দেশের চিকিৎসা সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত সাতক্ষীরার ডা: এবাদুল্লাহ : ফি ৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০ টাকা


891 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেশের চিকিৎসা সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত সাতক্ষীরার ডা: এবাদুল্লাহ : ফি ৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০ টাকা
জানুয়ারি ৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ায় :
মাত্র ৫ টাকা ফি নিয়ে প্রায় ৪০ বছর যাবত সাধারন মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডাক্তার মো: এবাদুল্লাহ। তার কাছে সেবাই পরম ধর্ম। সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষই যেন তার কাছ থেকে সেবা নিতে পারে এমনই ব্রত লালন করে দীর্ঘ চার দশক যাবত চিকিৎসা পেশার সাথে রয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় নিজের চেম্বারের বাইরেও দিন-রাত যখনই তাকে দরকার পড়বে পাওয়া যায়।

সুদীর্ঘ সরকারি চাকরি জীবনে সাতক্ষীরার সবার প্রিয় ডা: মো: এবাদুল্লাহ মেডিকেল অফিসার থেকে পদোন্নতি পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং চাকরির শেষ পর্যায়ে সিভিল সার্জন হয়ে অবসরে গেলেও তার প্রাইভেট প্রাকটিসের ফি কখনও বাড়েনি। ৪০ বছর আগে রোগিপ্রতি যে ফি নির্ধারন করেছেন তিনি এখনও রোগিপ্রতি সেই ফি নেন। অন্য চিকিৎসকদের মতো নেই তার কোন লোভ-লালসা। মানব সেবাই যেন তার পরম ধর্ম।

সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াদ আলী (৭০) জানান, তার পরিবারের সকল সদস্যই ডাক্তার এবাদুল্লাহ‘র কাছে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করে থাকে। তেমন কোনো সার্জারীকে ব্যতি রেখে অন্যান্যসব চিকিৎসা মাত্র ৫ টাকার মধ্যে মিটে যায়। এতে করে বছরে অনেক টাকা চিকিৎসা বাবদ সাশ্রয় হয় তার পরিবারের। একই ধরনের কথা বললেন শহরের রাজার বাগান গৃহবধু হাসিনা খাতুন (৪৫)। তিনি জানান, ৫ সদস্যের পরিবার বারো মাসই ডাক্তার এবাদুল্লা‘র কাছে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করেন। গৃহবধু হাসিনা খাতুন আরো বলেন, সাতক্ষীরা শহরে প্রাইভেট ভাবে যে সব এমবিবিএস ডাক্তার রোগী দেখেন তারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার কমে ফি গ্রহন করে থাকেন না। কিন্ত ডাক্তার এবাদুল্লাহ যা করছেন সাতক্ষীরার চিকিৎসকগনের মধ্যে এক দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিনের পেশা জীবনে যে ত্যাগ তিনি করেছেন সেটি অবশ্যই বিরল।

কথা হয় সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর মহল্লার বাসিন্দা সাবেক সিভিল সার্জন ও এমবিবিএস ডাক্তার এবাদুল্লাহ‘র সাথে। ১৯৭৭ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করে ওই সালেই মেডিকেল অফিসার হিসাবে সরকারী চাকরীতে যোগদান করেন। এরপর ১৯৮০ সালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১০ সালে তিনি অবসর গ্রহন করেন। তিনি জানান, সরকারী দায়িত্ব পালনকালীন সময় তিনি অফিস শেষে দিনের বাকি সময়টা তার নিজস্ব চেম্বারে ৫ টাকা ফি নিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সেবা দিয়ে আসছেন। যা আজো অব্যাহত রেখেছেন। তবে সম্প্রতি ৫ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা ফি নির্ধারন করেছেন বলে জানান এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, সমাজের সবধরনের মানুষ তার কাছ থেকে যেন চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারে এমই ব্রত নিয়ে মাত্র ৫ টাকা ফি নির্ধারন করেন গত আশি‘র দশক থেকে।

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়শনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ডাক্তার মো. আজিজুর রহমান জানান, চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার এবাদুল্লাহ‘র মত মানুষ বর্তমান সমাজে বিরল। তার পেশাগত জীবনে যে ত্যাগের পরিচয় দিয়েছে তা অবশ্যই দেশের চিকিৎসা বিভাগে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডাক্তার সালেহ আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন ডাক্তার মো: এবাদুল্লাহ চিকিৎসা সেবাতে সমাজে যে অবদান রেখেছেন তা সত্যিই অসামান্য অবদান। এমবিবিএস ডাক্তারী পাশ করার থেকে অদ্যবধি নামমাত্র ৫ টাকা ফি গ্রহন সমাজের সাধারন মানুষের সেবা যাচ্ছেন তিনি। এ জন্য আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে তার প্রতি কৃতজ্ঞগতা প্রকাশ করছি।