দেবহাটায় এক গৃহবধুর স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা


338 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটায় এক গৃহবধুর স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা
মে ১৭, ২০১৮ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা :
দেবহাটা উপজেলার সুশীলগাতী গ্রামের মৃত দ্বীন মোহাম্মাদের মেয়ে সোনিয়া পারভিন মিতা (৩৭) তার স্বামীর বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় নারী ও নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। যার দেবহাটা থানায় মামলা নং- ০৮/২৭। সোনিয়া পারভিন মিতা জানান, তার দীর্ঘ ১৮ বছর আগে কলারোয়া উপজেলার যুগীখালী গ্রামের মনিরউদ্দীন মোড়লের ছেলে আশরাফুল আলমের সাথে তার বিয়ে হয়। বিবাহের পরে তার স্বামী দেবহাটা উপজেলার সখিপুর হাজী কেয়ামউদ্দীন মেমোরিয়াল মহিলা কলেজে ইতিহাস বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে। কিছুদিন পরে তার স্বামী ফাতেমা তুজ জোহরা নামে কলেজের এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং তাকে না জানিয়ে ঐ ছাত্রীকে বিয়ে করে। একপর্যায়ে তার স্বামীকে নিয়ে কলেজে আন্দোলন শুরু হলে তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ফাতেমা তুজ জোহরা গত ইং ৩১-১০-২০০৪ সালে আশরাফুলকে তালাক প্রদান করে। এরমধ্যে তাদের বৈবাহিক জীবনে একটি পুত্র সন্তান ও একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ছেলেটার নাম সামিউল আলম মিতুল ও মেয়ের মিম্মাতুন ফিহা। সেসময় থেকে তারা তার স্বামী আশরাফুলের গ্রামের বাড়ি কলারোয়া উপজেলাতে বসবাস শুরু করে। কলারোয়াতে আশরাফুল একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করে। একপর্যায়ে গত ইং ১৯-০৫-২০১০ সালে শেখ মনিরুল হুদার নিকট থেকে কলারোয়া থানাধীন ৬৮ নং শ্রীপতিপুর মৌজার এস.এ ১৪০ নং খতিয়ানে আর.এস/বি.এস-২৯৫, দাগ নং- এস.এস/সি.এস-১৭৭, আর.এস/বি.এস- ১২৩ নং দাগে ডাঙ্গা- ১০২ শতক জমির মধ্যে ৮ শতক জমি তার স্বামী ও তার নামে যৌথভাবে ক্রয় করে। পরে তার স্বামীর চারিত্রিক অধঃপতনের কারনে শারমিন নাহার রুপসা নামে আবারো এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করে। যার কারনে সাংসারিক সমস্যার কারনে তার স্বামী গত ইং ১৯-১১-১৪ তারিখে কলারোয়া সাব রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে তাদের পুত্র সামিউল আলম মিতুলের নামে আশরাফুলের নামীয় ৪ শতক জমি হেবা ঘোষনা মূলে দলিল সম্পাদন করে এবং গত ইং ০১-০১-১৫ তারিখে সাতক্ষীরা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে দেয়। মিতা জানান, উক্ত জমিতে সে একটি পাকা বাড়ি নির্মান করে। কিন্তু আশরাফুলের নৈতিক অধঃপতনের কারনে পুনরায় বিবাহ করায় সে এর প্রতিবাদ করলে তাকে শারিরীকভাবে বেদম মারপিট করায় মিতা বিজ্ঞ সাতক্ষীরা আদালতে মামলা দায়ের করে। পরে সে ও তার ছেলে মেয়েদের খাওয়া পরা এবং লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য উক্ত বাড়িটি ভাড়া দিয়ে দেবহাটায় তার পিতার বাড়িতে চলে আসে। সেখানে সংসার করা তার পক্ষে অসম্ভব হওয়ায় গত ০৮-০২-২০১৮ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তার স্বামীর নামে দেবহাটা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী-২০০৩)এর ১১(গ) ধারায় মামলা দায়ের করে। যার কারনে আশরাফুল ক্ষিপ্ত হয়ে তার কলারোয়াস্থ বাড়িতে ভাড়াটিয়াদের কাছে হুমকি ধামকি দিয়ে তাদেরকে ঘর ছেড়ে দিতে বলে। আশরাফুলের হুমকিতে ভীত হয়ে তার ভাড়াটিয়ারা ঘর ছেড়ে দিতে বাধ্য হলে মিতা গত ইং ০৯-০৫-১৮ তারিখে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করে। বর্তমানে মিতা তার ছেলেকে নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে অমানবিকভাবে জীবন অতিবাহিত করছে বিধায় সে তার স্বামীর এধরনের হীন মানষিকতা ও তার অন্যায় অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার পেতে আবেদন জানিয়েছে।