দেবহাটায় চিংড়ি মৎস্য উৎপাদনে ধ্বস, ক্ষতির মুখে ঘের শিল্প


202 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটায় চিংড়ি মৎস্য উৎপাদনে ধ্বস, ক্ষতির মুখে ঘের শিল্প
আগস্ট ২২, ২০২০ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ::

সাদা সোনা নামে খ্যাত চিংড়ী। আর এই চিংড়ি উৎপাদনের অন্যতম জেলা সাতক্ষীরা। চিংড়ী মাছ থেকে দেশে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি সুনাম বয়ে আনার অন্যতম জেলা এই সাতক্ষীরা। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য জেলায় পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ, দেবহাটার সাপমারাখাল, আশাশুনির মরিচ্চাপ নদী পুনঃখনন কালিন সময়ে দেবহাটা উপজেলার চিংড়ী মৎস্য ঘেরগুলিতে পানি সরবরাহ সম্ভব হয়নি। তুলনামুলকভাবে জমির হারি বৃদ্ধি, ব্যাংক প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদানে গড়িমসি, একদিকে বাগদা পোনার সংকট, অন্যদিকে বছরের তুলনায় রেনু পোনার দাম চড়া এবং করোনার প্রার্দুভাবে লকডাউন থাকায় পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বাজাতকৃত চিংড়ীর প্রকৃত মূল্য ঘের মালিকরা পাইনি। যার ফলে বড় অংকের অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছে এই অঞ্চলের চিংড়ি চাষীরা। অপরদিকে আর্ন্তজাতিক বাজারে চিংড়ী মাছ বেচাকেনা না থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়ে ঘের ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে দেবহাটা উপজেলার চিংড়ী ও ব্যবসায়ীদের ধ্বস পরিলক্ষিত হয়। এদিকে দেবহাটা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা যায়, এ মৌসুমে দেবহাটা উপজেলায় ৮,৮৯৩ হেক্টর জমিতে চিংড়ী মাছ এবং ৪৭৪.৪০ হেক্টর জমিতে সাদা মাছ চাষ করা হয়। এইসব জমিতে চলতি মৌসুমে আনুমানিক ৩,৩৬০ মেট্রিকটন চিংড়ী উৎপাদিত হয় এবং সাদামাছ ৩,৬০০ মেট্রিকটন সাদা মাছ উৎপাদিত হয়। এ কাজের জন্য হাজার হাজার মানুষ কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এবার আবহাওয়া অনূূকুলে না থাকায় দেবহাটা উপজেলার প্রায় ১৫% খামারী উৎপাদন থেকে বিরত ছিল। করোনাকালীন সময়ে দীর্ঘ কয়েকমাস জীবনযাত্রা অচল থাকায় সকল কিছুর পাশাপাশি চিংড়ি উৎপাদন বা বাজারজাতকরন সবকিছুই বন্ধ থাকায় এই শিল্পে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন এই অঞ্চলের মৎস্য চাষীরা। দেবহাটার চিংড়ী চাষী ও ব্যবসায় ধ্বস সম্পর্কে বিশিষ্ট ঘের ব্যবসায়ী পারুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পারুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, দেবহাটার সর্বত্রই পোনা সংকট। চড়াদামে রেনুপোনা কিনে যাহা ঘেরে ছাড়া হচ্ছে তা বড় হচ্ছে না। জমির মালিকদের জমির হারী বৃদ্ধি এবং পানির সংকটের জন্য এবার ৯০ ভাগ ঘের ভেঁড়ীতে লোকসান হবে। দেবহাটা উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী একই মত পোষন করে জানান, চলতি বছরে করোনার প্রাদুর্ভাবে একদিকে চিংড়ি পোনার দাম বৃদ্ধি আর অন্যদিকে করোনা আতঙ্কে মানুষজন ঘর থেকে বের হতে না পারায় উৎপাদন ব্যহত হয়েছে। দেবহাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান চলতি মৌসুমের শুরুতে করোনার কারনে চিংড়ি পোনার দাম প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে জানান, চলতি বছরে মৎস্য খাতে বিপুল ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। মাছের দাম বৃদ্ধির কারন সম্পর্কে তিনি জানান, পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় এই দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মৎস্য চাষীদেরকে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান জানান।

#