দেবহাটায় সাঁপমারা খালের খনন কাজ বন্ধে ভূমিদস্যুদের তৎপরতা


171 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটায় সাঁপমারা খালের খনন কাজ বন্ধে ভূমিদস্যুদের তৎপরতা
অক্টোবর ২৫, ২০১৯ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ::

দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নদী ইছামতির সাথে সংযুক্ত সাঁপমারা খালের খনন কাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরীতে ভূমিদস্যুদের তৎপরতা চলছে। উক্ত খালটি খননের শুরুতে আশাশুনি-দেবহাটা দুই উপজেলার বিশাল জনগোষ্টি আশার আলো দেখলেও প্রভাবশালী এইসব ভূমিদস্যুদের কারনে কিছুটা আশাহীনতার মধ্যে পড়েছেন। তাদের আশঙ্খা, এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের গলারকাটায় পন্ড হতে পারে চলমান এ কর্মসূচী।

স্থানীয় মুরুব্বীদের কাছ থেকে জানাযায়,, সাঁপমারা খালটি এক সময়ের একটি বড় আকৃর্তির খাল ছিল। যে খালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্ব থেকে নৌকা, ট্রলার ও লঞ্চ যোগে আশাশুনি ও দেবহাটার মানুষ হাট-বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করত। এ এলাকার মানুষের খুলনা যাতায়াতের পথ হিসেবেও ব্যবহার হত এই খালটি। এই খাল দিয়ে ট্রলার যোগে আনা নেওয়া করা হতো গোলপাতা সহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রী। এখান থেকে ১০/১৫ বছর আগেও নিচু এলাকার মৎস্য ঘেরগুলোর চুন সারসহ মৎস্য ঘেরের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং মাছ আনা নেওয়ার কাজেও ব্যবহার করা হত খালের এই পথটি। তাছাড়া সাতক্ষীরা জেলার সাদা সোনা নামে পরিচিত বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি চাষের জন্য একটি বিশাল এলাকার পানি সরবরাহের কাজেও ব্যবহার হয় এই খালটি। কালের বিবর্তনে আর ভূমিদস্যুদের দখল প্রতিযোগীতায় ক্রমে ক্রমে খালটি তার নাব্যতা হারিয়ে বর্তমানে মরা খালে পরিনত হয়েছে। নাব্যতা হারানোর সাথে সাথে খালটি ভূমিহীনদের দখলের পাশাপাশি দখল করেছে কিছু প্রভাবশালী দখলবাজ। দখল করার পর মনগড়া কিছু অবৈধ পন্থার বৈধ কাগজ বানিয়ে গড়ে তুলেছে ব্যবসাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অট্টালিকা। এলাকার এসব প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে চলমান এ কর্মসূচী। আর এসব ব্যবসা কেন্দ্র এবং অট্টালিকা বাচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এসকল প্রভাবশালী দখলবাজ ভূমিদস্যুরা। এলাকাবাসীর ধারনা তাদের এই অশুভ তৎপরতায় পন্ড হতে পারে চলমান এই কর্মসুচী। সূত্র মতে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলবদ্ধতা নিরসনে বদ্ধ পরিকর। তাই তিনি এদেশের নদ-নদী, খাল-বিল, হাওড়-বাওড়সহ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন করেছেন। যার ধারাবাহিকতায় আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার সংযোগ হওয়া সাঁপমারা খাল খননকল্পে গ্রহন করা হয়েছে দুইটি প্রকল্প।

সরেজমিনে যেয়ে জানা যায়, গত বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে নদী খনন পর্যায়ে দেবহাটার সাঁপমারা খালটির আশাশুনীর শোভনালী ইউনিয়নের কাটাখালী হতে দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত দেবহাটা সদর ইউনিয়নের ভাতশালায় ইছামতি নদীর সংযোগস্থল পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খননের জন্য দুইটি প্যাকেজে ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দ পরবর্তী টেন্ডারের মাধ্যমে খাল খননের দুটি প্যাকেজের কাজ পায় পটুয়াখালীর আবুল কালাম আজাদ ও ঢাকা বিজয় নগরের বশির উদ্দীন এমকে এন্টারপ্রাইজ নামের দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সাঁপমারা খালটির ৯ কিলোমিটারের এ খননকাজে উপরিভাগে গড়ে ৩০ মিটার এবং তলদেশ গড়ে ৯ মিটার হারে খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন পাউবো’র পারুলিয়া শাখা পর্যবেক্ষন ও রক্ষনাবেক্ষন অফিসের দায়িত্বরত এসও সাইদুর রহমান। তাছাড়া খালটি খনন কাজ চলাকালে দু পাশের ১৫ ফিট করে জায়গা রেখে খালের খননকৃত মাটি ফেলতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারীভাবে সাঁপমারা খাল খননের প্যাকেজ দুটির একটির কাজ আগামী জুন ও অপরটি আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে । তবে খনন কাজ শুরুর পর খালটির দু’পাশে বসবাসরত শতশত পরিবারকে তাদের ঘর, আসবাবপত্র সরিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এতে কিছু ভূমিহীন পরিবার তাদের ঘরবাড়ী, আসবাবপত্র গবাদীপশু, নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। তাদের জন্য নতুন আবাসস্থলের দাবী জানিয়েছে জনপ্রতিনিধিসহ সচেতনমহল। ভূমিহীন পরিবার নির্বিঘেœ উচ্ছেদ হলেও বাধা হয়ে দাড়িয়েছে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা।

জানাযায়, বিভিন্ন অজুহাতে পারুলিয়ার মায়া জাল শপিং সেন্টার, আবুল ফার্মেসী, দেবপ্রসাদ দেবুর পরিবারের বিলাস বহুল ভবন, দেবপ্রসাদের ফার্মেসি, পারুলিয়া মৎস্য অকশন সেন্টার অফিস, মৎস্য সেডের কিছু অংশ, আফজাল আর্টসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মধ্যে কিছু প্রভাবশালীরা তাদের অর্থের প্রভাবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ করার অচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েক জন ব্যক্তি। এ ব্যাপারে পাউবো’র পারুলিয়া শাখা পর্যবেক্ষন ও রক্ষনাবেক্ষন অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, খালটি খনন কাজ চলাকালে দু’পাশের ১৫ ফিট করে জায়গা রেখে খালের খননকৃত মাটি ফেলতে হবে। সবাইকে আগে থেকে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে কাজ চলমান আছে। পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, খালটি খনন হলে দুই উপজেলার অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। সাথে সাথে মৎস্য চাষের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করেন তিনি। তবে তিনি ভূমিহীন জনগোষ্টির কথা বিবেচনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার দাবী জানান।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, সরকারের নানামূখি উন্নয়নের একটি অংশ খাল খনন। ইছামতি নদী থেকে যাতে সরাসরি পানি দেবহাটা হয়ে আশাশুনির মরিচাপ নদীতে ওঠা নামা করতে পারে সেই লক্ষ্যে খালটি খনন হচ্ছে। খনন কাজ শেষ হলে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে মনে করেন তিনি। সাথে সাথে এই এলাকার মৎস্য চাষে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান। খনন কাজ শুরু হওয়ার আগেই দু’পারের বসতিদের নোটিশ করে সর্তক করে দেওয়া হয়েছে এবং যারা নিজেরা স্থাপনা সরিয়ে নেননি তাদেরকে কাজের সুবিধার্থে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

#