নদী বক্ষে বাঁধ এবং সংযোগ খালের মুখ বন্ধ : মাছ ও বোরো চাষ হুমকির মুখে


128 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নদী বক্ষে বাঁধ এবং সংযোগ খালের মুখ বন্ধ : মাছ ও বোরো চাষ হুমকির মুখে
অক্টোবর ৭, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নদী রক্ষায় টিআরএম বাস্তবায়নের জোর দাবী

শালতা নদী খননে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

সাতক্ষীরার তালা ও খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সীমানা দিয়ে প্রবাহিত ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের শালতা নদী। পলী ভরাট হয়ে ২০০০ সালের দিকে নদীটির মৃত্যু হলে নদীর দু’পাড়ে ৩ উপজেলার ২০-২৫টি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। মানুষের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে বর্তমান সরকার শালতা নদী খননে পশ্চিম শালতা নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন খুলনার এস.কে.ই (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

শালতা নদী খননের শুরু থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, নদী খননে ধীর গতি ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজস করে দূর্নীতি এবং অনিয়ম করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এই প্রকল্পের ২০১৯-২০ অর্থ বছরের পাক্ষিক অগ্রগতির প্রতিবেদনে প্রকল্পের কাজ ৯৪ ভাগ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু, মাগুরখালী, তালতলা, মাছিয়াড়া, বৈঠাহারা, ও কাঠবুনিয়া সহ সংশ্লিষ্ট নদী এলাকা ঘুরে বাস্তবতায় তার কোনও মিল দেখা যায়নি। নদী খননে ধীর গতি, দূর্নীতি, অনিয়ম এবং খনন পরবর্তী নদীর দীর্ঘ মেয়াদী নাব্যতা রক্ষার্থে টিআরএম প্রকল্প সংযুক্ত না থাকায় সরকারের গৃহিত প্রকল্পটি ভেস্তে যাবে বলে আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর দপ্তর সূত্র জানাযায়, পশ্চিম শালতা নদী খনন প্রকল্পের আওতায় ১৩ কিলোমিটার খননে ১৪ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে খুলনার এস. কে. ই (জেভি) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র হয়। পশ্চিম শালতা নদী খনন ২১ মার্চ ২০১৯ থেকে কাজ শুরু করে ২৫ জুন ২০২০ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়কারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দু’দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ালেও এখনো পর্যন্ত নদী খনন শেষ হয়নি। এমনকি, প্রকল্পের নক্সা অনুযায়ী নদীর উপরে অংশে ৩২ মিটার (চওড়া), তলদেশ ১৫ মিটার এবং সাড়ে তিন মিটার গভীরতা করার কথা থাকলেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে যেনতেন খনন করছে ঠিকাদার ও সাব-ঠিকাদাররা।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়ার মাগুরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা জানান, নদী খননে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ইচ্ছামত কাজ করে গেছেন। নদী খননের সময়ে নদীর মধ্যে বাঁধ দেওয়ায় তার ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। শালতা বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিষ্ণু পদ মন্ডল জানান, নদী খননের নামে লুটপাট করা হচ্ছে। কোথাও নদীর একপাশে খনন করা হয়েছে। কোথাও এখনো খননই করা হয়নি। তাছাড়া নদীর মাঝখানে গভীরতা খুবই কম।
তালার হাজরাকাঠি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ’র সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, শালতা নদী খননকালে খালের সাথে সংযোগমুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। একারনে জলাবদ্ধ হয়ে গতবছর দু’ উপজেলার প্রায় ৬ হাজার বিঘা জমিতে বোরো চাষাবাদ সম্ভব হয়নি। এছাড়া পানি নিস্কাশন করতে না পারায় ঘের মালিকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
তালার খলিলনগর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান রাজু জানান, ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের খামখেয়ালির কারণে তার ইউনিয়নের ৫/৬টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান জানান, টিআরএম প্রকল্প চালু না করলে নদী খনন করে লাভ হবে না। আজ খনন করলে কাল পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাবে খননকৃত নদী। পলি ব্যবস্থাপনার জন্য খনন প্রকল্পের সাথে টিআরএম চালু করার দাবী জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসকেই (জেভি) এর মালিক শামিম আহম্মেদ বলেন, তিনি কাজে কোনো অনিয়ম করেননি।খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্প প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, তাদের কাজ চলমান আছে। যদি খননে কোনো রকম ত্রুটি হয় তাহলে ঠিক করে দেয়া হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরশাফুল আলম বলেন, প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৯৪ ভাগ শেষ হয়েছে। যেটুকু কাজ বাকি আছে, খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। নদী খননের দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে প্রকল্প এলাকায় টিআরএম ব্যবস্থা চালু প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সম্প্রতি খলিলনগর ইউনিয়নের জলাবদ্ধতায় নিজজ্জিত এলাকা পরিদর্শন কালে বলেন, খুব দ্রুত নলতা বাটুলতলা স্লুইস গেট সংস্কার করে শালতার ক্রসড্যাম বাঁধ অপসারণ করে পানি নিস্কাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

#