নতুন কমিটি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি বিভক্ত : সংবাদ সম্মেলন স্থগিত


1249 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নতুন কমিটি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি বিভক্ত : সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
মার্চ ১৩, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর / শাহিদুর রহমান ::
সদ্য ঘোষিত সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে বিএনপির একাংশের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নতুন এই কমিটিকে নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। তারা প্রকাশ্যে দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ, সাধারণ সম্পাদ তারিকুল হাসান ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব একদিকে অবস্থান নিয়েছে। অপর দিকে, নতুন এই কমিটির বিপক্ষে অবস্থান জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম ফারুক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড: সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম।

এদিকে, স্থানীয় বিএনপির একাংশ সদ্য ঘোষিত এই কমিটি বাতিলের দাবিতে সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দিলেও তা হয়নি। সাংবাদিক সম্মেলন আহবান করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির প্রবীণ নেতা নতুন কমিটির সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম ফারুক। সোমবার বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন ডেকে তিনি বা তার কোন সমর্থক সেখানে হাজির হয়নি। সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন স্থগিত ঘোষনা করেন। অনেক সাংবাদিক প্রেসক্লাবে বেলা ১১ টার সময় হাজির হয়ে জানতে পারেন বিএনপির একাংশের ডাকা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলন আহবানকারী বিএনপির সিনিয়র নেতা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফারুক ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। সবার সাথে একটু সমম্বয় করে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হবে। তিনি বলেন, মূলত. জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগটি নিয়েছিলেন। তিনিই ডেকে ছিলেন সংবাদ সম্মেলন। যে চিঠিতে সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয়েছে সেখানে তো আপনার নাম রয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুল ইসলাম ফারুক বলেন, কাগজে-কলমে তো অনেক কিছুই লেখা থাকে, তাই না——।

জেলা বিএনপির নতুন কমিটির ১নং সহ-সভাপতি , সাবেক সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, যেহেতু (দলের চেয়ারপার্সন) ম্যাডাম আমাকে ভালো জায়গায় রেখেছেন সেহেতু আমি আর ওইসব আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে নেই। মূলত, ফারুক ভাই, ইফতেখার ভাই ও আমি নিজে আলাপ আলোচনা করে সংবাদ সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যাডামের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন কিছু করা ঠিক হবে না।

এ ব্যাপারে সদ্য ঘোষিত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, দলের চেয়ারপার্সন ,ম্যাডাম আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। হাবিবুল ইসলাম হাবিব আমার নেতা, তারও চেষ্টা ছিলো। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর সবার সহযোগিতা চেয়েছি। গতকাল রোববার আমি কামরুল ইসলাম ফারুক ভাই এর বাসায় গিয়ে তার সহযোগিতা চেয়েছি। উনি বিষয়টি বুঝেছেন। আমি আশাকরি দলের চেয়ারপার্সনের সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিবেন। আমি সকলের কাছে সহযোগিতা চাই।

প্রসঙ্গত, সাড়ে তিন বছর পর গত ৮ মার্চ বুধবার জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি রহমাতুল্লাহ পলাশকে সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তারিকুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাতক্ষীরা জেলার আংশিক কমিটি ঘোষনা করেন।

৮ মার্চ দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুমোদিত ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হয় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফারুক, বিএনপি নেতা আব্দুর রউফ, হোসনেআরা মমতাজ, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক করা হয়েছে বর্তমান সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি, আবুল হাসান হাদী, মাসুম বিল্লাহ শাহীন ও আবু জাহিদ ডাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন, মো. শের আলী। এছাড়া আরও কয়েকজনকে সদস্য করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। একইসাথে আগামী একমাসের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিটি করারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঘোষিত কমিটির সভাপতি রহমাতুল্লাহ পলাশ। তিনি সদ্য সাবেক কমিটিরও সভাপতি। সাতক্ষীরাতে বাড়ি থাকলেও বাস করেন ঢাকাতে। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তারিকুল হাসানকে। খুলনা থেকে সাতক্ষীরায় এসে তিনি পেয়ে যান স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা আহবায়কের পদ। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রয়েছে জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা আমানউল্লাহ আমান হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা। বেশ কয়েকবার তাকে কারাগারেও থাকতে হয়েছে। তবে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক হিসেবে তিনি সফলতার সাথে রাজপথে ভুমিকা রাখতে শুরু করেন। এমন দুই ব্যক্তিকে সভাপতি ও সম্পাদক করায় দলের নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও ক্রোধ দেখা দিয়েছে।