দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ‘সুন্দরবনের কেওড়া’


3588 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে ‘সুন্দরবনের কেওড়া’
ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলত া:
দেশের ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের ‘কেওড়া’ দক্ষিণাঞ্চল মানুষের একটি প্রিয় ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম স্যানোরেসা এ্যালবা বা ম্যানগ্রোভ আপেল। সু-সাদু টক ফল এই কেওড়ার নাম শুনলে পরিচিতদের জিহবায় জল আসে। হয়ত দেশের অনেক স্থানে এখনও ফলটি অপরিচিত। সুন্দরবনের হাজারও একর জমি জুড়ে প্রাকৃতিকভাবেই কেওড়া জন্মে। আর এ বন থেকে বছরে হাজারও টন কেওড়া ফল পাওয়া যায়। দক্ষিণাঞ্চল অর্থাৎ বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের পরিচিত ও প্রিয় ফল এটি। এ ফল দিয়ে মানুষ সাধারণত টক খাটা রান্না করে খেয়ে থাকে। শুধু মানুষ নয়, সুন্দরবনের হরিণ, বানর, বন্যপাখিরও এ ফল খুব প্রিয়। কেওড়ার উপাদানের মধ্যে ভিটামিন সি, কার্বহাইড্রেট, ফ্যাটি এসিড, ফলিক এসিড, সামান্য ফ্যাট, এন্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার অধিক পরিমান আছে বলে জানা যায়।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের কেওড়া নামের এ ফল দিয়ে অনেক সুসাদু খাদ্য তৈরি করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব। এমনই পরীক্ষামূলক গবেষণা করে সফলতার কথা জানিয়েছেন, ড্যাফেডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিউট্রেশন এন্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র মাহতি আহছান অভি (২৪) এবং এ সফলতার পিছনে তার স্ত্রী রিমির সহযোগিতায় ছিল বলে জানান তিনি। তরুণ এ গবেষকের গ্রামের বাড়ী সাতক্ষীরার নলতা শরীফে। তিনি অবঃ প্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. ইয়াহিয়ার জৈষ্ঠ্য পুত্র। জানা যায় কেওড়া দিয়ে সু-সাদু আচার, জেলি, জ্যাম, জুস সহ বাজারের চাহিদামত সকল প্রকার জেলি, জ্যাম তৈরি করা সম্ভব। যাতে বাজারে অন্যান্য আচার, জেলির মত শুধু ফ্লেভার দিয়ে তৈরি করা লাগবে না। কেওড়ার থেকে মানুষ আসল জেলি-জুস ইত্যাদি খেতে পারবে এবং পর্যাপ্ত পরিমানে এর চাহিদা বাড়বে। সাথে সাথে অন্যান্য জুস বা ড্রিংস এর কাচামাল হিসাবেও এ ফল ব্যবহার হতে পারে। আর এসকল চাহিদা একমাত্র সুন্দরবনের এ ফল দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয় জানতে চাইলে ঐ ইউনিভার্সিটির নিউট্রেশন এন্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ্যসোসিয়েট প্রোফেসর এবং বাংলাদেশ এ্যাগ্র প্রোসেসিং এ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ডাঃ মো. বেলাল হোসেন দৈনিক কালের চিত্রের সাংবাদিককে বলেন- এই সুসাদু কেওড়া ফল যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্ভাবনাময় সাফল্য অর্জন হবে। এ ফলের তৈরি খাদ্য দেশের চাহিদা মেটানোর পর পর্যাপ্ত পরিমানে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
এ নিয়ে দেশখ্যাত পুষ্টিবিদ ও টেলিভিশন উপস্থাপক মুনমুন হক বলেন- এই ফলে যেহেতু এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার অধিক পরিমাণ আছে। সেহেতু সর্বসাধারণের সাথে ডাইবেটিস রুগীদের এবং শিশুদের জন্যও খাওয়ার উপযোগি হবে। এমনিভাবে সুন্দরবনের এই ফল দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে সম্ভাবনাময় সাফল্য দেখা গেছে, এখন সেটি যথাযথ ব্যবহার এবং দ্রুত বাজারজাত করনের প্রস্তুতি চলছে বলে ড্যাফেডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক সূত্রে জানা যায়।