দেশের সবচেয়ে ছোট বয়সের লেখক সাতক্ষীরার সন্তান অলীন বাসারের সাত বই


934 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
দেশের সবচেয়ে ছোট বয়সের লেখক সাতক্ষীরার সন্তান অলীন বাসারের সাত বই
মার্চ ৮, ২০১৯ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
দেশের সবচেয়ে ছোট বয়সের লেখক অলীন বাসার। বয়স যখন ছয় তখন থেকেই প্রকাশ হচ্ছে তার বই। পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর এখন মোট বইয়ের সংখ্যা সাত। প্রত্যেকটা বইই পাঠকের কাছে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এবারও প্রকাশ হয়েছে দুটো বই।

সাতক্ষীরা জেলার পলাশপোল গ্রামে তার বাড়ি। সাতক্ষীরা বই মেলায় পাওয়া যাচ্ছে এই ছোট্ট লেখকের সব বই। ৭ই মার্চে রাজ্জাক পার্কে শুরু হওয়া মেলা চলবে ১৭ই মার্চ

পর্যন্ত।

সহজ ভাষায় সুন্দর কাহিনীতে মোড়ানো অলীনের গল্পগুলো। ছোটদের পড়তে যেমন সহজ বুঝতেও তেমনই সহজ। একটা গল্পের সাথে অন্য গল্পের মিল নেই। প্রত্যেকটাতে নতুন নতুন কাহিনী। সাবলিল ভাষা আর নতুন কাহিনী ছোট পাঠকদের বেশ আকৃষ্ট করছে।

২০১৫ সালে অলীন বাসার এর প্রথম বই প্রকাশ হয়। প্রথম বইয়ের নাম ছিল ‘অন্ধকারে ভূতের ছায়া’। প্রকাশ করেছিল সাঁকোবাড়ি প্রকাশন। দাম ছিল ১০০ টাকা। তার দ্বিতীয় বইয়ের নাম ‘ভুতুড়ে’ আর তৃতীয় বইয়ের নাম ‘ভুতুম’। এদুটো বইও প্রকাশ করেছিল সাঁকোবাড়ি। তিনটে বইয়েরই প্রথম সংস্করণ শেষ হয়েছে প্রথম প্রকাশেই। এবার এসব বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে। সাথে এসেছে নতুন বইও।

গতবছর অলীন এর এক সাথে দুটো বই বের হয়েছিল। ‘পালোয়ানের হার’ ও ‘ভূতের টিউশনি’। পালোয়ানের হার প্রকাশ করেছিল ঘাস ফড়িং। আর ‘ভূতের টিউশনি’ জ্ঞান বিতান।

অমর একুশে গ্রন্থ মেলা ২০১৯ এ দুটো বই প্রকাশ হয়েছে। একটা ‌’বিড়াল পণ্ডিত’। প্রকাশ করেছে ঘাস ফড়িং। এর দাম ১৬০ টাকা। পুরো রঙিন এই বই এ সুন্দর সুন্দর ছোট ছোট ১৭টা গল্প আছে। ফেব্রুয়ারিরমাঝামাঝি এই বই প্রকাশ হয়েছে। এখনই প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার পথে। আর ‘গোরস্তানে বিয়ে’ বই প্রকাশ করেছে সাম্প্রতিক প্রকাশনি। সুন্দর আর মজার মজার গল্প আছে এতে।

‘ভূত নেই তবু ভূতের ভয় পায়’ তাই ভূত নিয়ে এই নাড়াচাড়া অলীনের। একটা বই আগে থেকে ভূতদের নামে উৎসর্গ করে রেখেছে অলীন। আর সেখানেই লিখেছে ‘ভূত নেই তবু ভূতের ভয় পায়’ তাই ভূতের নামে উৎসর্গ। আবার ভূতের টিউশনি উৎসর্গ করেছে যে ভূতেরা লেখা পড়া করতে চায় তাদের নামে। কাগজ কলমকেও বাদ দেয়নি উৎসর্গ করতে। কারণ তাদের ছাড়াতো গল্পই হতো না, তাই।

প্রাণিদের নিয়ে গল্প লেখা শুরু অলীনের। তারপর ভূত। তবে অলীনের ভূতগুলো ভয়ংঙ্কর না। বন্ধুসুলভ। তারপর রহস্য। এখন সব রকমের গল্প লেখা তার দৈনিক কাজ। নিয়মিত স্কুলের পড়ার পরে নিজের জগতের পড়া আর লেখা তার অন্যতম কাজ। এর সাথে ঘড়ি ধরে খেলতে যাওয়া আছেই।

অলীনের পড়ার ভাণ্ডার অনেক। হুমায়ুন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, ইমদাদুল হক মিলন নিয়মিত পড়ে। পড়া শেষ করেছে সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সমগ্র। সুনীলের সাথে আছে শীষেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়রে কিশোর উপন্যাস। পড়ছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যজিৎ রায়। উপেন্দ্র কিশোর রায়, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র পড়া শেষ সেই ছোট বেলায়।

প্রতিদিন রাতে গল্প বলা অথবা শোনার সেই অভ্যাস এখনও গভীরভাবেই আছে।

আনিসুল হক প্রিয় লেখকদের অন্যতম। সাথে বাবা চাচাদের লেখনী তাকে লিখতে ও পড়তে উৎসাহ দেয়।

এত ছোট বয়সে এমন লেখাখেখির বিষয়ে কথা হয় বিশিষ্ট লেখক আনিসুল হকের সাথে। তিনি বললেন, আমার প্রিয় লেখকদের তালিকায় আছে অলীন বাসার। অলীন খুব ভালো লিখছে। তার লেখা সহজ। সুন্দর। সে আমাদের বিষ্ময়। বাংলাদেশের গর্ব। শুধু দেশের গর্ব নয় হয়তো অলীন বিশ্ব রেকর্ড করার গর্বও অর্জন করতে পারে। কারণ এত ছোট বয়সে এমন সুন্দর এবং এত লেখার খবর আর আমার জানা নেই।

অলীন অবশ্য এসব নিয়ে ভাবে না। এক কথায় বলল, ভালো লাগে তাই লিখি। আমার নিজের তাগিদে লিখি। বই প্রকাশ হবে কী হবে না তা ভাবি না। আমার লেখা আমি লিখে যায়। তবে হাতে নতুন বই পেলে খুব ভালো লাগে। তা সে নিজের বই অথবা অন্যের। অলীন বলল, বড় হয়ে আমি লেখকই হতে চাই, আর কিছু না।

অলীন এখন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। সাতক্ষীরা জেলার পলাশপোল গ্রামে নিজের বাড়িতে তার জন্ম।

অলীন বাসার এর বইগুলো হলো, ‘অন্ধকারে ভূতের ছায়া (সাঁকোবাড়ি, ২০১৫)’, ‘ভুতুড়ে (সাঁকোবাড়ি, ২০১৬), ভুতুম (সাঁকোবাড়ি, ২০১৭)’, ‘পালোয়ানের হার (ঘাস ফড়িং, ২০১৮), ‘ভূতের টিউশনি’ (জ্ঞান বিতান, ২০১৮), ‘বিড়াল পণ্ডিত’ (ঘাস ফড়িং, ২০১৯) ও ‘গোরস্তানে বিয়ে’ (সাম্প্রতিক প্রকাশনি, ২০১৯)।