নতুন তহবিল গঠনের চেষ্টা জঙ্গিদের


320 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নতুন তহবিল গঠনের চেষ্টা জঙ্গিদের
অক্টোবর ১৮, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
নিজেদের মতের বিরোধীদের টার্গেট করে হত্যার পাশাপাশি তহবিল গড়তে লুটপাট, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে জেএমবিসহ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। তহবিল গঠনের জন্য তারা অর্থবিত্তের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জঙ্গি সদস্যও তাদের এমন পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার গোপন মিশন নিয়ে কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি ডাকাতি বা লুটপাটের অর্থ, দামি ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও স্বর্ণালঙ্কারকে তারা ‘গনিমতের মাল’ বিবেচনা করে থাকে।

সর্বশেষ রাজধানীর বাড্ডায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও রহমতিয়া খানকা শরিফের পীর খিজির খানকে হত্যার পর তার বাসায় লুটপাট চালায় জঙ্গিরা। ওই ঘটনায় তরিকুল ইসলাম ওরফে মিঠু ও আলেক বেপারী নামে জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তারা ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খিজির খানকে হত্যা ও তার বাসায় লুটের কথা স্বীকারও করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এবং ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জেএমবি সদস্যরা দুটি কারণে খিজির খানকে হত্যা করেছে। গ্রুপটি মনে করছে, পীর খিজির খান খানকায়ে শরিফে শিরক করছেন। পাশাপাশি তিনি পীর হওয়ায় তার আস্তানায় বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যাবে। গ্রেফতার হওয়া জেএমবির অন্যতম সংগঠক তারিকুল জানিয়েছে, সংগঠনের তহবিল গড়তে খিজির খানের বাসায় লুটপাট করা হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ সমকালকে বলেন, দেশে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা কারাগারে থাকায় কর্মীরা অর্থ সংকটে রয়েছে। এ ছাড়া অনেক জঙ্গি সদস্য মূলধারা থেকে বেরিয়ে উপদল গঠন করে অর্থ সংকটে পড়েছে। ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক নজরদারি শুরু হওয়ায় এসব নিষিদ্ধ সংগঠন দেশের বাইরে থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে পারছে না। এ জন্যই মূলত সংগঠনের তহবিল গড়তে লুটপাট, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের মতো অর্গানাইজড ক্রাইমে জড়িয়ে পড়েছে তারা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন জানান, বিভিন্ন সময়ে তারা বেশ কয়েকটি বড় ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এসব ঘটনায় জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতা পান। চলতি বছরের এপ্রিলে একটি বেসরকারি ব্যাংকে ডাকাতি করতে গিয়ে ছয়জনকে হত্যার ঘটনাটি তদন্তে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে। ওই ঘটনায় জেএমবি ও আনসারুল্লাহর কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর তারা স্বীকার করে, তহবিল গঠনের জন্যই মূলত তারা ব্যাংক ডাকাতি করতে গিয়েছে। আরও কয়েকটি ব্যাংক ডাকাতির সিদ্ধান্ত থাকলেও গোয়েন্দা তৎপরতায় ওই সময় তা রোধ করা সম্ভব হয়।

আশুলিয়ায় ব্যাংক ডাকাতিতে সরাসরি জড়িত জসিম উদ্দিন ওরফে আসাদ গ্রেফতারের পর জানিয়েছিল, ‘দ্বীন কায়েমে’ তহবিল গঠনের জন্য ব্যাংক ডাকাতি, ছিনতাই বা লুট বৈধ। অর্থ লুট করে তা দ্বীনের পথে ব্যয় করা দোষের নয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে ‘গ্রেনেড বিস্ফোরণে’ নিহত হয় ছিনতাইকারী দলের সদস্য রফিক ও রবিউল। পরে পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে, নিহত দু’জন জেএমবি সদস্য। ওই ঘটনায় আরও পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের নিয়ে অভিযান চালানোর সময় গ্রেনেড বিস্ফোরণে একজন মারা যায়।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি বাবুল আক্তার সমকালকে জানান, গ্রেফতার হওয়া চার জেএমবি সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তারা দাবি করেছে, নিজেদের সংগঠনের তহবিল গঠনের জন্য ছিনতাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে।