছে। বাকিটুকুও যেকোন সময় ভেঙ্গে তলিয়ে যেতে পারে চরকোমরপুর ও কোমরপুর উত্তরপাড়া সহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম।

গ্রামবাসীরা জানান, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীপাড়ের ব্লক বাধা অংশের নিচ থেকে বালু তোলার কারনে নদীর বাধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া ঐ ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে ইছামতি নদীর পাড় ও চর থেকে মাটি কেটেও অবৈধভাবে বিক্রি করছে। যার কারনে চরকোমরপুর থেকে হাড়দ্দহ ১৬ ডালার মুখ পর্যন্ত ইছামতি নদীর ভেড়ীবাধের সিংহভাগ ভেঙ্গে গেছে।

বড় কোন জোয়ার বা বৃষ্টি হলেই ভেড়ীবাধটি যেকোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। তাতে দেশের কয়েকটি কোটি টাকার সম্পদ যেমন নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে তেমনি অসংখ্যা প্রানহানী ঘটারও সম্ভাবনা আছে।

তাছাড়া ভাতশালা থেকে খানজিয়া পর্যন্ত বালু ব্যবসায়ীরা ড্রেজার মেশিন লাগিয়ে বালু উত্তোলন করছে। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীদের এই কাজ বন্ধ করার মতো কেউ আছে বলে মনে করেননা এলাকাবাসী।

তাদের বক্তব্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভেড়ীবাধগুলো ঝুকির মধ্যে থাকে। পাউবো মাঝে মাঝে সংষ্কার কাজ করেন। কিন্তু সেটাও নামমাত্র। তার মধ্যে এভাবে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ও নদীর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে অথচ প্রশাসন নীরব।

গ্রামবাসী আরও জানান, চিংড়ি চাষীরা খেয়াল খুশী মতো মূল বাধের গা ঘেষে ছোট বাঁধ দিয়ে মুল বাঁধের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। বেড়ি বাঁধের গা ঘেঁষে পোনা ধরা এবং বালু তোলার কারনে বাঁধগুলো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ন হয়ে ওঠে।

কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের শীবনগরের পাশে রাজনগর মৌজা ইছামতির নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী জানান, ভেড়ীবাধ সংষ্কারের বিষয়ে তিনি দেবহাটা ইউএনও ও সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

পানি উন্য়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বাঁধগুলো সংস্কারে তারা দ্রুত কাজ শুরু করবেন। তবে ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলো দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন।

অসহায় ও আতঙ্কিত গ্রামবাসী নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করে দেশের ভূখন্ড রক্ষা সহ তাদের বেচে থাকার নিশ্চয়তা প্রদানে যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

##