নতুন নতুন উদ্ভাবনীতে শ্যামনগরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন


504 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নতুন নতুন উদ্ভাবনীতে শ্যামনগরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন
আগস্ট ১, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::
জনকল্যাণমূখী নতুন নতুন উদ্ভাবনীর মাধ্যমে শ্যামনগরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের এক ঝাক তরুন কর্মকর্তার সৃষ্টিশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে সেবা পেতে সহজ
হচ্ছে সাধারণ মানুষের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সৃষ্টিশীল মানুষের পরামর্শ ও নিজের নতুন নতুন উদ্ভাবনীর মাধ্যমে উপজেলাকেএকটি মডেল উপজেলা হিসেবে সাজাতে চেষ্টা করছে নিরন্তর। বিগত মাস খানেক আগেসাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারের সহায়তায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিক নির্দেশনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার
ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টায় শ্যামনগর সদরকে সোলারের আলোয় আলোকিত করেছে। যার প্রেক্ষিতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ঘাটতি কমেছে, জীবাষ্ম জালানীর ব্যবহার কমেছে আবার অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকলেও এর সুফল পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। গত ২০ ই জুলাই বিভাগীয় কমিশনার উপজেলা ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মসূচী দ্বিতীয়
তলার নির্মান কাজ সম্পন্নকরণ, অফিস প্রাঙ্গন সৌন্দর্যকরণ,ফ্রি ওয়াইফাই জোন ,অংশীজনের খাওয়ার পানি, ফরমস সেন্টার স্থাপন, সীমানা প্রাচীর ও গেইট শোভন, সততা বক্স স্থাপন, ছাদ বাগান সৃজন সহ উপজেলা চত্বরে মেধাবীদের বাইসাইকেল প্রদান, প্রান্তীক নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, মৎস্য অফিসের কিট বক্স বিতরণ , বজ্রপাতে নিহতদের পরিবারের মাঝে চেকবিতরণ অর্থাৎ মোট ১২ টি কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন । যেটা উপজেলা প্রশাসনের ইনোভেশন টিমের কর্মদক্ষতায় বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সরকারের ডিজিটাইলেজেশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কোনো প্রকার পিছিয়ে নেই উপজেলা প্রশাসন। বিভাগীয় কমিশনার একই দিনে উপজেলা ইনোভেশন টিমের পরিকল্পনায় নির্মিত দূরদর্শন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। যে প্রকল্পটির মাধ্যমে উপজেলায় সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহিতরা সরকারের বিভিন্ন বাস্তবায়িত কাজ ও বিভিন্ন দপ্তরের সেবা সর্ম্পকে ধারণা পাচ্ছে। যেটি অবশ্যই বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলা গড়ার জন্য সহায়কের ভূমিকা পালন করবে। শ্যামনগরের ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণে পিছিয়ে নেই উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার সদরের সন্নিকটে অবস্থিত নকিপুর জমিদার বাড়ি সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য প্রত্তাতা¡ত্তিক অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। যেটা অল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার বেলা ১২ টায় আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজমে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোঃ ইফতেখার হোসেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের অধীনে শ্যামনগর উপজেলার মালঞ্চ আদিবাসি
শ্রমজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ও মৎস্যজীবি উপজাতি এবং হতদরিদ্র উন্নয়ন সোসাইটি এর সদস্যদের আয়বর্ধক মূলক প্রকল্প ট্রলারের উদ্বোধন করেন।যেটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান। শ্যামনগর সদর কে আবর্জনা মুক্ত রাখতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)আওতাভূক্ত অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (পিআরডিপি-৩) এর ফিল্ড প্রোপজাল টাইপ ট্রেনিংয়ের অধীনে শ্যামনগর বাজারের দোকানে দোকানে ময়লা ফেলার জন্য প্লাষ্টিকের বাস্কেট প্রদান করেছেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার।এছাড়া ক্রীড়া থেকে কোনো প্রকার পিছিয়ে নেই উপজেলা প্রশাসন।বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই অফিসের সকল কাজ সেরে অফিসার্স ক্লাবে মিলিত হন সকল অফিসার বৃন্দ।এরপর শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের খেলা । ভলিবল, ফুটবল, ক্রিকেট খেলায় মেতে ওটেন তারা।এখানেইসীমাবদ্ধ নয় ছুটির দিনে ক্রিকেট, ফুটবল খেলায় মত্ত থাকেন বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। তাদের খেলা দেখে অনেকেই এটিকে শৈশবের খেলা ধুলার সাথে তুলনা করেছেন। বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে বিভিন্ন যুব সংগঠন ফুটবল সহ বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রীর আবদার নিয়ে নির্বাহী অফিসারের কাছে আসা মাত্রই তাদের আবদার পূরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেও যথারীতি মুল্যায়ন করে চলেছেন উপজেলা প্রশাসন। ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্টীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে চলেছেন অহরহ। বিগত কয়েকদিন আগে
দেখা যায়,উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যার জমি আছে ঘর নেই, তার জমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের তালিকা যাচাই বাছাইয়ের জন্য সরজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান।এছাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন সাগর প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চিন্তা চেতনাকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য খাতকে আরো শক্তিশালী করতে তার কার্যক্রম চলমান রেখেছেন।সমাজ সেবা কর্মকর্তা সাহিদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অসংখ্য ব্যক্তিকে বয়স্কভাতা,বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান করেছেন।এছাড়া তার অফিসে অফিসারদের একই ড্রেসে অফিস করা , সেবা গ্রহীতাদের পাশে গিয়ে তাদের সমস্যার কথা শুনে সমাধান করা এটা একটি চলমান প্রথায় রুপান্তরিত করেছেন। তবে কোনো দিক থেকেই পিছিয়ে নেই কৃষি খাত সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।একটি ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন সরকারের মধ্যে, অফিস ডিজিটাইলেশনের মাধ্যমে তিনি সেবা গ্রহিতাদের কাজকে অনেক সহজ করে তুলেছেন।তার অফিসে গিয়ে দেখা গেছে তিনি করেছেন ফরমস সেন্টার, সীমানা ও গেইট শোভন এবং সততা বক্স স্থাপন করে প্রশংসার দাবীদার হয়েছেন।এছাড়া তার অফিসে আগত সেবাগ্রহীতাদের তার পাশের চেয়ারে বসিয়ে তার সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করেন। এভাবে বিভিন্ন কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন এক ঝাক তরুণ অফিসার বৃন্দ। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, আমি আমার অধীনে সকল অফিসারদের সাথে সমন্বয় করে এবং এই উপজেলার অভিভাবক সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারের দিকনির্দেশনায় উপজেলার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলা গড়তে অবশ্যই এ উপজেলায় কর্মরত সকল অফিসারদের নিয়ে কাজ করে যাবো।