নলতার পাইকাড়া প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে


664 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নলতার পাইকাড়া প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম হুমকির মুখে
মে ৯, ২০১৬ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

সোহরাব হোসেন সবুজ, নলতা:
কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের পশ্চিম পাইকাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সভাপতির দ্বন্দ্ব চরমে পৌছে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থের সম্মুখিত হয়েছে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমসহ উন্নয়ন কার্যক্রম। আর তাদের দ্বন্দ্বের নিরসনে কালিগঞ্জ প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত।
সরেজমিনে ঘটনার বিবরণে জানা যায়, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন মিঠু যোগদানের শুরু থেকে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মহব্বত আলী অজ্ঞাত কারণে তাকে কোনভাবে মেনে নিতে পারেন না। শুরু থেকে তাদের মনোমালিন্য লেগে থাকে। সেজন্য সভাপতি শিক্ষকের দোষ ত্রুটিগুলো খুটিয়ে খুটিয়ে দেখতে থাকেন। সভাপতির ক্ষোভ শিক্ষক সকল বিষয়ে সভাপতির সাথে সমন্বয় করে চলেন না। এমনিভাবে মনোমালিন্য চরমে পৌছালে সভাপতি বিভিন্ন নেতাদের কাছে যায় শিক্ষককে স্কুল থেকে বের করার জন্য। কিন্তু কোন কাজ হয়নি বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সভাপতি মহব্বত আলী ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কালিগঞ্জ শিক্ষা অফিস সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগের মধ্যে ঐ শিক্ষক যথাসময়ে স্কুলে আগমন বা প্রস্থান করেন না, প্রায়ই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন, ক্লাসে মোবাইলে কথা বলেন, প্রশংসা পত্র দিয়ে বেশি পরিমাণ টাকা নেন, পড়াশুনার মান নিন্মগতি ইত্যাতি উল্লেখ আছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে গত ২৫ এপ্রিল ৬জন সহকারি শিক্ষা অফিসারের একটি তদন্ত দল স্কুলে এসে বিষয়টি তদন্ত করেন। যার তদন্ত রিপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোন তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়নি আর বিষয়টির সুরহা হয়নি বলে জানা যায়। এবিষয় জানতে চাইলে, তদন্ত কমিটির আহবায়ক সহকারি শিক্ষা অফিসার ফারুক হোসেন জানান, আমরা প্রশিক্ষন নিয়ে ব্যস্ত আছি। আর সভাপতি-শিক্ষকের দ্বন্দ্ব নিয়ে আমরা কি করব। ওরা নিজেরা মিটিয়ে নিলে ভাল। তবে আমাদের রিপোর্টে কি হবে সেটা এখন বলা যাচেছ না।
এদিকে বিষয়টি আরো ক্ষতিয়ে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে গেলে পাওয়া যায় ভিতরের তথ্য। সভাপতির লিখিত অভিযোগের বিষয়গুলোর প্রেক্ষিতে যুক্তি প্রমাণ দেখান ঐ অভিযুক্ত শিক্ষক। তাতে করে লিখিত ঐ অভিযোগের অসত্যতা মেলে। এ নিয়ে আশেপাশের কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, শিক্ষক আমির হোসেন মিন্টুর উল্লেখযোগ্য তেমন দোষত্রুটি আমরা জানি না। আগে সে স্কুলের বাইরে যেয়ে সিগারেট খেত, মোবাইলে মাঝে মধ্যে কথা বলত কিন্তু এখন আর দেখি না। তবে সে ঠিক মত স্কুলে আসে। ছাত্রছাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে না। কিন্তু সভাপতির সাথে তার পটে না। আর সভাপতি স্থানীয় হওয়ায় আমরা মুখ খুলতে পারি না। এবিষয় স্কুলের ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিকট জানতে চাইলে তারা সবাই বলে, আমির হোসেন শিক্ষক আমাদের ভাল লেখাপড়া করায়। সময়মত স্কুলে আসে। ভাল ব্যবহার করে। এবং ক্লাসরুমে মোবাইলে কথা বলার বিষয়টি ছাত্রছাত্রীরা কোন দিন দেখিনি বলে জানায়। সভাপতির অভিযোগ পত্রের ৭ নং বিষয়টি বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান নিন্মগতি, কিন্তু সার্বিক তথ্য নিয়ে দেখা যায় অন্যান্য বারের থেকে ঐ স্কুলে এ বছর প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় সব থেকে ভাল ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যেটিতে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের সুনাম ফিরে এসেছে। স্কুলের অন্যান্য উন্নয়ন হয়েছে। তবুও কেন এই অফিযোগ? কেন এই ছোটাছুটি তাদের। দু’জনের মনোমালিন্যে কেন ধ্বংশ হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি? কেন হুমকির মুখে পড়বে কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যত? এসব প্রশ্ন সচেতন অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর। তারা চায় দু’জনের দ্বন্দ্বের নিরসন হোক আর ঐসব অভিযোগ বাদ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সামনের দিকে এদিয়ে নিতে। আর এজন্য শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের দ্রুত যথোপযুক্ত পদক্ষেপ কামনা করেন অভিভাবকসহ সচেতন মহল।