দেবহাটা কলেজের সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের সাংবাদিক সম্মেলন


339 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটা কলেজের সভাপতির বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের সাংবাদিক সম্মেলন
জুন ১৫, ২০১৯ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহটা ::

দেবহাটা কলেজের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির দূর্নীতিবাজ সভাপতির পদ চলে যাওয়ায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হক। এমন অভিযোগ এনে শনিবার দুপুরে দেবহাটা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এসে ষড়যন্ত্র ও আনোয়ারুল হকের কবল থেকে রেহাই পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বর্তমান অধ্যক্ষ একেএম আনিসউজ্জামান কালাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের অধ্যক্ষ থাকাকালীন সময়ে অনেক চড়াই উৎড়াই পার করে কলেজটির সুনাম অক্ষুন্ন রাখা ও কলেজটির লেখাপড়ার মান উন্নত করাসহ একাডেমিক উন্নয়নে সদা সর্বদা কাজ করেছেন। যার কারনে আজকে কলেজটি একটি সম্মানজনক স্থানে অবস্থান করছে। কিন্তু কলেজটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি কলেজকে ব্যবহার করে নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু তার দৃঢ় অবস্থানের কারনে অনেকেই সেটা পারেনি। গত ইং ২৩-০৬-২০১৫ তারিখে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ০৭ (খু-৭৮০) জাতীঃ বিঃ/কঃপঃ/২০৬২৯ নং স্মারকে আলী মোর্তজা মোঃ আনোয়ারুল হককে ৩ বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে আদেশ প্রদান করে। সেখান থেকে আনোয়ারুল হক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালীন কলেজের পুকুর বিনা লিজে নিজে ব্যবহার করে। কলেজের আম বাগান বিক্রি করে টাকা কলেজ ফান্ডে জমা প্রদান না করে নিজে আত্মসাৎ করে। কলেজে ২ জন শিক্ষক নিয়োগ, কলেজ সরকারীকরনের জন্য টাকা গ্রহন, কলেজের নতুন ভবন করার সময় ঠিকাদারের নিকট থেকে টাকা গ্রহন করা এমনকি নিজের ব্যক্তিগত মোটর সাইকেল রেজিষ্ট্রেশন করার নাম করে টাকা গ্রহন করাসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় খরচ বাবদ সর্বমোট আনুমানিক ২৫ লক্ষ টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি (অধ্যক্ষ) এইসব বিষয়ের প্রতিবাদ করলে বা বাধা দিলে সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হক তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ২২ জুন সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ওঘঝ০২-৪/০০২২৬/২০১৮/০২৫৪/৪০৩৯৪ নং স্মারকে গত ইং ০৯-০৮-২০১৮ তারিখে সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক যথাযথ না হওয়ায় নতুন ৩ জন ডিগ্রিধারী ব্যক্তির নামের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। পরে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ওঘঝ০২-৪/০০২২৬/২০১৮/০২৫৪/৪০৮৭১ নং স্মারকে গত ইং ১৭-০৯-২০১৮ তারিখে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারী করে। সেই আদেশ না মেনে আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ারুল হক মহামান্য হাইকোর্টে রিট করলে মহামান্য হাইকোর্ট সেই আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ প্রদান করেন। সেই আদেশের ফলে কলেজে কোন সভাপতি না থাকায় জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ০৭ (খু-৭৮০) জাতীঃ বিঃ/কঃপঃ/কোড-০২৫৪/৪৩৩৬৬ নং স্মারকে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি-২০১৫ এর প্রবিধান ১২ অনুযায়ী গভর্নিং বডির সভাপতির অনুপস্থিতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষর করতে পারবেন বলে আদেশ প্রদান করে। তিনি বলেন, অধ্যক্ষ হিসেবে সেই আদেশের বলে জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিলে এবং কলেজের আত্মসাৎকৃত অর্থ কলেজ ফান্ডে জমা প্রদান করার কথা বললে সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হক তার উপর আক্রোশমূলকভাবে গত ইং ১১-০৬-২০১৯ তারিখে উপজেলা সদরে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করার চেষ্টা চালায়। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশসহ দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে আনোয়ারুল হক তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অশুভ অভিপ্রায়ে কিছু কুচক্রীমহলের সহযোগীতায় ১৫-০৬-১৯ ইং তারিখে ২/১ টি পত্রিকায় তার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। সংবাদে তার নামে যা প্রকাশ করা হয়েছে বা তিনি যদি কোন অনিয়ম করে থাকেন তাহলে আনোয়ারুল হক যে ৩ বছর সভাপতি হিসেবে ছিলেন তিনি কেন সে সময় তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি সেই প্রশ্ন রেখে অধ্যক্ষ বলেন, দেবহাটা উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা কালাচাঁদ সিংহ কলেজের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে গত ২৫-০৩-১০ ইং তারিখে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেন এবং কলেজের গর্ভনিং কমিটির গত ১৫-১১-১০ ইং তারিখের সভায় তার পক্ষে নির্দোষ প্রমান করে রেজুলেশন লিপিবদ্ধ হয়। তিনি উক্ত সাবেক সভাপতির এহেন হীন মানষিকতা ও ঘৃন্য কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে সাবেক সভাপতির বিচার দাবী করেছেন।

#