‘দেশের উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সে দোয়া চাই’


366 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘দেশের উন্নয়ন যেন অব্যাহত থাকে সে দোয়া চাই’
জুলাই ১৮, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ঈদের দিন সকালে সর্বস্তরের নাগরিক এবং বিচারপতি , কূটনীতিক ও রাজনীতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে ‘ঈদ মোবারক’ জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “মানুষ ও আল্লাহর কাছে দোয়া চাই- বাংলাদেশের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা যেন অব্যাহত থাকে।

“বাংলাদেশ যেন বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। বাঙালি জাতি বিশ্বসভায় যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে”

শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন জনগণের কল্যাণে কাজ করে। নিয়ত ভালো থাকলে ফল যে পাওয়া যায়, তাও আজ প্রমাণিত।”

বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের বাজেট চারগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এখন উন্নয়নের রোল মডেল।

“সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বের কাছে সমাদৃত।”

“আমি এটাই চাই, মানুষ শান্তিতে থাকবে, মানুষের জীবনযাত্রা উন্নত হবে।”

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদাহরণ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “এবার আরেকটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন, মানুষ ব্যাপকভাবে কেনাকাটা করেছে। এটা শুধু ঢাকায় নয়, সমগ্র বাংলাদেশে। অর্থাৎ মানুষের সেই আর্থিক সঙ্গতি ফিরে এসেছে। এটা আরও বৃদ্ধি পাক, সেটাই আমরা দোয়া করি।

“দেশের জনগণ যেন ভালো ও সুস্থ থাকে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এবার আমাদের রেল, সড়ক ও নৌপথ সবগুলো যাতে খুব ভালোভাবে চলতে পারে, মানুষ যাতে সুষ্ঠুভাবে ঘরে গিয়ে দেশে গিয়ে গ্রামে গিয়ে তাদের ঈদ উদযাপন করতে পারে সেই সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমরা যথাযথ চেষ্টা চালিয়েছি। আমি আশা করি প্রত্যেকটা মানুষই সুন্দরভাবে যাতায়াত করতে পেরেছেন।”

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, এবার মলম পার্টি, এই পার্টি, ওই পার্টি এগুলোর দৌরাত্ম্যও কিন্তু তেমন ছিল না, সেগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।”

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রোজার মাসে নিয়ন্ত্রণে থাকায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  “তারা খুব সুষ্ঠুভাবে কাজ করেছেন। মানুষ রাত ১২টা, ১টা, ২টা পর্যন্ত বাজার করেছে। রাত ২টা  পর্যন্ত বাজার করে ঘরে ফিরে সেহরি খেয়ে ঘুমিয়েছে, এরকম ঘটনাও আছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। মানুষ নিরাপদে শান্তিতে এটা করতে পেরেছে।”

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বছরের শুরুতেই ‘রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি’ না চালালে জনগণ কোনো কষ্ট ছাড়াই ঢাকার বাইরে যেতে পারত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “জানুয়ারি থেকে ৯৬দিন বিএনপি-জামায়াত জোট আন্দোলনের নামে যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল, প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি বাস-গাড়ি তারা পুড়িয়ে দেয় বা ভেঙে ফেলে। রেলে ইঞ্জিনসহ আমরা নতুন নতুন বগি কিনেছিলাম। সেগুলো পুড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি লঞ্চেও আগুন দিয়েছে। এই যে জ্বালাও পোড়াওয়ের ফলে আমাদের মানুষ যাতায়াতের গাড়ি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ‍যার ফলে কিছু ক্ষতি অবশ্যই হয়েছে।”

“অনেকেরই হয়তো কিছু কষ্ট হয়েছে, এগুলো যদি না করত, রেল বাস এগুলো যদি সচল খাকত, তাহলে মানুষ আরও সুন্দরভাবে যাতায়াত করতে পারত।”

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে এবং তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন,  “আপনারা জানেন আমাদের রেলমন্ত্রী পরিশ্রম করতে করতে হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে গেছেন। তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় আছেন। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি যাতে তিনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি।”

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন মহাসড়ক পরিদর্শনের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

“আমাদের যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী দিনরাত প্রতিটি এলাকায় নিজে ঘুরে ঘুরে যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে সুন্দর থাকে সেই ব্যবস্থা করছেন।”

আষাঢ়-শ্রাবণের ঘনবৃষ্টিতে সড়কের ‘কিছুটা’ ক্ষতি হয়- মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “আর গাড়ির সংখ্যাওতো বেড়েছে। তার কারণ মানুষের আর্থিক সঙ্গতি বেড়েছে। যত বেশি আর্থিক সঙ্গতি বেড়েছে, তত বেশি গাড়ি কিনছে। আগে যে পরিবারে একখানা গাড়িও ছিল না তারা অন্তত একখানা কিনেছে, যার দুইখানা কেনার সামর্থ ছিল, সে দুইখানা কিনেছে। কেউ তিনখানা কিনেছে।

“আমি এতটুকু বলব, এবারে ঈদে ঘরে ফেরা নিয়ে আমাদের পত্রপত্রিকা বেশি লেখার সুযোগ পায় নাই। অন্য কোনো সেক্টরেও পায় নাই।”

গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী জোটের অবরোধে নাশকতার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো নোংরা কাজ, জঘন্য কাজ আর হতে পারে না। আন্দোলনের নামে জীবন্ত মানুষকে আগুন দিয়ে পোড়ানো- এর থেকে জঘন্য কাজ আর কি হতে পারে? বিএনপি-জামায়াত মিলে খালেদা জিয়াতো সেই কাজই করেছে।

“কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষতি আর কেউ করতে পারবে না। সেই শক্তি আর ক্ষমতা তাদের নেই, আর হবেও না। এটুকু বলতে পারি।”