ধুলিহর সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ফেরত দিলেন ঘুষের টাকা


345 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ধুলিহর সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ফেরত দিলেন ঘুষের টাকা
আগস্ট ১৭, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরায় ঘুষের টাকা হজম করতে না পেরে নানান তাল-বাহানা করে অবশেষে অভিযোগ দায়েরের পরপরই একের পর এক ঘুষের টাকা ফেরত দিচ্ছেন এক ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তার নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি অফিসে কর্মরত। জানা যায়, বছর খানেক পূর্বে ব্রহ্মরাজপুর উমরাপাড়া গ্রামের মৃত ওমর আলি গাজীর পুত্র মোঃ সাজ্জাত হোসেন ভূমি অফিসে যায় ব্রহ্মরাজপুর বাজারের নিজ দখলীয় পেরিফেরী ভূক্ত অস্থায়ী চান্দিনা বন্দোবস্ত নেওয়ার জন্য। এ সময় ভূমি অফিসের কর্মকর্তা তার কাছে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। নিরুপায় হয়ে গ্রামের সহজ-সরল সাজ্জাত হোসেন তার দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করে। মাসের পর মাস তাকে বন্দোবস্ত না দিয়ে হয়রানী করতে থাকে। কাজ করে দিতে না পারায় গত জুলাই মাসে কয়েক দফায় তার কাছে টাকা ফেরত চায়। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষের সামনে তাকে গালি গালাজ, হুমকি-ধামকি ও দোকান ভেঙ্গে সরিয়ে নিলে টাকা ফেরত দেবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে গত ৩ আগষ্ট সাজ্জাত হোসেন ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সহ কয়েকটি দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে। খবর পেয়ে ঐ দিনই তাকে অফিসে ডেকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেয়। এছাড়া তার সাথে অত্যান্ত ভাল ব্যবহার করে বলে ‘আমি কারো টাকা মেরে খাবো না’। বাকী টাকা পরে দেবে বলে জানিয়ে দেয়। মঙ্গলবার (১৬ আগষ্ট) বিকালে পুনরায় সাজ্জাত হোসেনকে অফিসে ডেকে ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। টাকা ফেরত দেওয়ার সময় ওই কর্মকর্তা কৌশলে তার সাথে আর কোন লেন-দেন বা তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই মর্মে লিখিত নিয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধুলিহর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ও ভূমি মাপ জরিপকারী স,ম জালালউদ্দিন। ওই কাগজে তাকেও স্বাক্ষী বানানো হয়েছে। সেই লিখিত কাগজের একটি কার্বন কপিও সাজ্জাত হোসেনকে প্রদান করা হয়েছে। ওই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন অন্ত নেই। গত ৮ আগষ্ট ধুলিহর বালুইগাছা গ্রামের মৃত অধর চন্দ্র পালের পুত্র বীরেন্দ্র নাথ পালের নিকট থেকে ১৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহনের কারনে বিভাগীয় কমিশনার সহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। বীরেন্দ্র নাথ পালের অভিযোগ, প্রায় ১ বছর পূর্বে দোকান ঘর বন্দোবস্ত দেওয়ার নামে ঘুষ নিয়ে কাজ না করে উল্টো ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই অভিযোগের পরেই তাকেও অফিসে ডেকে ৭ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মরাজপুর উমরাপাড়া গ্রামের মোঃ ওসমান মোড়লের পুত্র ছলেমান মোড়ল জানান, তাদের দুটি দোকান ঘর বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য নায়েব রফিকুল ৪৭ হাজার ৫ শত টাকা ঘুষ নিয়েছে। তিনি ১ বছর ৩ মাস ধরে এই সমস্যায় ভুগছেন। তার কাজের এখনো কোন সমাধান হয়নি। অপরদিকে নূনগোলা গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের পুত্র আবুল হাসান জানান, প্রায় ৮ মাস পূর্বে ৪ শতক জমি খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করে। এ সমস্ত ঘটনার পরে অভিযোগের ভয়ে তাকে ইতিমধ্যে অফিসে ডেকে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। একটি সূত্র জানায়, ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ধুলিহর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদানের পর হতে জমির মিউটেশন, খাজনা (দাখিলা), খাস জমি বন্দোবস্ত, ইজারা, একসনা লীজ, ব্রহ্মরাজপুর বাজারের পেরি-ফেরীভুক্ত অস্থায়ী চান্দিনা বন্দোবস্ত সহ ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছে। সাধারন মানুষকে মাসের পর মাস কাজ করে দেওয়ার নামে হয়রানী করা হচ্ছে। বর্তমানে অফিসটি দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না অফিসটিতে। ধুলিহর ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের বহু মানুষের কাছ থেকে নায়েব রফিকুল জমির বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে সম্পূর্ন হয়রানী করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হয়েছে। অনেক নিরীহ মানুষ কাজের জন্য টাকা দিয়ে শেষ পর্যন্ত কাজ না পেয়ে তার হুমকি-ধামকি ও অসৌজন্যমূলক আচারনে ফিরে গেছে। আবার অনেকে টাকা ফেরত চাইলে তার বিরুদ্ধে উল্টো ব্যবস্থা নেওয়ার ভয়ও দেখান তিনি। এক কথায় এলাকার মানুষ তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ধুলিহর ও ব্রহ্মরাজপুর এলাকায় আমার আত্মীয়-স্বজনের বসবাস। কাজ না করে আমি কারো টাকা নিয়ে যাবো না। কাজ করতে গেলে ভুল হয়। তিনি সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য এ প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।  এলাকাবাসী অবিলম্বে দূর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তা রফিকুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।