দেবহাটায় পানি ফল চাষে সফলতা, অপর সম্ভাবনাময় কৃষিখাত


186 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটায় পানি ফল চাষে সফলতা, অপর সম্ভাবনাময় কৃষিখাত
অক্টোবর ২০, ২০২০ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ॥
দেবহাটায় পানি ফল চাষে সফলতা পাচ্ছে এই এলাকার চাষীরা। অপর সম্ভাবনাময় কৃষিখাতটি হতে পারে এই এলাকার মানুষের আর্থিক সফলতা লাভের অন্যতম মাধ্যম। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর, পারুলিয়া, কুলিয়াসহ বিভিন্ন বিলে পানি ফল (পানি সিংড়া) চাষ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে জানা যায়, ৯০ দশকে ভারত থেকে পানি ফলের চারা এনে দেবহাটার সখিপুর গ্রামের মৃত গোলাম নবীর পুত্র আব্দুর গফফার (৫০) তার পৈত্রিক ১ বিঘা জমিতে পানি ফলের চাষ শুরু করেন।

প্রথম বছরে ব্যাপক সাফল্য আসায় তিনি পর্যায়ক্রমে ১৫বিঘা জমিতে এই ফলের চাষ করেন। গফফারের সাফল্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই পানি ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। দেবহাটা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৫ হেক্টর জমিতে এই পানি ফলের চাষ হচ্ছে। এই পানি ফল কৃষকরা বৈশাখ-জৈষ্ঠ্যমাসে অল্পপানিতে চারা রোপন করেন এবং ভাদ্র-আশ্বিন মাসে যখন জলাশয়ে পানি ভরপুর থাকে তখন গাছে ফুল আসে।

ফুল ধরার সময় জোনাকি পোকা নামে এক ধরনের পোকা আক্রমন করে। এ সময় কৃষকরা ভাল ফলন পাওয়ার আশায় কীটনাশক ব্যবহার করে পানিফলকে সুরক্ষিত করেন। লাল ও সবুজ জাতের পানিফল গাছে ধরে এবং কৃষকরা আর্শি¦ন মাসের শেষের দিকে ক্ষেত থেকে চাষীরা পানি ফল তুলতে শুরু করে। ফল উত্তোলনের জন্য এলাকার মহিলা শ্রমিকরা বিশেষ পোষাক পরিধান করে এই পনিফল সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকে এই ফল সংগ্রহ করে খুলনা, বরিশাল ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাকে করে বিক্রয় করে থাকেন। এ ফল ক্ষেত্র বিশেষে শুরুতে ৪০টাকা, ৩০টাকা ও ২০টাকায় বিক্রয় করে থাকেন।

পানি ফল চাষী সখিপুর গ্রামের ফজর আলী পুত্র খোকন (৩৫) বলেন, তিনি ১০ বিঘা জমিতে পানি ফল চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ৭/৮ হাজার টাকা। তিনি জানান, তার এব পর্যন্ত বিক্রয় হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এখনো ক্ষেতে যা ফল আছে ৪/৫ হাজার টাকা বিক্রয় করা যাবে। ফল কিনতে আসা কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর গ্রামের ইমান আলীর পুত্র আয়ুব হোসেন জানান, তিনি প্রতিদিন দেবহাটা থেকে ১/২ মন ফল ক্রয় করে কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করে থাকেন এবং এতে তিনি লাভবান হচ্ছেন। কৃষিবিদরা জানান, পানি ফল প্রোটিন জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টিগুনে ভরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেবহাটা বিভিন্ন এলাকায় বেকার মহিলা ও যুবকরা ক্ষেতয়াল থেকে পানিফল সংগ্রহ করে রাস্তার ধারে বা বাজারে বিক্রি করে সংসার নির্বাহ করছেন। তাই পানিফল চাষে এলাকার বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের ভালবীজ, কীটনাশক এবং চাষ খরচের জন্য স্বল্প লাভে ব্যাংক থেকে লোনের ব্যবস্থা করলে দেবহাটার অপর সম্ভবনাময় খাত হতে পারে এই পানি ফল চাষ বলে চাষীরা জানান।