দেবহাটা থেকে চড়ুই পাখির সময় চক্রের বর্ষ পরিক্রমায় বিলুপ্ত প্রায়


197 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেবহাটা থেকে চড়ুই পাখির সময় চক্রের বর্ষ পরিক্রমায় বিলুপ্ত প্রায়
নভেম্বর ৭, ২০২০ ইতিহাস ঐতিহ্য দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ::

দেবহাটা থেকে চড়ুই পাখির সময় চক্রের বর্ষ পরিক্রমায় বিলুপ্ত প্রায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে যে সকল পশুপাখি ভূমিকা অপরিসীম তাদের মধ্যে চড়ুই পাখি অন্যতম। আমাদের চারপাশের পরিবেশে ছোট বড় নানা প্রজাতির পাখি আমরা দেখতে পায়। এদের মধ্যে মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে যে পাখি সবচেয়ে বেশী পছন্দ করে সেটি হচ্ছে চড়ুই। চড়ুই পাখি আকারে অনেক ছোট। এদের গায়ের রং খয়েরী। এরা অফিস বা বাড়ীর দেওয়ালের ফাঁক ফোকরে বাঁসা বেধে থাকতে ভালোবাসে। তাই কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী কবিতা ‘‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুড়ে ঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই, আমি থাকি মহাসুখে অট্রালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে”। এই কবিতার কারনে সবার কাছে আজও অতি পরিচিত চড়ুই পাখি ও তার বাসা। কিন্তু কবিতা প্রতিনিয়ত মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হলেও সময় চক্রের বর্ষ পরিক্রমায় দেবহাটাসহ আশেপাশের উপজেলা থেকেও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের সেই সুপরিচিত চড়ুই পাখি। কিন্তু বর্তমান বিশ^ জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারনে সচরাচার আর দেখা যায়না চড়ুই পাখি ও তার বাসা। বাড়ীর আশপাশে এক গাছ থেকে অন্য গাছে, ঝোপ-ঝাড়ে, অফিস বা বাড়ীর ছাদে চড়ুই পাখির ছুটে চলা এখন আর চোখে পড়ে না। আবহমান বাংলার শোভন হচ্ছে সামাজিক বন্ধনের চড়ুই পাখি। চড়ুই পাখি ও তার বাসার সঙ্গে আমাদের দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এরা দলবেঁধে বিচরণ করতে ভালবাসে এবং আহারের পর একসঙ্গে বসে কিচির-মিচির শব্দে চারিপাশ মুখোরিত করে তোলে। চড়ুই পাখি দল বেঁধে অফিস বা ঘরবাড়ীর দেওয়ালে এবং বড় গাছের গর্তে বাসা বাঁধে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে বর্তমান সময়ে চড়ুই পাখিদের আগের মত ঝাঁকবেঁধে যেখানে সেখানে থাকতে বা চলতে দেখা যায়না। শোনাও যায়না সন্ধাবেলা তাদের কিচির-মিচির শব্দ। একটা সময় গ্রাম গঞ্জে বাড়ীর উঠান, ঘরের কোণে, বারান্দায় চড়–ইয়ের উপস্থিতি ছিল খুবই স্বাভাবিক। চড়–ইয়ের ডাকে সকাল শুরু হতো। আবার সন্ধ্যায় চড়–ইয়ের ডাকে কৃষকেরা মাঠ থেকে বাড়ী ফেরার আনন্দ পেতো। কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের গ্রাম-বাংলা থেকে শূন্য হয়ে যাচ্ছে দেশীয় এসব পাখি। তবে আমাদের অতি পরিচিত চড়–ইসহ নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি এখনো গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেলেও তা সামান্য। যে পাখি সবসময় মানুষের সান্নিদ্ধ্যে থাকতে দেখা যেত, মাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতো হাজার বছরের সেই পাখি কালের পরিক্রমায় আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই গৃহস্থালি নামে খ্যাত সেই চড়–ই পাখির কিচির মিচির শব্দ এখন আর শোনা যায়না বললেই চলে। এই চড়–ই পাখির হ্রাসের অন্যতম কারণ হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণহীন রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার। ক্ষতিকর পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহার করে। আর চড়–ই পাখির প্রধান খাদ্য ছোট ছোট পোকামাকড়, সরিষা দানা, ঘাসের বিচি ও চাউলের কুঁড়ো। তাই কৃষি জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এসব পোকামাকড় খেয়ে তারা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। চড়–ই পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এরা কৃষকদের ক্ষেতের মারাত্মক ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। গাছের পাতা ধ্বংসকারী পোকামাকড় খেয়ে গাছকে সতেজ রাখে এবং গাছের ডালে বসে গাছের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং সাধারণ মানুষের অবহেলা প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে আমদের সবুজ বৃক্ষ। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে পাখিদের আবাসস্থান ধ্বংস এবং বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকর কীটনাশক প্রয়োগের প্রভাবে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা এ সব দেশীয় পাখিগুলো।

#